‘মন্ত্রী বলেই বাংলার কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়েছি’, পেস-গুরু ডিন্ডা শোনালেন পরিকল্পনার কথা

‘মন্ত্রী বলেই বাংলার কোচ হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়েছি’, পেস-গুরু ডিন্ডা শোনালেন পরিকল্পনার কথা

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: তিনি দুবারের বিধায়ক। ময়না থেকে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে জিতেছেন বড় ব্যবধানে। বিজেপির মন্ত্রিসভাতেও জায়গা করে নিয়েছেন। রাজ্যের কৃষি বিপণন মন্ত্রী হয়েছেন।

তবে ক্রিকেট মাঠ থেকে দূরে থাকছেন না অশোক ডিন্ডা। ক্রিকেট মাঠে বড় দায়িত্ব পেলেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিএবি তাঁকে ভিশন ২০২৮ প্রকল্পে ফাস্ট বোলিং কোচ করেছে। সঙ্গে স্পিন বোলিং কোচ হিসাবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উৎপল চট্টোপাধ্যায়কে। বাংলার জোরে বোলারদের দায়িত্ব পেয়েই নিজের পরিকল্পনা সাজাতে বসে গিয়েছেন ডিন্ডা। এবিপি লাইভ বাংলার সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার ফাঁকে জানালেন সেই নীল নকশার কথা।

‘বাংলার সিনিয়র দলের প্রস্তাব ফিরিয়েছি’

একদিকে রাজনৈতিক জীবনের ব্যস্ততা। তার ওপর এবার মন্ত্রী হয়েছেন। সময় বার করবেন কীভাবে? অশোক ডিন্ডা বললেন, ‘সেই জন্যই বাংলার সিনিয়র দলের বোলিং কোচ হওয়ার প্রস্তাব থাকলেও সেটা ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। ময়নার বিধায়ক হিসাবে সপ্তাহে তিনদিন সেখানে সময় দিই। মন্ত্রী হয়েছি বলে দায়িত্ব এবার বেড়েছে। তবে ক্রিকেট থেকে দূরে থাকিনি, থাকবও না। নিজে যেটুকু শিখেছি, পারফর্ম করেছি, বাংলার উঠতি ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেগুলো ভাগ করে নিতে চাই।’

জুলাইয়েই শুরু শিবির

আগেও বাংলার ভিশন প্রকল্পে পেসারদের কোচ ছিলেন ডিন্ডা। ফের সেই দায়িত্ব পেলেন। দ্রুত কাজ শুরু করে দিতে চান ডিন্ডা। বললেন, ‘সিএবি-র সঙ্গে, প্রেসিডেন্ট সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা করব। ইচ্ছে রয়েছে ৫ জুলাই থেকে শিবির শুরু করার। সেই শিবিরে কোনও বোলিং করাব না। স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিংয়ের ওপর জোর দেব। বোলারদের বোলিংয়ের ভিডিও বিশ্লেষণ করব। চুলচেরা কাটাছেঁড়া চলবে। আগে বোঝার চেষ্টা করব, কার কোথায় দুর্বলতা। সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা তৈরি করব।’

পেসারদের জন্য যোগাভ্যাস

‘নিজে ক্রিকেট খেলার সময় দেখেছি, জোরে বোলারদের জন্য মনঃসংযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ। লাল বলের ক্রিকেটে সারাদিন একই জায়গায় বল করে যেতে হবে। তবেই মিলবে সাফল্য। আর তার জন্য ফোকাস ধরে রাখতে হবে। ইচ্ছে রয়েছে, সদগুরুর আশ্রমের সঙ্গে যোগাযোগ করে যোগাসন, মেডিটেশনের ক্লাসের ব্যবস্থা করব। সেটা অনলাইনে হতে পারে। কেউ এসেও করাতে পারেন। পেসারদের মানসিক দৃঢ়তার দিকে জোর দেব। আর তাতে ওয়েট ও স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের পাশাপাশি যোগাভ্যাস দারুণ কাজে আসবে,’ বললেন ডিন্ডা।

ধারাবাহিকতাই মন্ত্র

তিনি নিজে বাংলার সর্বকালের সেরা পেসার। শুধু প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটেই ৪২০ উইকেট। টানা ৯ মরশুম সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়েছিলেন। ডিন্ডা বলছেন, ‘দীর্ঘদিন টানা কীভাবে ভাল বোলিং করা যায়, শিখতে হবে উঠতি বোলারদের। একটা ম্য়াচ জেতানো পারফরম্যান্স নয়, দরকার ধারাবাহিকতা। সেটার জন্য দরকার পরিশ্রম, সাধনা, শৃঙ্খলা। ছেলেদের তা আয়ত্ত করতে হবে। টানা এক জায়গায় বল করার দক্ষতা যোগ করতে হলে নিষ্ঠা প্রয়োজন। সেটায় জোর দেব।’

ভারতীয় দলে আরও মুখ!

একটা সময় তিনি ও মহম্মদ শামি কাছাকাছি সময়ে উঠে এসেছেন, জাতীয় দলে খেলেছেন। পরবর্তী সময়ে মুকেশ কুমার, আকাশ দীপদের মতো পেসার বাংলা থেকে জাতীয় দলে খেলেছেন। কিন্তু তারপর? ডিন্ডা বলছেন, ‘বাংলা থেকে আরও পেসার ভারতীয় দলে জায়গা করে নেবে, সেটাই লক্ষ্য। ভিশন ২০২৮ প্রকল্পে সেটাই আমার মূল মন্ত্র। বোলিংয়ের খুঁটিনাটি জিনিস নিয়ে জুনিয়রদের সঙ্গে আলোচনা চলবে। আমাদের এখানে অনেকের বল রিলিজ, পা ও মাথার অবস্থান, এসব টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলোয় অনেকের খামতি রয়েছে। অনেকে আছে যাদের স্যুইং করাতে সমস্যা হয়। আবার কারও হয়তো বায়োমেকানিকসে সমস্যা। সেগুলো হাতে ধরে ঠিক করা, শেখানোই দায়িত্ব।’

সম্মিলিত নকশা

ডিন্ডার কথায়, ‘আমার কোনও সহকারী থাকবে কি না, সেটা জানি না। প্রত্যেক বয়সভিত্তিক দলের বোলিং কোচেদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের কাছে রিপোর্ট নেব। প্রাক মরশুম প্রস্তুতিতেই বেশি জোর দেওয়া হবে। সঙ্গে ট্রেনার ও ভিডিও অ্য়ানালিস্টরা থাকবে। আধুনিক সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে।

কড়া হেডস্যার

কয়েকটা ব্যাপারে আপোস করতে চান না ডিন্ডা। যেমন প্রস্তুতিতে খামতি বা ফাঁকি। বলছিলেন, ‘শিবিরে সকলকে যোগ দিতেই হবে। পর্যাপ্ত কারণ না থাকলে শিবির এড়িয়ে চলা চলবে না। তবে পর্যাপ্ত বিশ্রামও নিতে হবে। এই তো বেঙ্গল টি-২০ শেষ হল। প্রত্যেকের অন্তত ১৫ দিন সম্পূর্ণ বিশ্রাম জরুরি। তাতে রিকভারি ভাল হবে। তবে মরশুম শুরু হয়ে গেলে টানা খেলে যেতে হবে। তাই প্রাক মরশুমে ট্রেনিংটা সঠিক হওয়া জরুরি।’

আরও পড়ুন: ৯৮১ দিন পর মাঠে নেইমার, ভিনিসিয়াসের জোড়া গোল, স্কটল্যান্ডকে গুঁড়িয়ে দিল ব্রাজ়িল

Previous post

পাসপোর্ট থাকলেই ভারতীয় নাগরিক নয়! নাগরিকত্ব প্রমাণে তাহলে কী প্রয়োজন?

Next post

Inspiring Story: পিতৃহীন হওয়ার শোক ভুলে সমাজসেবা! ক্যানসার জয়ীদের ১ ফুট চুল দান করে অনুপ্রেরণা জোগালেন মেদিনীপুরের রাখি

Post Comment

You May Have Missed