Birbhum News: চেন্নাই যাওয়ার পথে বীরভূমে চরম অসুস্থ বাংলাদেশি রোগী, রক্ত দিয়ে নজির গড়লেন নলহাটির যুবক
Last Updated:
Birbhum News: কিডনির চিকিৎসা করাতে এসে বীরভূমে রক্তের অভাবে বিপাকে পড়েছিলেন বাংলাদেশি যুবক বিধান চন্দ্র রায়। তাঁর এই চরম সংকটে সীমানা তুচ্ছ করে রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচালেন বীরভূমের সাহিল মোমিন।
রামপুরহাট, বীরভূম: মানুষ মানুষের জন্য, এই চিরন্তন সত্যটিই যেন নতুন করে ফুটে উঠল বীরভূমের মাটিতে। ভিনদেশ বাংলাদেশ থেকে ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে যখন এক অসহায় পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছিল, তখন কাঁটাতারের বিভেদ ভুলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে মনুষ্যত্বের এক অনন্য নজির গড়লেন বীরভূমের এক যুবক।
ঘটনার সূত্রপাত বাংলাদেশের দিনাজপুরের বাসিন্দা ৩০ বছর বয়সী বিধান চন্দ্র রায়কে কেন্দ্র করে। কিডনির জটিল সমস্যায় ভুগছেন তিনি। উন্নত চিকিৎসার আশায় গত শনিবার চেন্নাই যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তিনি ও তাঁর খুড়তুতো ভাই সাধন রায়। বীরভূমের উপর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময় আচমকাই বিধানবাবুর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। প্রবল শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি শুরু হয় রক্তবমি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে মাঝপথেই নলহাটি স্টেশনে নেমে পড়তে বাধ্য হন তাঁরা। সেখান থেকে তড়িঘড়ি টোটো করে পৌঁছন রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে।
সাহিলের বাবা টুলু মোমিন তখন ওই হাসপাতালেই অন্য একটি বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পাশের বেডে থাকা বাংলাদেশি পরিবারের এই চরম সংকটের কথা শুনে তিনি স্থির থাকতে পারেননি। নিজে অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও নিজের ছেলে সাহিলকে নির্দেশ দেন ওই পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে। বাবার কথা শিরোধার্য করে সাহিল কোনও দ্বিধা না করেই হাসপাতালে ছুটে আসেন এবং রক্তদান করেন। সাহিলের দেওয়া রক্তে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন বিধানবাবু। হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর তাঁরা কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। যাওয়ার আগে বিধানবাবু ও তাঁর ভাই সজল নয়নে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন সাহিল ও তাঁর পরিবারের প্রতি। এই ঘটনা প্রমাণ করে দিল যে, কোনও ভৌগোলিক সীমানা নয়, বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ ধর্ম। বীরভূমের এই সম্প্রীতির বার্তা আজ সব মহলে প্রশংসিত হচ্ছে।
Birbhum,West Bengal




Post Comment