অভিষেকের মন্তব্যে হাইকোর্টের তিরস্কার, গ্রেফতারিতে রক্ষাকবচ দিয়ে আদালত জানাল না জানিয়ে দেশ ছাড়া যাবে না
Kolkata
-Ritesh Ghosh
কলকাতা হাইকোর্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আদালতের অনুমতি ছাড়া পুলিশ কোনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারবে না। তবে একইসঙ্গে, আদালতের পূর্বানুমতি ছাড়া তিনি দেশও ছাড়তে পারবেন না। আগামী ৩০ জুলাই বা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই রক্ষাকবচ বহাল থাকবে।
বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টের এই নির্দেশ অনুযায়ী, তদন্তে পুলিশকে সবরকম সহযোগিতা করতে হবে অভিষেককে। যদি পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে চায়, তাহলে ৪৮ ঘণ্টা আগে লিখিত নোটিস দিতে হবে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে নয়, সশরীরে পুলিশের সামনে হাজিরা দিতে হবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে।

মূলত ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু কটু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতে একটি মামলা দায়ের হয়েছিল। এই মামলার শুনানিতেই আদালত এমন নির্দেশ জারি করেছে। রাজ্য সরকার আদালতকে জানিয়েছে, তারা বিচারবহির্ভূত বা আইনবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
অভিষেকের নির্বাচনী প্রচারের মন্তব্যের কড়া নিন্দা করেছে আদালত। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তাঁর তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “একটি সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক, একজন সাংসদ হয়ে তিনি এই ধরনের মন্তব্য করলেন কী করে? একজন সর্বভারতীয় দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে যদি এই ধরনের মন্তব্য করেন, তাহলে চিন্তা করে দেখুন যে যদি ভোটের ফল যদি অন্যরকম হতো তাহলে কী হতো?”
এর প্রতিক্রিয়ায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “হয়তো সম্পূর্ণ শান্তি থাকত।” কিন্তু বিচারপতি ভট্টাচার্য পাল্টা জবাব দেন, “আমাদের রাজনৈতিক ইতিহাস খুব ভালো কথা বলে না। মানুষ ভালোর কথা ভেবেই ২০১১-য় পরিবর্তন এনেছিল।” কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যোগ করেন, “মানুষ হয়ত ২০২৬ সালেও ভালোর কথাই ভেবেছে।” বিচারপতি ভট্টাচার্য এই বিষয়ে বলেন, “সেটা সময় বলবে। এখন সেটা নির্ধারণ করার সময় নয়।”
অভিষেকের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল উপস্থিতির আবেদন করলেও, আদালত তা খারিজ করে দেয় এবং বিচারপতি ভট্টাচার্য জানিয়ে দেন যে, পুলিশ ডাকলে অভিষেককে সশরীরে হাজির হতে হবে। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ এবং তার সাথে আদালতের পর্যবেক্ষণগুলি রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কাছে অভিষেকের জন্য অস্বস্তিকর বলেই মনে হচ্ছে।
যে মন্তব্যগুলি নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত, সেগুলি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে করেছিলেন। গত ১৪ এপ্রিল এক প্রকাশ্য জনসভায় তিনি বলেছিলেন, “বিজেপি-র সঙ্গে বেশি উদারতা দেখাতে নেই। আর আমাদের সৌজন্যতা আমাদের দুর্বলতা নয়। যারা মানুষের প্রতি অবিচার করেছে, মানুষকে অপমানিত করেছে, তাদের জন্য এবার রবীন্দ্রসঙ্গীত নয়, ৪ তারিখ ডিজে বাজবে। তৈরি থাকো।”
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে উদ্দেশ করে তিনি উল্লেখ করেন, “আমি অমিত শাহকে বলব, ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন আপনি।” এরপর ১৮ এপ্রিল ফের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উদ্দেশে অভিষেক আরও বলেন, “অমিত শাহকে চ্যালেঞ্জ, উনি বলেছেন, চুন চুনকে হিসাব হোগা। আমি বলি, যদি বুকের পাটা থাকে ৪ তারিখ বাংলায় থাকবেন। কলকাতায় দেখা হবে বেলা ১২টার পর। কত ধানে কত চাল বুঝব।”
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মন্তব্যগুলি নিয়েই পরবর্তীতে বিধাননগর সাইবার থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল।



Post Comment