বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে এবার সিআইডি জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে
Kolkata
-Ritesh Ghosh
সই জাল কাণ্ডে এবার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ তথা সিনিয়র আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় সিআইডি। এই ঘটনার পরই চরম ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রতিবাদ জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনে একটি দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন।
গোয়েন্দা সূত্রের খবর অনুযায়ী, সিআইডির এক আধিকারিক ফোনে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই বিতর্কিত সই জাল মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সময় চেয়েছিলেন। একজন মামলার আইনজীবী হিসেবে আদালতে সওয়াল করার জন্য কীভাবে পুলিশ কোনও আইনজীবীকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই তৃণমূল সাংসদ।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, বুধবার পার্থ ভট্টাচার্য নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সিআইডি-র দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্তকারী আধিকারিক পরিচয় দিয়ে সরাসরি তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন করেন। ওই আধিকারিক পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার সই জাল সংক্রান্ত এই ফৌজদারি মামলায় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং এই বিষয়ে কল্যাণবাবুর মতামত জানার জন্য অনুমতি চেয়েছিলেন।
কলকাতা হাইকোর্টের বার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদকের কাছে পাঠানো এই চিঠিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় পুরো ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ তুলে ধরেছেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার স্পিকারের বিরুদ্ধে দলের প্রধান চিপ হুইপ তথা পরিষদীয় মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দায়ের করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি মামলা পেশাদার সিনিয়র আইনজীবী হিসেবে তিনি লড়ছেন। এই মামলায় বিরোধী দলনেতার স্বীকৃতির বিষয়টিকে মূলত চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।
প্রবীণ আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, তিনি অতি সম্প্রতি পরপর কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর এজলাসে এই মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে অত্যন্ত জোরালো সওয়াল করেছেন এবং মাননীয় আদালত ইতিমধ্যেই এই নির্দিষ্ট মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন। এই অবস্থায় আদালতের চলমান আইনি লড়াইয়ের সঙ্গে যুক্ত একজন বর্ষীয়ান আইনজীবীকে সিআইডির তরফ থেকে হঠাৎ ফোন করা নজিরবিহীন এবং আপত্তিকর সিদ্ধান্ত।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর চিঠিতে লিখেছেন, একজন আইনজীবীর মর্যাদা, সম্মান এবং সওয়াল করার স্বাধীন অধিকার রক্ষার স্বার্থে বার অ্যাসোসিয়েশনের অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আইনজীবীদের পেশাদারি স্বাধীনতা এবং মক্কেলদের পক্ষে কথা বলার মৌলিক অধিকার যাতে অক্ষুণ্ণ থাকে, তা নিশ্চিত করতে বার অ্যাসোসিয়েশনের এই মুহূর্তে এগিয়ে আসা একান্ত প্রয়োজন।
এই বিতর্কিত সই জাল মামলার সূত্রপাত ঘটেছিল রাজ্য বিধানসভার অন্দরেই। অভিযোগ ওঠে, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম সুপারিশ করে স্পিকারের কাছে বিধানসভার মাধ্যমে যে চিঠি পাঠানো হয়েছিল, তাতে কয়েকজন তৃণমূল বিধায়কের স্বাক্ষর আসলে জাল করা হয়েছিল। একজন বিধায়ক প্রথমে বিধানসভার সচিব বা সেক্রেটারির কাছে এই সই জালিয়াতির অভিযোগ সরাসরি লিখিত আকারে দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন বিধানসভার সচিব এবং তাঁরই নির্দেশে কলকাতার হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়। তবে ঘটনার চরম সংবেদনশীলতা, আইনি জটিলতা এবং তীব্র রাজনৈতিক গুরুত্বের কারণে পরবর্তীতে এই মামলার তদন্তভার কলকাতা পুলিশের হাত থেকে গোয়েন্দা বিভাগ বা সিআইডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই সিআইডি এই ঘটনার জোরদার তদন্ত চালাচ্ছে।
এই সই জাল মামলাকে কেন্দ্র করে ইতিপূর্বেই পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির শীর্ষ স্তরে তীব্র দোলাচল সৃষ্টি হয়েছে। সিআইডি এই তদন্তের স্বার্থে শাসক দল তৃণমূলের একাধিক হাইপ্রোফাইল বিধায়ককে ভবানী ভবনে ডেকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন করেছে। শুধু তাই নয়, তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিপাকে পড়তে হয়েছে।



Post Comment