East Medinipur News: রোদ-ধুলো মাখা ৭২ দিনের সফর! মহাদেবের টানে ২১০ কিমি দণ্ডী কেটে চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরে বাসুদেব, কেন এমন পদক্ষেপ

East Medinipur News: রোদ-ধুলো মাখা ৭২ দিনের সফর! মহাদেবের টানে ২১০ কিমি দণ্ডী কেটে চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরে বাসুদেব, কেন এমন পদক্ষেপ

Last Updated:

East Medinipur News: ক্ষ্যাপা খুঁজে ফিরে পরশপাথর, আর বাসুদেব খুঁজে পেলেন তাঁর বিশ্বাসের শক্তি। চিকিৎসকরা হাত কেটে ফেলার পরামর্শ দিলেও শিবের চরণে মানত করে সুস্থ হয়ে ওঠেন তিনি। সেই কৃতজ্ঞতা জানাতেই ৭২ দিন ধরে ২১০ কিমি পথ দণ্ডী কেটে ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দিরে পৌঁছলেন বকখালির এই যুবক।

+

দণ্ডী কেটে ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দিরে যুবক

দিঘা, মদন মাইতি: ক্ষ্যাপা খুঁজে ফিরে পরশপাথর। তা বলে একেবারে দণ্ডী কেটে ২১০ কিলোমিটার! শুনলে অনেকেই বলবেন, “এ কি সম্ভব?” কিন্তু বাবা মহাদেবের ভক্তদের কাছে অসম্ভব বলে কিছু নেই। তাঁদের ভক্তি অনেক সময় সাধারণ ভাবনার বাইরে চলে যায়। এমনই উদাহরণ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির বাসিন্দা বাসুদেব জানা। বকখালি থেকে ওড়িশার চন্দনেশ্বর মন্দির পর্যন্ত প্রায় ২১০ কিলোমিটার পথ দণ্ডি কেটে তিনি চন্দনেশ্বর পৌঁছলেন। এই দীর্ঘ পথ হেঁটে নয়, শরীর মাটিতে শুইয়ে, বারবার উঠে, আবার শুয়ে এগিয়েছেন। এমন কঠিন সাধনা সাধারণ মানুষের পক্ষে কল্পনাতীত। কিন্তু বাসুদেবের কথায়, ভক্তির শক্তি তাঁকে এই পথে এগিয়ে নিয়ে গেছে।

এই যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। পথে অসংখ্য বাধা। দিনের বেলায় কিছুটা এগোনো গেলেও রাতে দণ্ডী কাটা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠত। তাই বাসুদেব কেবল দিনের আলোতেই এগোতেন। রোদ, ধুলো, ক্লান্তি—সবকিছুকে সঙ্গী করেই চলেছে তাঁর ব্রত। পায়ে হেঁটে নয়, সম্পূর্ণ দণ্ডী কেটেই এই যাত্রা সম্পন্ন করার সংকল্প নিয়েছিলেন তিনি। তবে তার এই কঠোর ব্রতের পিছনে রয়েছে এক গভীর মানত। বাসুদেবের কথায়, কয়েক মাস আগে একটি বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন বাসুদেব। তাঁর বাম হাতে মারাত্মক চোট লাগে। চিকিৎসকরা তখন হাত কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। সেই সময় তাঁর পরিবার ভেঙে পড়েছিল।

ঠিক বাসুদেবের বাবা চন্দনেশ্বর মন্দিরে মানত করেন। তিনি প্রতিজ্ঞা করেন, ছেলের হাত যদি ভাল হয়ে যায়, তবে সে দণ্ডী কেটেই মন্দিরে যাবে। এরপর নতুন করে চিকিৎসা শুরু হয়। ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকে বাসুদেবের হাত। চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক শক্তিও ফিরে পান তিনি। অবশেষে সুস্থ হওয়ার পর সেই মানত পূরণের সিদ্ধান্ত নেন বাসুদেব। একটি ছোট ব্যাগ আর শিবঠাকুরের ছবি আঁকা একটি ধ্বজা নিয়েই যাত্রা শুরু করেন। প্রথমে আত্মীয়-পরিজনরা তাঁকে বিদায় জানাতে পাশে ছিলেন। কিন্তু পথের বেশিরভাগটাই তাঁকে একাই পাড়ি দিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: সিউড়িতে জ্বালানি তেলের হাহাকার! পাম্পে উপচে পড়া ভিড়, আকাল নাকি স্রেফ আতঙ্ক?

প্রায় ৭২ দিন ধরে চলেছে এই কঠিন যাত্রা। একা পথে বেরিয়ে অনেক অজানা মানুষের সহানুভূতি পেয়েছেন বাসুদেব। কেউ খাবার দিয়ে সাহায্য করেছেন। কেউ আশ্রয় দিয়েছেন রাত কাটানোর জন্য। আবার কেউ কেবল উৎসাহ দিয়ে এগিয়ে দিয়েছেন সামনে। এই দীর্ঘ পথ শুধু একটি স্থান থেকে আরেকটি স্থানে পৌঁছানোর গল্প নয়। এটি এক অদম্য মানসিক শক্তির গল্প। বিশ্বাস আর প্রতিজ্ঞায় এক বিরল দৃষ্টান্ত গড়েছেন বাসুদেব জানা। তাঁর এই দণ্ডি যাত্রা প্রমাণ করে, ইচ্ছাশক্তি আর আস্থাই মানুষের অসম্ভবকেও সম্ভব করতে সাহায্য করে।

বাংলা খবর/ খবর/পশ্চিমবঙ্গ/

East Medinipur News: রোদ-ধুলো মাখা ৭২ দিনের সফর! মহাদেবের টানে ২১০ কিমি দণ্ডী কেটে চন্দনেশ্বর শিব মন্দিরে বাসুদেব, কেন এমন পদক্ষেপ

Post Comment

You May Have Missed