Maharashtra Model in West Bengal: বাংলাতেও এবার মহারাষ্ট্র মডেল? শিবসেনা-এনসিপি-র মতো আড়াআড়ি ভাঙবে তৃণমূল? অঙ্ক মিলে গেলে দলের প্রতীকও হারাতে পারেন মমতা
বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের জন্য লেখা চিঠিতে তৃণমূলের পক্ষ থেকে তাঁদের সই জাল করা হয়েছে বলে বিধানসভার অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছিলেন তৃণমূলের দুই নবনির্বাচিত বিধায়ক ঋতব্রত এবং সন্দীপন৷ এ দিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজেই সেকথা জানান৷ এরপরেই ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কার করে দেয় তৃণমূল৷ সিদ্ধান্তের কথা বিধানসভার অধ্যক্ষকেও জানিয়ে দিয়েছে তৃণমূল৷
যার ফলে এখন থেকে বিধানসভায় আনঅ্যাটাচড বিধায়ক হিসেবেই ধরা হবে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে৷ বিধায়ক থাকলেও এখন থেকে আর বিধানসভায় তৃণমূল বিধায়ক হিসেবে গণ্য করা হবে না তাঁদের৷ গতকাল কালীঘাটে তৃণমূলের ডাকা বৈঠকে ৬০ জন বিধায়ক অনুপস্থিত ছিলেন৷ ফলে বৈঠক ডেকেও বাতিল করতে হয় তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ ফলে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি দলেরই বিধায়কদের কতটা আনুগত্য রয়েছে, তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে৷
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অনেক বিধায়কই ঋতব্রত এবং সন্দীপন সাহার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে শুরু করেছেন৷ বিদ্রোহী এই দুই বিধায়ককে কেন্দ্র করেই তৃণমূলে বড়সড় ফাটল ধরে কি না, সেই প্রশ্নও ঘুরছে রাজনৈতিক মহলে৷ আর এই সূত্রেই উঠে আসছে মহারাষ্ট্র মডেলের কথা৷
দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করায় এখন খাতায় কলমে তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৭৮৷ ফলে ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে ঘিরে যদি তৃণমূলে বিদ্রোহী বিধায়কের সংখ্যা বাড়তে থাকে, তাহলে দলের প্রতীকও হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সামনে৷
আইন বলছে, ঋতব্রত এবং সন্দীপন যদি দুই তৃতীয়াংশের বেশি তৃণমূল বিধায়কের (৫৩ জন বিধায়কের) সমর্থন নিজেদের দিকে টানতে পারেন, সেক্ষেত্রে তাঁরা দলত্যাগ বিরোধী আইনের কোপে পড়বেন না৷ বরং তাঁরা তখন তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীকেরও দাবি জানাতে পারবেন৷ ঠিক যেমনটা হয়েছিল মহারাষ্ট্রে শিবসেনা এবং এনসিপি-র ক্ষেত্রে৷ সেই সম্ভাবনার কথা একেবারে নাকচও করেননি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়৷ উলুবেড়িয়ার পূর্বের বিধায়ক বরং ইঙ্গিতপূর্ণ ভাবে বলেন, কালকে কী হবে বলতে পারব না৷ বেঁচে থাকতে পারব কি না গ্যারান্টি আছে৷ তবে একটা ভরসা আছে, জনগণ বাঁচাবে৷
২০১৯ সালে বিধানসভা ভোটে শিবসেনা এবং বিজেপি জোট মহারাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়৷ বিজেপি পায় ১০৫টি আসন, শিবসেনা জয়ী হয় ৫৬টি আসন৷ আর এর থেকেই বিজেপি-র সঙ্গে শিবসেনার সংঘাতের সূত্রপাত৷ কারণ কম আসন পেয়েও শিবসেনা চেয়েছিল তাদের পরিবার থেকে কেউ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হোক৷ কিন্তু বিজেপি রাজি হয়নি৷ শেষ পর্যন্ত শিবসেনা সমর্থন প্রত্যাহার করে৷
সরকার গড়তে প্রথমে শরদ পাওয়ারের এনসিপি-তে ভাঙন ধরায় বিজেপি৷ শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কদের নিয়ে সমর্থন করেন বিজেপি-কে৷ মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি-র দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ, উপমুখ্যমন্ত্রী হন অজিত পাওয়ার৷
এর পাল্টা চাল হিসেবে শরদ পাওয়ার কংগ্রেস এবং শিবসেনার সঙ্গে কথা বলে মহাবিকাশ অঘোরি জোট তৈরি করেন৷ সরকার টিকবে না বুঝে গিয়ে দেবেন্দ্র ফড়ণবীশ ইস্তফা দেন৷ এর পর এনসিপি-কংগ্রেস-শিবসেনা জোটের নতুন সরকার তৈরি হয় মহারাষ্ট্রে৷ নতুন মুখ্যমন্ত্রী হন উদ্ধব ঠাকরে৷
২০২২ সালে ফের রাজনৈতিক ডামাডোল তৈরি হয় মহারাষ্ট্রে৷ এনসিপি-র পর এবার ভাঙন ধরে শিবসেনায়৷ একনাথ শিন্ডে ৪০ জন বিধায়ক নিয়ে গুয়াহাটির হোটেলে চলে যান৷ বিজেপি-কে সমর্থন করেন তিনি৷ শিন্ডে পন্থী শিবসেনা বিধায়কদের সমর্থনে মহারাষ্ট্রে সরকার গড়ে বিজেপি৷ নির্বাচন কমিশনের কাছে শিবসেনার প্রতীক দাবি করলেন৷ নির্বাচন কমিশন সেই আর্জি অনুমোদনও করে৷ কারণ শিবসেনার দুই তৃতীয়াংশের বেশি বিধায়কের সমর্থন ছিল শিন্ডের পক্ষে৷ শেষ পর্যন্ত শিবসেনা চিরাচরিত তির ধনুক প্রতীক পেয়ে যান একনাথ শিন্ডে৷ একই ভাবে দলের প্রতীক হারিয়েছিলেন শরদ পাওয়ারও৷ মশাল প্রতীক পান উদ্ধব ঠাকরে৷ এবার বাংলাতেও এই মহারাষ্ট্র মডেলের পুনরাবৃত্তি ঘটে কি না, সেটাই এখন দেখার৷



Post Comment