১ লক্ষ সরকারি শূন্যপদে হবে নিয়োগ! নতুন বাজেটেই বাজিমাত শুভেন্দু সরকারের

১ লক্ষ সরকারি শূন্যপদে হবে নিয়োগ! নতুন বাজেটেই বাজিমাত শুভেন্দু সরকারের

West Bengal

-Ritesh Ghosh

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এক সুদূরপ্রসারী আর্থিক পরিকল্পনা পেশ করল নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বাজেট পেশ করলেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে নতুন সমীকরণ তৈরি হল। এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে রাজ্যের বেকারত্ব দূরীকরণকে।

নতুন তথ্য ও বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক স্তরে বড় রকমের সংস্কারের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। দীর্ঘকাল ধরে ঝুলে থাকা সরকারি নিয়োগের ক্ষেত্রে গতি আনতে এক অভিনব দিশা দেখিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এই বাজেটের মাধ্যমে সরকার বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে, কাজের সুযোগ তৈরি করাই হবে তাদের প্রথম অগ্রাধিকার। এই পদক্ষেপ রাজ্যের প্রশাসনিক কাজে গতি আনবে।

West Bengal CM Suvendu Adhikari announcing first state budget

সরকারি ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের জট খুলতে বাজেটে একটি বড়সড় ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, খুব দ্রুত রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দফতরে পড়ে থাকা প্রায় এক লক্ষ শূন্যপদে নতুন কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিগত কয়েক বছর ধরে রাজ্যের শিক্ষিত বেকার যুবসমাজ যে কর্মসংস্থানের সুযোগের জন্য অপেক্ষা করছিলেন, এই ঘোষণা তাঁদের মনে আশার আলো সঞ্চার করবে এবং গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতিকে সচল করবে।

এই এক লক্ষ শূন্যপদের নিয়োগের ক্ষেত্রে সামাজিক সাম্য রক্ষায় এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। প্রস্তাবিত চাকরিগুলির মধ্যে ৩৩ শতাংশ আসন সরাসরি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত রাখার কথা ঘোষণা করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর উদ্দেশ্য হল রাজ্য প্রশাসনের সব স্তরে লিঙ্গসচেতনতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সুনিশ্চিত করা।

নতুন অর্থমন্ত্রী তাঁর বাজেট বক্তৃতায় স্পষ্ট করেছেন যে, প্রশাসনিক অপচয় বন্ধ করে এবং কর আদায়ের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিয়ে এসে রাজ্য কর ও কর বহির্ভূত আয়ের উৎসগুলি সচল করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরাসরি নজরদারিতে এই কর্মসংস্থান ও নিয়োগ প্রক্রিয়া একটি নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে এবং অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে বলে বিধানসভায় আশ্বস্ত করেছে সরকার।

এছাড়া, কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুফল নেওয়ার মাধ্যমেও এই অতিরিক্ত খরচের একটি অংশ মেটানো হতে পারে বলে ওয়াকিবহাল মহলের অনুমান। রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে সুসমন্বয় গড়ে তুলে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ এবং কর্মসংস্থানের প্রকল্পগুলি দ্রুত বাস্তবায়িত করার ব্যাপারে নতুন সরকার অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। এই বাজেটে পরোক্ষভাবে সেই সমন্বয়ের এক ইঙ্গিতবাহী দিশা দেখতে পাচ্ছেন অনেকে।

Previous post

Chandana Bauri: ক্ষমতা এলেও অহংকার ছোঁয়নি! দু’বারের বিধায়কা হয়েও বদলান নি চন্দনা বাউরি, কোদাল-বেলচা হাতে সাফ করলেন হাসপাতালের জঞ্জাল

Next post

বিনামূল্যের বিদ্যুৎ প্রকল্প নিয়ে বিরাট ঘোষণা, বাজেটে ‘পিএম সূর্যঘর’ নিয়ে কী জানালেন অর্থমন্ত্রী

Post Comment

You May Have Missed