Money Making Tips: লটারির টিকিট থেকে ভাগ্য বদল, চা দোকানদার থেকে রাতারাতি হলেন কোটিপতি

Money Making Tips: লটারির টিকিট থেকে ভাগ্য বদল, চা দোকানদার থেকে রাতারাতি হলেন কোটিপতি

Last Updated:

ভাগ্য সহায় হলে জীবন বদলাতে সময় লাগে না। একটি লটারির টিকিট কিনেই চা দোকানদার হয়ে গেলেন কোটিপতি। এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা এই ঘটনায় কীভাবে মিলল কোটি টাকার পুরস্কার, জেনে নিন বিস্তারিত।

+

চা দোকানদার থেকে রাতারাতি কোটিপতি

কোলাঘাট, সৈকত শী: রোজ ভাগ্য পরীক্ষার ফল অবশেষে পেল এক মহিলা চা দোকানদার। সকাল থেকে রাত্রি পর্যন্ত চা দোকানে চা বিক্রি করাই ছিল কাজ। আর রোজ বাড়ি ফেরার সময় ভাগ্য পরীক্ষা করতে পারতেন লটারির টিকিট। অবশেষে ওই মহিলার ফিরল ভাগ্য! চা দোকানদার থেকে রাতারাতি হলেন কোটিপতি। একটি লটারির টিকিটই বদলে দিল পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের পরিশ্রমী মহিলার জীবন। এক সময় যে মহিলা একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে কোনওরকমে সংসার চালাতেন, ভাগ্যের এক আশ্চর্য পরশে বর্তমানে তিনি কোটিপতি।

পূর্ব মেদিনীপুর জেলার কোলাঘাট থানার কাউরচণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা গীতা গিরি। গ্রামের সামনেই একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সংসার চালিয়ে আসছেন তিনি। প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও সামান্য উপার্জনে কোনও রকমে চলত তাঁর সংসার। অভাব-অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী। তবে জীবনের কঠিন লড়াইয়ের মাঝেও হার মানেননি গীতা দেবী। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে তিনি মেছেদা বাজারে যান। বাজার করার সময় মেছেদা পুরাতন বাজার এলাকার একটি লটারি বিক্রেতার কাছ থেকে লটারির টিকিট কেনেন। বিষয়টি তিনি পরিবারের কাউকেই জানাননি। বাজার সেরে বাড়ি ফিরে আসার পর রাতের দিকে লটারির ফলাফল দেখে তিনি কার্যত স্তম্ভিত হয়ে যান।

কারণ, তাঁর কেনা সেই লটারির টিকিটেই লেগেছে এক কোটি টাকার প্রথম পুরস্কার! প্রথমে নিজের চোখকেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না গীতা গিরি। বারবার টিকিট মিলিয়ে দেখার পর নিশ্চিত হন যে সত্যিই তিনি এক কোটি টাকার লটারি জিতেছেন। এরপর খবরটি পরিবারের সদস্যদের জানাতেই আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন সকলে। মুহূর্তের মধ্যেই খুশির হাওয়া ছড়িয়ে পড়ে গোটা পরিবার ও এলাকায়। একদিকে যেমন আনন্দ, অন্যদিকে নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তাই সোমবার গীতা গিরি তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোলাঘাট থানায় যান। সেখানে পুলিশকে পুরো বিষয়টি জানান এবং লটারির টাকার দাবির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চান।

গীতা গিরি জানান,” মাঝে মাঝে লটারি টিকিট কিনতাম। কোনওদিনই পুরস্কার পাইনি। এই প্রথম লটারির টিকিটে পুরস্কার পেলাম। আর সেই পুরস্কার এত বড় হোক অংকে ভাবিনি কখনওই!” পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, লটারির টাকার অর্থ যাতে নিরাপদে তাঁর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়, সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। গীতা গিরির এই সাফল্যের খবর এলাকায় ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে। কঠোর পরিশ্রমের পাশাপাশি ভাগ্য কখনও কখনও মানুষের জীবনকে এক মুহূর্তে বদলে দিতে পারে। চায়ের দোকান থেকে কোটিপতি গীতা গিরির এই গল্প এখন কোলাঘাট জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

Post Comment

You May Have Missed