সুপ্রিম কোর্টে বিরাট ধাক্কা, ‘সংবিধান সেই শিক্ষা দেয় না’, কী প্রতিক্রিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের?
কলকাতা: ভোটগণনার (Vote Counting) আগে সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। নির্বাচন কমিশনের ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকাকে মান্যতা দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
‘ভোট গণনায় কেন শুধু কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীরা?’ প্রশ্ন তুলে দায়ের হয়েছিল মামলা। সেই মামলায় কমিশনের ১৩ এপ্রিলের নির্দেশিকাকেই মান্যতা দিল সুপ্রিম কোর্ট।
‘এই Counting Supervisor এবং Counting Assistant-রা কমিশনের অধীনে কাজ করবে। তাঁরা যদি কমিশনের নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন, তাহলে তাঁরা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী নাকি রাজ্যের, তাতে কী এল গেল?’ গণনা কেন্দ্রে সমস্ত দলের এজেন্ট থাকবে, তাহলে অসুবিধা কোথায় ? প্রশ্ন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর। আর সুপ্রিম কোর্টের শুনানির পর এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অরূপ চক্রবর্তীর।
আরও পড়ুন: রাহুল-নিসাঙ্কার বিধ্বংসী ইনিংসে আইপিএলে ইতিহাস দিল্লি ক্যাপিটালসের, নেমেই ভয়ঙ্কর স্টার্ক
অরূপ বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের মনে হয়েছে করেছে। কিন্তু তার মানে এটা প্রমাণ করে না যে, রাজ্য সরকারী কর্মচারীকে এক চোখে দেখবেন আর কেন্দ্রীয় সরকারী কর্মীদের অন্য চোখে দেখবেন? দেশের সংবিধান তো সেই শিক্ষা দেয় না। দেশের সংবিধানের কাছে যে কোনও সরকারি কর্মচারীই সরকারের অধীনস্থ কর্মচারী। এই বিভেদ করার অধিকার সাধারণ মানুষের নেই। সুপ্রিম কোর্ট একটা মামলার প্রেক্ষিতে বলেছে ঠিক কথা, কিন্তু আমরা যেন ভুলে না যাই, চণ্ডীগড়ের একটা মেয়র পদের নির্বাচনে আমরা দেখেছিলাম কীভাবে বিজেপির চাকরের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিল রিটার্নিং অফিসার। তিনিও তো বিজেপির নিযুক্ত সরকারী কর্মীই ছিলেন। আমরা দেখেছিলাম চণ্ডীগড়ের মেয়র পদের নির্বাচনে যেখানে আপ ও কংগ্রেস জিতছিল, সেখানে কীভাবে ব্যালটকে নিজে হাতে পেন দিয়ে কেটে সেই ব্যালটগুলোকে অবৈধভাবে ঘোষণা করেছিল। সেই মামলা সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল এবং তখন সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল ওই অফিসার অবৈধ কাজ করেছে। ওই কাউন্টিং প্রসেসটাই অবৈধ।’
আরও পড়ুন: ৯ ঘণ্টার জিজ্ঞাসাবাদ হয়েছে শুক্রবার, পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ফের তলব TMC-র হেভিওয়েট নেতাকে
অরূপ আরও বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের হাতেই সেই উদাহরণ রয়েছে যেখানে বিজেপি ভোট চুরি করে জিতেছে এবং জিতেছে এই ধরনের অফিসারদের নিয়োগ করে। সেখানে ঘরপোড়া গরু হিসাবে সিঁদুরে মেঘ দেখার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সারা ভারতবর্ষের মানুষ জানে বিজেপি মানেই ভোটচোর। আর নির্বাচন কমিশন বিজেপির চাকর।’



Post Comment