Kali Puja 2026: সন্ধে নামলেই রহস্যময় নিস্তব্ধতা! রঘুনাথগঞ্জের পঞ্চমুণ্ডি আসনে কীভাবে ঘটেছিল সিদ্ধিলাভ? জানুন সিদ্ধেশ্বরী কালীর গা ছমছমে ইতিহাস
Last Updated:
Kali Puja 2026: সন্ধে নামলেই নিস্তব্ধ গা ছমছমে পরিবেশ! রানি ভবানীর স্বপ্নাদেশ ও পঞ্চমুণ্ডি আসনের ৩০০ বছরের প্রাচীন মুর্শিদাবাদের সিদ্ধেশ্বরী কালীর ইতিহাস জানুন।
জঙ্গিপুর, কৌশিক অধিকারী: মুর্শিদাবাদের প্রাচীন ৩০০ বছরের সিদ্ধিকালী গ্রামের সিদ্ধেশ্বরী কালী। প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে রাণী ভবানীকে মা স্বপ্নাদেশ দেন। স্বপ্নাদেশে রঘুনাথগঞ্জ ১ নম্বর ব্লকের জামুয়ার গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধিকালী গ্রামে পুকুরের পাড় থেকে মায়ের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার হয় এবং সেখান থেকে মাকে তুলে নিয়ে এসে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করেই শুরু হয় জাকজমকের সঙ্গেই পুজোর আরাধনা করা হয়।
এই মন্দিরের পাশেই একটি পঞ্চমুণ্ডি আসনে সিদ্ধিলাভ করেছিলেন রাণী ভবানীর কোনও এক আত্মীয়। তারপর থেকেই এই গ্রামের নাম হয় সিদ্ধিকালী এবং মা সিদ্ধেশ্বরী মা কালী নামেই পুজিত হন এই গ্রামে। এই সময় রাণী ভবানী মা কালীর পুজো চালানোর জন্য প্রায় ৫২ বিঘা সম্পত্তি দেবত্ব সম্পত্তি হিসেবে রাখেন। পাশাপাশি পুরোহিত থেকে শুরু করে একটি পুজো চালাতেন। যে সকল মানুষজনের প্রয়োজন হয় তাদের জন্যও বরাদ্দ করা হয় জমি। এই মন্দিরে মায়ের প্রত্যেকদিন অন্নভোগও দেওয়া হয়।
বিগত দিনে টিনের ভেলাতে অথবা নৌকোয় করে মায়ের মন্দিরে পৌঁছে পুজোর জোগাড় করতে হত। কিন্তু এই মুহূর্তে জল বেষ্টনীর ওপরে একটি সরকারি উদ্যোগে ছোট্ট ব্রিজের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই পথ দিয়েই মায়ের মন্দিরে যাতায়াত করা হয়। গ্রাম্য কথায় এখনও বিশেষ বিশেষ অমাবস্যা তিথিতে বহিরাগত সাধকরা আরাধনা করার উদ্দেশ্যে উপস্থিত হন। কিন্তু দিনের আলো ফুটতেই তাদের আর দেখতে পাওয়া যায় না। দিনের বেলা এই মন্দিরে পৌঁছলেও একটি গা ছমছমে ব্যাপার লক্ষ্য করা যায় ঘন জঙ্গল এবং নিস্তব্ধতার কারণে।
বিশেষ বিশেষ কয়েকটি তিথিতে জাঁক জমক পূর্ণভাবেই মায়ের আরাধনা করা হয়। তবে কালীপুজো উপলক্ষে রাত্রি বেলাতে মায়ের আরাধনা করা হয়। এই মন্দিরে এবং পরবর্তী দিন সমস্ত গ্রামবাসীর অন্নের ভোগের ব্যবস্থাও করা হয় মন্দির প্রাঙ্গনে। এই পুজোকে ঘিরে গ্রামবাসীদের উন্মাদনা তো থাকে চোখে পড়ার মতো। কিন্তু মায়ের মাহাত্ম্য দিকে দিকে এতটাই প্রচলিত হয়ে উঠেছে ফলে ঝাড়খণ্ড, বীরভূম-সহ একাধিক জেলা থেকে পূর্ণার্থীরা মা সিদ্ধেশ্বরী কালীকে দর্শন করার জন্য এই মন্দির প্রাঙ্গনে উপস্থিত হয়।
Post Comment