টানটান উত্তেজনায় ভরা ‘ইন্দু ৩’-এ মিলবে সব প্রশ্নের উত্তর! কেমন হল শেষ সিজন?
সবার মনে একটাই প্রশ্ন ছিল ‘ইন্দু ৩’ কবে আসবে? শেষ পর্যন্ত কি এই সিজনে সব সত্যি সামনে আসবে? নাকি কিছু বাকি রেখে দেওয়া হবে পরের সিজনের জন্য? না না যাঁরা এখনও দেখেননি তাঁদের শুরুতেই জানিয়ে রাখি এই সিজনেই কিন্তু মিলবে সব উত্তর। আর তাই বোধ হয় বাংলায় চার চারটে ছবির সঙ্গে সমান তালে তাল মিলিয়ে দর্শকদের মুখে মুখে ফিরছে ‘ইন্দু ৩’-এর কথা।
প্রথম সিজনেই ইন্দু জনপ্রিয় হয়েছিল। আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই ইন্দুও এক সাধারণ বাড়ির মেয়ে। জীবন তাকে নানা ভাবে আঘাত করেছে কিন্তু কখনও জীবনবিমুখ হয়নি সে। বিয়ে ভেঙেছে, হবু বরের সঙ্গে বোন বিয়ে করে পেতেছে সংসার। তারপর জীবন দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েও কেড়ে নিয়েছে সদ্য বিবাহিত স্বামী সৌগতকে। তবে এর মধ্য লুকিয়ে একাধিক রহস্য। নতুন শ্বশুর বাড়ি, সেখানকার মানুষজন সবই রহস্যে ঘেরা। ২০২৫-এ এসে অবশেষে পরিচালক অয়ন চক্রবর্তী ‘ইন্দু সিজন ৩’ সমস্ত রহস্যের জট খুললেন।
মাছে বিষ পাতা থেকে বিশেষ তেল, লাবনীর মৃত্যু কে, কেন, কোন উদ্দেশ্যে এই সব করছে, সব কিছুর উত্তর মিলল এই সিজনে। আর সেই সত্য উদঘাটনের পিছনে অবশ্যই রয়েছে ইন্দু। তবে সিজনের ৩-এর পরতে পরতে রহস্যর ওঠা-পড়া বেড়েছে। ফলে থ্রিলারধর্মী এই গল্প বেশি বলতে গেলেই তা হয়ে যাবে স্পয়লার। তবে এটুকু বলা যেতে পারে প্রতিটি চরিত্রের নিজস্ব গুরুত্ব আছে। তারা গল্পকে নানা ভাবে প্রভাবিত করেছে। তাই খুব সহজেই টানটান উত্তেজনায় ভরা এই থ্রিলারের সব কটা এপিসোড একসঙ্গে বসে দেখে নেওয়া যায়। কারণ এই সিরিজের টেনে রাখার সেই ক্ষমতা রয়েছে।
ইশা সাহার অভিনয় অনবদ্য। একেবারে সাবলীল ছন্দে তিনি চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। সুহোত্র মুখোপাধ্যায়ও দারুণ ভাবে নজর কেড়েছেন। চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে নিজেকে ভেঙেছেন। তাছাড়াও পায়েল দে, মানসী সিনহা ও যুধাজিৎ সরকার সবাই বেশ ভালো কাজ করেছেন। তবে এই সিজনে একজন বিশেষ ভাবে নজর কেড়েছেন তিনি হলেন মৃদুল চন্দ্র সেন। তাঁর কথা না বললেই নয়। তিনি এক কথায় দুর্দান্ত।
পরিচালনা থেকে অভিনয় সবদিক থেকেই ‘ইন্দু সিজন ৩’ বেশ ভালো। তাই পুজোর ছবির ভিড়েও নিজের স্বতন্ত্রতা বজায় রেখে দর্শকদের মনজয় করে নিয়েছে। তবে এই রহস্যে অনেকেই অনেকটা জানত, অন্ধকারে ছিল কেবল ইন্দু আর দর্শকরা। কিন্তু ইন্দুকে অন্ধকারে রেখেই হয়তো তার চোখ দিয়ে দর্শকদের টানটান উত্তেজনায় বাঁধতে চেয়েছিলেন পরিচালক। সব মিলিয়ে যাঁরা এখনও পুজোর মধ্যে ‘ইন্দু ৩’ দেখে উঠতে পারেননি, তাঁরা চটপট হইচই দেখে নিতে পারেন এই সিরিজ। শেষের ট্যুইট কিন্তু আপনাদের অবাক দেবে এটুকু বলতে পারি।



Post Comment