East Bardhaman News: হিমসাগর-ল্যাংড়াকে টেক্কা দেবে নবাবি আমলের ‘এই’ আম, অস্তিত্ব বাঁচাতে ‘জিআই’ স্বীকৃতির লড়াই! জাত চিনতে লাগল বহু বছর
Last Updated:
East Bardhaman News: বাংলার হারিয়ে যেতে বসা আমের জাত মোহিনীকে নতুন করে পরিচিতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য বিশেষজ্ঞদের নজর কেড়েছে। এই আমের জিআই স্বীকৃতির জন্য লড়াই শুরু করেছেন বর্ধমানের এক নার্সারি মালিক। এই উদ্যোগ মোহিনী আমের সংরক্ষণে আশার আলো দেখাচ্ছে।
কালনা, পূর্ব বর্ধমান, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: আমের কথা উঠলেই হিমসাগর, ল্যাংড়া কিংবা ফজলির নামই প্রথমে মনে আসে। অথচ বাংলার মাটিতে এমন বহু দেশীয় আমের জাত রয়েছে, যেগুলি আজ প্রায় হারিয়ে যাওয়ার মুখে। তেমনই এক বিরল প্রজাতি ‘মোহিনী’ আমকে নতুন করে পরিচিতি দিতে উদ্যোগী হয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর নার্সারি মালিক ও আমপ্রেমী শঙ্কর দত্ত। তাঁর দাবি, এই বিশেষ জাতের আমের জন্য জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। একসময় নবাবি আমলে মুর্শিদাবাদের বাগানজুড়ে অসংখ্য বিরল জাতের আমের চাষ হত।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই সব জাতের অনেকই হারিয়ে গিয়েছে। ‘মোহিনী’ও সেই তালিকারই একটি নাম। বর্তমানে বাংলায় এই জাতের আমের অস্তিত্ব প্রায় নেই বললেই চলে। শঙ্কর দত্তের বাগানে সংরক্ষিত গাছটিকেই এই জাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নমুনা বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শঙ্করবাবুর কথায়, এই আমের স্বাদ অন্যান্য প্রচলিত জাতের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। শাঁস তুলনামূলক কম হলেও এর মসৃণতা ও স্বাদ অনেকটা দইয়ের মতো। রং, গঠন এবং স্বাদের বিশেষত্বের কারণেই এর নাম ‘মোহিনী’ হয়েছে বলে প্রচলিত ধারণা। সম্প্রতি কল্যাণীর বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আম প্রদর্শনীতে শঙ্কর দত্ত তাঁর বাগানের ‘মোহিনী’ আম প্রদর্শন করেন। সেখানে ফল বিজ্ঞান বিভাগের বিশেষজ্ঞরা আমটির গুণাগুণ পরীক্ষা করেন এবং এর স্বাদ গ্রহণের পর জিআই স্বীকৃতির আবেদন করার পরামর্শ দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফল বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ফটিক বারুই জানান, পূর্বস্থলীতে সংরক্ষিত এই আমের জাতটি সত্যিই অত্যন্ত বিরল। এর স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য অন্য অনেক জাতের থেকে আলাদা। জিআই স্বীকৃতির জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য ও গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করছে। শঙ্কর দত্ত জানান, প্রায় চার দশক আগে তাঁর বাবা শম্ভু দত্ত কাটোয়ার অগ্রদ্বীপ এলাকার একটি জমিদার বাড়ি থেকে এই আমগাছের চারা সংগ্রহ করেছিলেন। দীর্ঘদিন গাছটির প্রকৃত পরিচয় জানা না থাকলেও পরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকের মাধ্যমে এর জাত শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
বর্তমানে তাঁদের বাগান ছাড়া অন্য কোথাও এই জাতের গাছের খোঁজ মেলেনি বলেই দাবি তাঁর। জিআই স্বীকৃতি মিললে এই বিরল আমকে কেন্দ্র করে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার দ্বার খুলবে বলেও আশাবাদী শঙ্করবাবু। ভবিষ্যতে চারা উৎপাদন করে দেশ-বিদেশে সরবরাহের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর।উল্লেখ্য, পূর্বস্থলীতে শঙ্কর দত্তের নার্সারিতে বর্তমানে ১২০টিরও বেশি জাতের আমের সংগ্রহ রয়েছে। জাপানের মিয়াঁজাকি, আমেরিকার রেড পালমার, টমি অ্যাটকিন্স, মহারাষ্ট্রের আলফানসো, তাইওয়ানের ব্যানানা ম্যাংগো, বাংলাদেশের হাঁড়িভাঙা-সহ দেশ-বিদেশের নানা বিরল জাতের আমে সমৃদ্ধ তাঁর এই বাগান। ফলে আমপ্রেমীদের কাছে এটি ধীরে ধীরে এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
Barddhaman (Bardhaman),Barddhaman,West Bengal




Post Comment