‘যে-ই হোন না কেন আপনি, ছাড়া তো আপনাকে হবে না’, স্পষ্ট বার্তা অগ্নিমিত্রার; নিশানায় কে ?

‘যে-ই হোন না কেন আপনি, ছাড়া তো আপনাকে হবে না’, স্পষ্ট বার্তা অগ্নিমিত্রার; নিশানায় কে ?

কলকাতা : মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই SIT-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছেন প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন OSD কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সকালেই তাঁর নাম করে ফিরহাদ হাকিমকে হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন ‘KMC-তে কী হয়েছে তা আমরা জানি না? আপনার কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে।’ এরপর রাতেই গ্রেফতার করা হয় কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ টেনে এবার ফিরহাদ হাকিমের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল।

তিনি বলেন, “উনি নাকি শেষ কথা ছিলেন। উনি OSD ছিলেন। কিন্তু, ওঁর কথাটাই শেষ কথা ছিল। আমি শুনলাম তিনি নাকি একজন WBCS অফিসার। তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ওঁর OSD হয়েছিলেন। তাঁকে যদি ধরা হয়, তাহলে আজ যে মন্ত্রী…যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ছিলেন, যার সই ছিল, তাঁকে কেন ধরা হবে না ? তাঁকে কেন ছাড়া দেওয়া হবে ? যারা যারা জড়িত রয়েছেন, সে যে-ই হোন না কেন আপনি, ছাড়া তো আপনাকে হবে না।”

তারাতলার গোডাউন-বিপর্যয়ে ১৫জনের মৃত্যু ও ১৮ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার ভয়াবহতায় শোকস্তব্ধ সকলে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, দুর্নীতি-সিন্ডিকেটের সৌজন্যে যাঁরা যাঁরা কোটি কোটি টাকা কামাতে গিয়ে, মানুষকে ঠেলে দিয়েছেন মৃত্যুকূপে, তাঁদের কুকর্মের বাতি নেভার সময়ও কি আসতে চলেছে ? এই আবহেই কলকাতা পুরসভার সদ্য প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর এই সময়ই তাঁর মুখে উঠে আসে একটা নাম ‘কালী’। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “KMC-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? আপনার কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে। কলকাতা কর্পোরেশনে কালী না বললে কোনও প্ল্যান হয় না। আর কালী অ্যাপয়েন্টেড বাই ক্যামাক স্ট্রিট। সবাই জানে। আর এই কালীই বাইপাসের পাশে তৃণমূল ভবন বানাচ্ছে ২০০ কোটি টাকা দিয়ে। আর এখান থেকে টাকাটা তুলে ওখানে পাঠায়। সব বের করেছি আমরা। FIR হয়েছে আরও ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

কিন্তু কে এই কালী ? আসল নাম কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরহাদ হাকিম মেয়র থাকাকালীন, তাঁর OSD বা অফিসার অন স্পেশ্যাল ডিউটি ছিলেন। বৃহস্পতিবারও পুরসভায় এসেছিলেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ক্যামেরার সামনে আসতে চাননি।

সূত্রের খবর, ২০০৩ সালে রেভিনিউ সার্ভিস-এ যোগ দেন দেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০০৬ সালে WBCS এক্সিকিউটিভ পরীক্ষায় দ্বিতীয় হন।
পুলিশের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম। ২০০৮ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। পরে ২০০৯ সালে মিউনিসিপাল সার্ভিস কমিশনের ডেপুটি ম্যানেজারের পরীক্ষা প্রথম হন। যোগ দেন কলকাতা পুরসভার ৯ নম্বর বরোতে। সেই সময় ওই বরোর চেয়ারম্যান ছিলেন ফিরহাদ হাকিম। 

পুরসভা সূত্রে খবর, ফিরহাদ হাকিম মেয়র হওয়ার পর OSD হিসেবে তাঁর সব কাজ সামলাতেন কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর হাতে ছিল প্রচুর ক্ষমতা। মেয়রের কাছে পৌঁছতে গেলে ‘কালীবাবু’ হয়ে যেতে হত সবাইকে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “KMC-তে কী হয়েছে আমরা জানি না? আপনার কালীকে তুললে সব বেরিয়ে যাবে।”  এরপর রাতেই কালীচরণ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে গ্রেফতার করে পুলিশ।

Previous post

Kunal Ghosh on Suvendu Adhikari: ‘বিগ ফিশ বেঁচে গেলে…,’ তারাতলা কাণ্ডে বড় দাবি! শুভেন্দু অধিকারীকে ‘ধন্যবাদ’ জানিয়ে বললেন কুণাল ঘোষ

Next post

বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে বিশেষ মর্যাদা কেন্দ্রের, নজরে দু’দেশের সসম্পর্ক পুনঃস্থাপন

Post Comment

You May Have Missed