Kharagpur IIT: খনি শিল্পে এবার বিরাট পদক্ষেপ খড়গপুর আইআইটির! ১৫ কোটির অনুদানের এমন সাফল্যে খনন কার্যে আনবে বড় পরিবর্তন
Last Updated:
Kharagpur IIT: বিক্রম সোধির ১৫ কোটি টাকার অনুদানে তৈরি কেন্দ্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে খনন প্রক্রিয়াকে আরও সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করে তুলবে।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: দেশের খনি শিল্পের ভোল পাল্টে দিতে এবং প্রযুক্তির ব্যবহারে বিপ্লব আনতে এক বড় পদক্ষেপ করল খড়গপুর আইআইটি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-কে কাজে লাগিয়ে খনন প্রক্রিয়াকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব করতে প্রতিষ্ঠানের চত্বরে যাত্রা শুরু করল ‘বিক্রম সোধি সেন্টার অফ এক্সেলেন্স ফর এআই-এনাবেল্ড জিওলজিক্যাল অ্যান্ড মাইনিং সিস্টেমস’। মূলত ভূ-তাত্ত্বিক বিদ্যা এবং খনি প্রযুক্তির সঙ্গে অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির মেলবন্ধন ঘটানই এই নতুন কেন্দ্রের লক্ষ্য।
এই বিশেষ উৎকর্ষ কেন্দ্রটি স্থাপনের জন্য ১৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন বিক্রম সোধি। আইআইটি-র দীর্ঘদিনের পথচলায় সোধি পরিবারের এক বিশেষ অবদান রয়েছে। এই কেন্দ্রটি বিক্রম সোধির পিতা তথা প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তনী কর্নেল মনজিৎ সোধির স্মৃতি ও উত্তরাধিকারকে বহন করছে। আইআইটি খড়গপুরের ভূতত্ত্ব, খনি প্রযুক্তি এবং ধাতুবিদ্যা বিভাগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এআই এবং ডেটা সায়েন্সের সমন্বয় ঘটিয়ে এখানে এমন সব প্রযুক্তি তৈরি করা হবে, যা সরাসরি ভারতের খনি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা সম্ভব।
প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এই কেন্দ্রটি কেবল গবেষণাগারের চার দেওয়ালে সীমাবদ্ধ থাকবে না। খনি থেকে পাওয়া বাস্তব তথ্য বিশ্লেষণ করে খননকার্যের পরিকল্পনা তৈরি, যন্ত্রপাতির আগাম রক্ষণাবেক্ষণ এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার মতো কাজগুলি করবে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন ব্যবস্থা। এর ফলে খনিজ সম্পদ উত্তোলনের খরচ যেমন কমবে, তেমনই পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে কাজ করা সহজ হবে। এছাড়াও ‘ইন্ডাস্ট্রি-লিঙ্কড গ্র্যান্ড চ্যালেঞ্জস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব সমস্যাগুলির সরাসরি সমাধান খুঁজবেন গবেষকরা।
প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, খড়গপুর আইআইটি প্ল্যাটিনাম জুবিলি বা ৭৫তম বর্ষে পা দিতে চলেছে। এই বিশেষ সময়ে দাঁড়িয়ে এমন একটি আন্তঃবিভাগীয় গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিরই প্রতিফলন। বিভিন্ন বিভাগের বিশেষজ্ঞতা যখন এক জায়গায় মিশবে, তখন তা দেশের খনি শিল্পের জটিল চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে এবং জাতীয় স্বার্থে বড় ভূমিকা নেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের খনি শিল্পকে বিশ্বমানের করে তুলতে এই ধরনের প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন অত্যন্ত জরুরি ছিল। আধুনিক প্রযুক্তির হাত ধরে খনি ক্ষেত্রকে আরও স্বচ্ছ এবং দক্ষ করে তোলার যে লক্ষ্য ভারত নিয়েছে, খড়গপুর আইআইটির এই নতুন পদক্ষেপ তাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিল। চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশীয় প্রযুক্তির এই জয়গান শিক্ষা ও শিল্প মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
Paschim Medinipur,West Bengal
Apr 21, 2026 10:07 AM IST




Post Comment