যে ধরনের প্রশাসন চলছিল, তাতে মানুষ বিরক্ত, যাদবপুরে বাম প্রার্থীর সমর্থনে গিয়ে বললেন ‘ফেলুদা’
উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: একটা সময় এই কেন্দ্রকে বলা হতো বামফ্রন্টের গড়। কিন্তু গত বিধানসভা ভোটে সুজন চক্রবর্তী এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে পরাজিত হয়েছিলেন। ২০১১ সালে এই আসনে পরাজিত হয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। যা পালাবদলের বছরে বড় চমক ছিল।
এবার যাদবপুর কেন্দ্রে সিপিআইএম প্রার্থী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সমর্থনে শুক্রবার বিরাট মিছিল হল। প্রার্থী বিকাশরঞ্জনের পাশাপাশি মিছিলে সঙ্গে ছিলেন সিপিআইএমের পলিটব্যুরো সদস্য বৃন্দা কারাট। সঙ্গে ছিলেন সুজন চক্রবর্তী ও অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী (Sabyasachi Chakraborty)। যাঁর জনপ্রিয়তা পর্দার ফেলুদা হিসাবেও। যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে গড়িয়া পর্যন্ত হচ্ছে মিছিল। রীতিমতো সুসজ্জিত মিছিল। মধ্যমণি সব্যসাচী।
প্রচারের ফাঁকে সব্যসাচী বললেন, ‘এবার খুব আশাবাদী আমি। গতবারের নির্বাচনে যা হয়েছিল, এবার তার থেকে অনেক ভাল ফলাফল হবে। কারণ যে ধরনের প্রশাসন চলছিল, তাতে মানুষ বিরক্ত হয়েছেন, এটা নিশ্চিত। তাই এবারে বদল মনে হয় বিজেপির দিকে হবে না। যদি তৃণমূল যথেষ্ট ভাল ভোট পায়, হয়তো তারা সরকার গড়বে। কিন্তু আমার মনে হয় বামপন্থার একটা জয় বোধ হয় দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন জায়গায়। কতটা হবে জানি না, তবে অনেকটা হবে।’
আপনি তো বরাবর রাজনৈতিকভাবে সচেতন… সব্যসাচী বলছেন, ‘রাজনীতির খবর যে রাখে না, সে তো আলু পেঁয়াজ কেনে না বাইরে। তাহলে খায় কী ?’
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ছিল প্রথম দফার ভোট । SIR-এর পর প্রথম দফায় ভোট পড়েছে রেকর্ড ৯২ শতাংশেরও বেশি । সবচেয়ে বেশি ভোট পড়েছে কোচবিহার ও দক্ষিণ দিনাজপুরে । পাহাড়, পুরুলিয়া, পশ্চিম বর্ধমান বাদে সব জায়গায় ভোট পড়ল ৯০ শতাংশের বেশি। SIR-এর পর ভোট-সুনামি । ভগবানগোলা, রঘুনাথগঞ্জে ভোট পড়েছে প্রায় ৯৭ শতাংশ । সামশেরগঞ্জ, লালগোলা, ফারাক্কা, রানিনগরে ভোটের হার ৯৬ শতাংশ । ৯৫ শতাংশ ভোট পড়ল কোচবিহার, দক্ষিণ দিনাজপুরে । এগারোয় তৃণমূল ক্ষমতায় আসার সময় ভোট পড়েছিল প্রায় ৮৫ শতাংশ । বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্যেও ছাব্বিশে ভোট পড়ল ৯২ শতাংশেরও বেশি । রেকর্ড ভোটে খুশি কমিশন। CEO-র প্রশংসায় CEC ।
শুধু ভোটের শতাংশে নয়, ভোটার সংখ্যাতেও রেকর্ড । এসআইআরের জেরে ২০২১-এর তুলনায় এবার ১৭ লক্ষ কম ভোটার। ভোট পড়ল প্রায় ১৮ লক্ষ বেশি ।



Post Comment