কয়েক মাসের মধ্যেই পেট্রোলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে: রাহুল গান্ধী

কয়েক মাসের মধ্যেই পেট্রোলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে: রাহুল গান্ধী

কলকাতা: মেটিয়াবুরুজের নির্বাচনী জনসভা করলেন রাহুল গান্ধী। এই সভা থেকে তিনি একযোগে আক্রমণ করলেন নরেন্দ্র মোদি ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এমনকি পেট্রোলের দাম বৃদ্ধি নিয়েও কথা বলতে শোনা গেল তাঁকে।

রাহুল গান্ধী এদিন বলেন, “আমাদের এনার্জি সিকিওরিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের হতে তুলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।” তাঁকে বলতে শোনা যায়, “আজ ভারত আমেরিকার অনুমতি ছাড়া কোনও দেশ থেকে তেল কিনতে পারে না। ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব বা ভেনেজুয়েলা; আমেরিকাকে জিজ্ঞাসা না করে ভারত আজ তেল কিনতে পারে না।” আর এর পরই রাহুল গান্ধী বলেন, খুব তাড়াতাড়ি তেলের দাম বেড়ে যাবে।

মেটিয়াবুরুজের সভা থেকে রাহুল গান্ধী বলেন,“এর ফলে কী হবে তা কয়েকদিনের মধ্যেই দেখতে পাবেন আপনারা। ইরানে যুদ্ধ হচ্ছে। কয়েক মাসের মধ্যেই তেলের দাম, পেট্রোলের দাম আকাশ ছুঁয়ে ফেলবে। আর এর পিছনে কে দায়ী?”

এদিন একাধিক নির্বাচনী জনসভা করেন রাহুল গান্ধী। সকালে শ্রীরামপুর, তারপর শহীদ মিনার ও সব শেষে মেটিয়াবুরুজে সভা করেন তিনি। এই সভা থেকে রাহুল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে ৩৬টি কেস রয়েছে। “আমি নরেন্দ্র মোদিকে ভয় পাই না। আমার সরকারি আবাসন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমার লোকসভার সদস্যপদ রদ করে দেওয়া হয়েছিল। ৫৫ ঘণ্টা ধরে ইডি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। যদি ভয় কেউ পায়, তাহলে সেটা নরেন্দ্র মোদিই”, মেটিয়াবুরুজের সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ শানান রাহুল গান্ধী।

এরপরই তিনি একই সুরে বিদ্ধ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। রাহুল গান্ধীকে বলতে শোনা যায়, “আচ্ছা, মমতাজির ঘর কি এরা কেড়ে নিয়েছে? মমতাজির বিরুদ্ধে কি কোনও কেস করা হয়েছে? মমতাজির লোকসভা বা বিধানসভার সদস্যপদ কি বাতিল করে দেওয়া হয়েছে? মমতাজিকে কোনও কারণে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে? কেন হয়নি?”

এর পর সভায় উপস্থিত সাধারণ মানুষকে এই প্রশ্নের উত্তরও দেব রাহুল। তিনি বলেন, “এরা জানে, এদের আসল শত্রু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নয়। বরং এদের শত্রু রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস।” এদিনের সভায় তাঁর মুখে শোনা যায় কংগ্রেসের ভারত জোড় যাত্রার কথাও। কংগ্রেস সংসদের মুখে শোনা যায়, কন্যাকুমারী থেকে কাশ্মীর পর্যন্ত ৪ হাজার কিলোমিটার হাঁটার কথাও। তিনি বলেন, “একটাই বার্তা ছিল, ঘৃণার বাজারে ভালবাসার দোকান খুলব”।

এদিনের সভায় রাহুলের মুখে শোনা গেল আদানি প্রসঙ্গও। এমনকি কটাক্ষের সুরে আদানি গ্রুপের নাম বদলেরও সওয়াল করেন তিনি। রাহুল গান্ধী বলেন, “নরেন্দ্র মোদি বেকারত্ব বৃদ্ধি করেছে। নরেন্দ্র মোদি ঘৃণা ছড়িয়েছে। কিন্তু বাংলায় তো নরেন্দ্র মোদির সরকার নেই। মমতাজির সরকার আছে। কিন্তু মমতাজি এখানে কম বেকারত্ব তৈরি করেননি। উনি বলেছিলেন, বেকারত্ব শেষ করবেন। ৫ লক্ষ যুবককে উপার্জনের সুযোগ করে দেবেন। উনি প্রতিশ্রুতি কি পূরণ করেছেন?”

Previous post

রাহুলের ঐতিহাসিক শতরান থেকে রেকর্ড রান তাড়া করে জয়, DC-PBKS ম্যাচে ইতিহাসের ছড়াছড়ি

Next post

অমিত শাহের হেলিকপ্টার করল ‘মর্নিং শিফট’…! শনিবার সকালে জানেন কে চড়ে বসলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কপ্টারে?

Post Comment

You May Have Missed