Alternative Farming: অভিশাপ থেকে আশীর্বাদ! কেন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আবার নীল চাষ? পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল দিচ্ছে চমকপ্রদ উত্তর

Alternative Farming: অভিশাপ থেকে আশীর্বাদ! কেন ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে আবার নীল চাষ? পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল দিচ্ছে চমকপ্রদ উত্তর

Last Updated:

Purulia Alternative Farming: নীলকুঠির চাবুকের ভয় নয়, এবার পুরুলিয়ার মানুষ নিজেদের ভাগ্য ফেরাতে বেছে নিলেন ঐতিহাসিক নীল চাষকে। বিশ্ববাজারে কেমিক্যালমুক্ত পোশাকের ক্রমবর্ধমান চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে একসময়ের অভিশপ্ত ফসল জঙ্গলমহলের প্রান্তিক অর্থনীতি বদলে দিচ্ছে এবং কেন এই উদ্যোগ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, জানুন।

+

নীল গাছ

পুরুলিয়া, নীলাঞ্জন বন্দোপাধ্যায়: ২০২৬ সালে নীল চাষ! ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এবং ঐতিহাসিক একটি ফসল। যা তোলপাড় করেছিল তৎকালীন ভারতবর্ষ এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ। ২০২৬ সালে সেই একই ফসলের চাষ করে সেই ঐতিহাসিক ইন্ডিগো রং ব্যবহার করে চলছে বস্ত্র তৈরি। পুরুলিয়া জেলার মানবাজার ১ ব্লকের টুক্যা এবং তার সংলগ্ন কয়েকটি গ্রামে ছোট ছোট স্তরে জমিতে চাষ করা হচ্ছে। মহাত্মা গান্ধি সেবা সংস্থান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং রুবি রক্ষিতের তত্ত্বাবধানে চলছে এই কাজ। যেখানে প্রায় ৩৫ জন মহিলা এবং ৪০ জন পুরুষ স্বনির্ভরতার এই অভিযানে পা রেখেছেন, মাধ্যম নীল সোনা অর্থাৎ নীল।

গ্রামবাসীরা কেউ করছেন এক বিঘা, আবার কেউ করছেন দুই বিঘা জমিতে চাষ। ছোট করে, পরীক্ষামূলক ভাবে এবং সেই নীল ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে রং। সেই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন রুবি রক্ষিত। নীল এবং সুতির কাপড়ের মেল বন্ধনে তৈরি হচ্ছে দেশীয় বস্ত্র, যা সম্পূর্ণ জৈব পদ্ধতিতে তৈরি। নীল থেকে রং তৈরি করে সেটিকে বস্ত্র ফুটিয়ে তোলা একটি অত্যন্ত কঠিন কাজ। এক একটি সুতোকে আলাদা আলাদা করে রঙে ডুবিয়ে ১০ থেকে ১১ বার সেই পদ্ধতিকে অনুসরণ করলে পাওয়া যায় সবুজ রং। তারপর সেই সবুজ রং অক্সিজেনের সংস্পর্শে এলে ধীরে ধীরে তৈরি হয় নীলচে রং।

আরও পড়ুন: ‘মানুষ তো দূর, ছাগলেরও…!’ রায়নার স্বাস্থ্যকেন্দ্র দেখে ‘থ’, রেগে লাল নয়া বিধায়ক সুভাষ পাত্র

এই উদ্যোগের সঙ্গে যুক্তদের দাবি, একসময় ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে নেওয়া নীলচাষ আজ নতুনভাবে জীবিকার পথ দেখাতে শুরু করেছে জঙ্গলমহলের প্রান্তিক মানুষদের। রাসায়নিক রঙের পরিবর্তে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি এই ইন্ডিগো রং ব্যবহার করে বস্ত্র তৈরির কাজ ইতিমধ্যেই কৌতূহল তৈরি করেছে বিভিন্ন মহলে। ধীরে ধীরে এই পণ্যের বাজারও তৈরির চেষ্টা চলছে। উদ্যোক্তাদের আশা, আগামী দিনে এই জৈব বস্ত্র বৃহত্তর বাজারে পৌঁছতে পারলে আরও বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

Post Comment

You May Have Missed