‘হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ‘ইন্ডাস্ট্রি’ নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি’, কেন এই কথা বললেন জিতু কমল

‘হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ‘ইন্ডাস্ট্রি’ নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি’, কেন এই কথা বললেন জিতু কমল

Show Quick Read

Key points generated by AI, verified by newsroom

  • প্রখ্যাত বাচিক শিল্পী বিপ্লব দাশগুপ্তের আকস্মিক প্রয়াণে বিনোদন জগতে শোক.
  • দীর্ঘ অসুস্থতার পর হাসপাতালে ভর্তি, চিকিৎসায় সাড়া না দেওয়ায় মৃত্যু.
  • অভিনেতা জিতু কমলের স্মৃতিচারণা: উত্তম-সত্যজিৎ অনুকরণে মজাদার অভিজ্ঞতা.
  • পরিবারের তরফে জানা গেছে, সম্প্রতি অস্ত্রোপচারের পর তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন.

কলকাতা: বাংলার বিনোদন দুনিয়া থেকে ঝরে গেল, আরও এক তারা। প্রয়াত হলেন বিপ্লব দাশগুপ্ত। শুক্রবার হাসপাতালে প্রয়াত হয়েছেন, বাচিক শিল্পী ও অভিনেতা। পরিবার সূত্রে খবর, শুক্রবারই অভিনেতার শরীরে অস্বস্তি শুরু হয়। তখনই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করা হয় অভিনেতাকে। জানা যাচ্ছে, দীর্ঘদিন থেকেই অসুস্থ ছিলেন অভিনেতা। সেই কারণে কাজ থেকেও কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন। শরীরে অস্ত্রোপচার হয়েছিল অভিনেতার, বেশ কিছু চিকিৎসাবিভ্রাট ও হয়েছিল বলে পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে। দীর্ঘ অসুস্থতার কারণে তিনি নাকি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলেও জানানো হয়েছে পরিবারের তরফে। 

জিতুর স্মৃতিচারণা

আজ সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপ্লব দাশগুপ্তের প্রয়াণে মনখারাপ করা একটি লম্বা পোস্ট করেছেন অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu Kamal)। অভিনেতা লিখেছেন, এটা কি হচ্ছে….কি হল, কিছুই তো বুঝে উঠতে পারছি না। মানুষটার সঙ্গে আমার পরিচয় ২০১৪ এর শেষে। একটা প্রজেক্টই। তারপরে অল্প-বিস্তর কথা হতো ঠিকই। ২০১৯ সালে একটা প্রজেক্টে আমার বাবার চরিত্র অভিনয় করেন।সেখানেই আত্মিক হয় সম্পর্কটা। ২০২১ এ অপরাজিত বলে আমি একটি ছবি করি যেখানে উনি আমাকে ভীষণ সাহায্য করেন। উত্তম কুমারের ছবি দেখিয়ে, সত্যজিৎ রায় ইন্টারভিউ দিচ্ছেন এমন ভিডিও দেখিয়ে। উনিই আমাকে বিদ্যান সমীক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন, যিনি প্রথম সত্যজিৎ রায়ের এক ঘন্টার বাংলা ইন্টারভিউ করেছিলেন। যা আমার জীবনের এক পরম প্রাপ্তি।’

জিতু আরও লেখেন, ‘এরপর একটা অদ্ভুত নেশায় আমাকে আসক্ত করেন। বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে,বিভিন্ন হোটেলে থাকা এবং বিভিন্ন হোটেলের খাবারের স্বাদ গ্রহণ করা। এও যে ঘুরতে যাওয়ার এক ধরনের ধরন আমি আগে তা জানতাম না। খুব স্পষ্ট মনে আছে,দু-তিন বছর আগের ঘটনা। দার্জিলিঙে ২-৩ দিনের জন্যে ঘুরতে গিয়েছি। উনি আলাদা হোটেলে বৌদিকে নিয়ে আর আমি আলাদা হোটেলে। কেভেন্টার্সের সামনে আমাদের সকালে এবং সন্ধ্যেবেলা দেখা হতোই। কিন্তু আমাদের হোটেলের ঠিকানা প্রত্যেকদিন পাল্টে যেত। সত্যজিৎ রায়ের কণ্ঠ,উত্তম কুমারের কণ্ঠ কপি করে কত ধরনের মজার ঘটনা যে আমাদের মধ্যে ঘটেছে ঘুরতে গিয়ে বা আড্ডার অচিলায়, তা বলে শেষ করতে পারব না।’

আরও পড়ুন: WB Election: যে ধরনের প্রশাসন চলছিল, তাতে মানুষ বিরক্ত, যাদবপুরে বাম প্রার্থীর সমর্থনে গিয়ে বললেন ‘ফেলুদা’

জিতু আরও লেখেন, ‘বিপ্লবদা তুমিও একা করে দিলে! হাতে গোনা কিছু মানুষ এই ইন্ডাস্ট্রি নামক ফাটকা বাজারে আমার শক্তি। অশুভ শক্তি দমনে তুমিও তো ছিলে আমার এক শিক্ষক। কোন দিকে যাচ্ছি আমরা, কে জানে! আর্টিস্টের মাথারা জানে তো? আজকে এক নক্ষত্র-পতন হল? যাই হোক। ভালো থেকো বিপ্লব দা। দেখা হবে তোমার সঙ্গে খুব তাড়াতাড়ি।’

Post Comment

You May Have Missed