প্যারাটিচারদের পরিষেবাকে স্বীকৃতি, রাজ্য বাজেটে মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধির ঘোষণা; বেড়ে কত ?
কলকাতা : সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন প্যারাটিচাররা। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিগত পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই প্যারাটিচারদের জন্য মাসিক ভাতা এক হাজার টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা করেছিল। যদিও, এর থেকে অনেকটাই সাম্মানিক বাড়াল বর্তমান সরকার। সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থায় প্যারাটিচার অবদানকে স্বীকৃতি দিতে বড় ঘোষণা হল রাজ্য বাজেটে। তাঁদের মাসিক সাম্মানিক ৫ হাজার টাকা করে বৃদ্ধির ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। বাজেট ঘোষণায় বলা হয়েছে,সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়া অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি পূরণ করে থাকেন প্যারাটিচাররা। এর পাশাপাশি, ছাত্র-শিক্ষক অনুপাত উন্নত করতে সাহায্য করেন। তাঁদের সেই গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাকে স্বীকৃতি দিতেই মাসিক সাম্মানিক বৃদ্ধির ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
বিগত রাজ্য সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। যে কারণে সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যত মুখে থুবড়ে পড়েছে বলে অভিযোগ। যা নিয়ে দিনের পর দিন তোলপাড় হয়েছে রাজ্য। শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির একের পর এক অভিযোগ সামনে এসেছে। একাধিক অভিযোগ তুলে দিনের পর দিন আন্দোলন করতে রাস্তায় নেমেছেন ‘যোগ্য’ শিক্ষকরা। হাজার হাজার চাকরি চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুন করে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিচ্ছে বর্তমান সরকার। সেই লক্ষ্যেই এদিন রাজ্য বাজেটে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটে ৫০ হাজার শিক্ষক-অধ্যাপক নিয়োগ এবং ১ হাজার শূন্যপদে শিক্ষাকর্মী নিয়োগ প্রস্তাব দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এছাড়াও তিনি জানিয়েছেন, ১০০ জন মেধাবী ছাত্রছাত্রীর জন্য স্বামী বিবেকানন্দ মেরিট স্কিমের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বাজেট প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাকে শিক্ষার দিক থেকে একটি উৎকৃষ্ট কেন্দ্রে পরিণত করার জন্য একটি কৌশলগত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে। যা ক্রমাগত পরিবর্তনের বদলে পদ্ধতিগত সংস্কার, শ্রেণিকক্ষ আধুনিকীকরণ, কর্মী ঘাটতি পূরণ, প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে সুবিন্যস্তকরণ এবং ছাত্রকেন্দ্রিক দৃষ্টিভঙ্গির উপর আলোকপাত করবে। এরজন্য PM-SHRI প্রকল্পটি বাস্তবায়িত করা হবে। যার মাধ্যমে নির্বাচিত বিদ্যালয়গুলিকে গুণমান, পরিকাঠামোর উন্নয়ন ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার মাধ্যমে মডেল প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হবে। এই উদ্দেশে ২১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী। বিশ্বমানের কারিগরি ও ম্যানেজমেন্ট প্রশিক্ষণের উদ্দেশে ভারত সরকারের সহায়তায় উত্তরবঙ্গে একটি আইআইটি ও একটি আইআইএম স্থাপন করা হবে।
Suvendu Adhikari: ‘৫০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে, যাঁরা কর্মসংস্থান তৈরিতে কাজ করবে’,বললেন মুখ্যমন্ত্রী
Post Comment