বদলের বাংলায় বদলের বাজেট, বাজেটেও এবার ‘ডবল ইঞ্জিন’-এর গতি
বদলের বাজেট:
১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে কী দেখেনি বাংলা। হুমকি। তোলাবাজি। দুর্নীতি। শিল্পে খরা। চাকরিতে খরা। পাহাড় প্রমাণ ঋণের বোঝা। সরকারের দিকে আঙুল উঠলেই কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ। পালাবদলের পর এবার বাংলায় বদলের বাজেট। এটা ডবল ইঞ্জিনের বাজেট। তৃণমূল আমলে যাঁরা বঞ্চিত, কোণঠাসা ৷ ডবল ইঞ্জিনের বাজেটে তাঁদের জন্যই কল্পতরু সরকার।
বাজেটে ডবল ইঞ্জিন:
কেন্দ্রের সঙ্গে অকারণ লড়াই নয়। কেন্দ্রের সঙ্গে সহযোগিতা। রাজ্যের উন্নয়নে পাশে কেন্দ্র। বদলের বাংলায় এটাই এখন ‘নিউ নর্মাল’।
অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত বলেন, ‘‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে নিষ্প্রয়োজনীয় বিরোধের সমাপ্তি ঘটিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতবর্ষের মানচিত্রে পুনঃস্থাপিত করেছি।’’
দুর্নীতিমুক্ত নিয়োগ:
তৃণমূল জমানায় সবথেকে বড় দুর্নীতি নিয়োগ দুর্নীতি। চাকরি বিক্রি হতে দেখেছে বঙ্গবাসী। বঞ্চিত হয়েছেন যোগ্যরা। টাকা দিয়ে চাকরি কিনেছে অযোগ্যরা। বদলের বাংলায় নিয়োগে স্বচ্ছতার বার্তা। ১ লক্ষ সরকারি চাকরির ঘোষণা বাজেটে ৷ যার মধ্যে শিক্ষাক্ষেত্রেই ৫০ হাজার চাকরি হবে ৷ গত ১৫ বছরে শিল্পে খরা দেখেছে বাংলা। বাজেটে সেই ছবিতেও বদলের বদলের বার্তা।
তোলাবাজি রুখতে নয়া আইন, রাজ্যকে শিল্প-বান্ধব করার উদ্যোগ ৷ স্বপন দাশগুপ্ত জানান, হস্তক্ষেপ এবং চাঁদাবাজির ফলে ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এই কারণে আগামী দিনে একটি আইন আনা হবে। ব্যবসাকে সিন্ডিকেট চার্জ এবং অন্য বেআইনি অর্থ আদায় থেকে রক্ষা করার আইন আনা হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তাঁর মতে, ‘‘এই কারণে সামনের দিনে আমরা একটি আইন আনছি। আমাদের সরকার আইন অনুযায়ী ব্যবসাকে সিন্ডিকেট চার্জ এবং অন্যান্য অর্থ আদায় করার আইন আনব ৷’’
তৃণমূল জমানায় সমাজের সবস্তরে ক্ষোভ দেখেছে রাজ্য। চাকরি নেই। চাকরি থাকলে বেতন কম। বেতন পেলে, ডিএ নেই। শিক্ষক থেকে আশা কর্মী, রেগে ছিলেন সবাই। বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটে সবার জন্যই অনেক কিছু।
ডিএ বাড়ল ২০ শতাংশ:
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘আপনাদের কেন্দ্রের সঙ্গে রাজ্যের ফারাক ছিল ৪২ শতাংশ। আমরা ২০ শতাংশ ডিক্লেয়ার করে দিলাম। অক্টোবর থেকেই পেয়ে যাবেন। আপনাদের এতদিন অনেক কথা বলেছেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। ভিক্ষা দেওয়ার মতো দিয়েছে। কখনও বলেছে ঘেউ ঘেউ করবেন না। আমি বন্ধু হিসেবে কথা দিচ্ছি অর্থমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে আমরা দ্রুততার সঙ্গে করে দেব ৷’’
সংগ্রামী যৌথ মঞ্চের আহ্বায়ক ভাস্কর ঘোষের মতে, ‘‘আগের সরকারের সদিচ্ছাই ছিল না ৷ এই সরকার সদিচ্ছা দেখিয়েছে। মানছেন এটা নজিরবিহীন ও ঐতিহাসিক ঘটনা? এটা নিয়ে সন্দেহ থাকার অবকাশ নেই। যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী সমস্ত প্রতিকূলতাকে সঙ্গে নিয়ে আজ যে নজির সৃষ্টি করলেন…আমরা খুশি এই পদক্ষেপে ৷’’
‘আশা’র আলো:
এই বছর জানুয়ারি। সাম্মানিক বৃদ্ধির দাবিতে স্বাস্থ্যভবন অভিযান করেছিলেন আশাকর্মীরা। সাম্মানিক তো বাড়েনি। উল্টে পুলিশের লাঠি খেতে হয়। অনেকেই বলেন, ভোটের কাজে এই আশাকর্মীদের ব্যবহার করত তৃণমূল। কাজে লাগাত। কিন্তু তাঁরা যাতে একটু ভাল থাকেন, সেই ব্যবস্থা করেনি। তাঁদের সাম্মানিকটুকু বাড়ানোর প্রয়োজন বোধ করেনি। পালাবদলের পর তাঁদের মুখেই আশার আলো। সোমবারের বাজেটে আশাকর্মীদের বেতন ৫ হাজার টাকা বাড়ানোর ঘোষণা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘‘আশা, আইসিডিএস-এর বোনেরা। আপনারা আশা করি খুশি হয়েছেন। ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ পাবেন। আপনারা আগের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ৪ হাজার টাকা চাইতে গিয়েছিলেন। লাঠি মেরেছিল। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাইতে হয়নি। আপনি না চাইতেও পেয়েছেন। আপনারা অনেক কাজ করেন। আপনারাই হেলথ সেক্টরটাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন।’’
২০০৯ থেকে পদ্ম ফুটছে উত্তরবঙ্গে। ছাব্বিশেও উজাড় করে ভোট পদ্মে। বিজেপির পাশে উত্তরবঙ্গ। এবার উত্তরবঙ্গের পাশে বিজেপি।
ডবল ইঞ্জিনে ছুটবে উন্নয়ন:
তৃণমূল আমলে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতে বারবার থমকেছে বাংলার উন্নয়ন। এটাই ছিল চেনা ছবি। এবার রাজ্যে ডবল এঞ্জিন সরকার। ঝগড়ার ইতি। উন্নয়নে গতি। রাজ্য-কেন্দ্র সমীকরণে বিমানবন্দর থেকে রেল, মেট্রো থেকে ফ্রেট করিডর।
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তের কথায়, ‘‘আমরা কেন্দ্রের সঙ্গে নিষ্প্রয়োজনীয় বিরোধের সমাপ্তি ঘটিয়ে ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিটি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা পশ্চিমবঙ্গকে ভারতবর্ষের মানচিত্রে পুনঃস্থাপিত করেছি।’’



Post Comment