রাহুলের মৃত্যুর পরে কীভাবে ওয়েব সিরিজের শ্যুটিং শেষ করলেন প্রিয়ঙ্কা? জানালেন বিক্রম
- রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু, পরে প্রিয়ঙ্কা সরকারের ওপর ঝড়।
- অনিরাপদ শুটিংয়ে জলে পড়ে মৃত্যু, তদন্ত চলছে।
- প্রিয়ঙ্কা সরকারের প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে FIR দায়ের।
- দুর্ঘটনার পরেও প্রিয়ঙ্কা ফিরলেন শুটিংয়ে, দায়িত্ববোধে।
- শুটিং ফ্লোরে প্রিয়ঙ্কা বুঝতেই দেননি কষ্টের কথা।
কলকাতা: রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Rahul Arunodoy Banerjee)-র মৃত্যুর পরে, ঝড় বয়ে গিয়েছে অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার (Priyanka Sarkar) ওপর দিয়ে। দিঘা সংলগ্ন তালসারিতে ‘ম্যাজিক মোমেন্টস’ প্রযোজনা সংস্থার ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-তে অভিনয় করছিলেন রাহুল। শ্যুটিং চলাকালীনই সমুদ্রের জলে পড়ে যান, রাহুল আর রাহুলের বিপরীতে অভিনয় করছিলেন যে অভিনেত্রী, শ্বেতা মিশ্র (Sweta Mishra)। ২ জনেই জলে পড়ে গেলেও, শ্বেতাকে বাঁচানো গিয়েছিল প্রথমেই। তবে রাহুলকে বাঁচানো যায়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট বলছে, ১ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জলের তলায় ডুবে ছিলেন রাহুল। তবে কীভাবে? কেন জলে পড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাঁচানো গেল না রাহুলকে? কেন কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই হচ্ছিল শ্যুটিং.. এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর এখনও অজানা।
অকালে অস্তাচলে অরুণোদয়
রাহুলের মৃত্যুর পরে দায়ের হয়েছে একাধিক FIR। রিজেন্ট পার্ক থানায় আর্টিস্ট ফোরামের পক্ষ থেকে একটি জিরো FIR দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি, তালসারি থানায় প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে একটি FIR দায়ের করেছেন অভিনেত্রী প্রিয়ঙ্কা সরকার। এরপরে, রাহুলের শেষকৃত্য থেকে শুরু করে ছোট্ট সহজকে আগলে রাখা, সবই একা হাতে সামলাচ্ছেন প্রিয়ঙ্কা। তবে, তিনি অভিনেত্রী। কাজের প্রতি তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। রাহুলের যখন এই দুর্ঘটনা ঘটে, তারপরেই ‘তারকাটা’-র শ্যুটে যোগ দেওয়ার কথা ছিল প্রিয়ঙ্কার। সমস্ত সামাজিক ও আইনি নিয়মবিধি মিটিয়ে, খুব কম সময়ের মধ্যেই শ্যুটিংয়ে ফেরেন প্রিয়ঙ্কা। কাজ শুরু করেন, ‘তারকাটা’ ওয়েব সিরিজটি দিয়েই।
শ্যুটিংয়ে ফিরে কেমন ছিলেন প্রিয়ঙ্কা?
এদিন প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে শ্যুটিং ছিল বিক্রম ও। কীভাবে শ্যুটিং করলেন প্রিয়ঙ্কা? বিক্রম বলছেন, ‘প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে যাঁরা এর আগে কাজ করেছে, সবাই জানে ও কতটা প্রফেশনাল। প্রযোজকের কথা ভেবে সবসময় কাজ করে ও। আমি প্রযোজক হিসেবে ওকে শুধু ধন্যবাদ জানাতে পারি যে, ও ওর পরিস্থিতির মধ্যেও শুধু কাজটাকে ভালবেসে শ্যুটিংয়ে এসেছে। আসলে জি ফাইভের ও তো একটা রিলিজ ডেট রয়েছে। আমার চোট লাগার জন্য ইতিমধ্যেই বেশ অনেকগুলো দিন শ্যুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছে। রাহুলদার মৃত্যুর সময় ও শ্যুটিং বন্ধ ছিল। তবে আমরা প্রিয়ঙ্কাকে শ্যুটিং ফিরতে বলিনি। শুধু ওকে বলেছিলাম, ও যখন কাজ করতে পারবে, আমাদের যেন জানায়। কারণ আমাদের ওয়েব প্ল্যাটফর্মকে জানাতে হত। আমি জানি, প্রিয়ঙ্কা কাজটাকে ভালবেসে, সেটার ওপর দায়িত্ববোধ থেকেই এতটা কম সময়ে শ্যুটিংয়ে ফিরেছে। ফ্লোরে একবার ও বুঝতে দেয়নি যে ওর ওপর দিয়ে একটা ঝড় বয়ে গিয়েছে।’



Post Comment