১৩ কোটি টাকার সোনার গয়না, ১ কোটি টাকা নগদ চুরি ! নিরুদ্দেশ SBI-এর ক্যাশিয়ার
তেলেঙ্গানা: বড়সড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনা স্টেট ব্যাঙ্কের এই শাখায়। আভ্যন্তরীণ অডিটে সম্প্রতি ধরা পড়েছে এই জালিয়াতির ঘটনা। দেখা গিয়েছে ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে চুরি হয়েছে প্রায় ১৩ কোটি টাকার সোনার গয়না (Bank Theft) আর ১ কোটি টাকা নগদ। এই ঘটনায় শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত সপ্তাহে বুধবার থেকেই শুরু হয়েছিল এই ব্যাঙ্কের শাখায় (Telengana News) আর্থিক আভ্যন্তরীণ অডিট। আর সেই অডিটের সময়েই এই শাখার কর্মকর্তারা বন্ধক (SBI Scam) রাখা সোনা ও জমা করা নগদের রেকর্ড মেলাতে গিয়ে বড় অমিল লক্ষ্য করেন। আর তখনই সামনে আসে এই বড় জালিয়াতি। তেলেঙ্গানার চেন্নুর এসবিআই ২ শাখায় ঘটেছে এই বিপত্তি।
এই ঘটনার পরে সমস্ত সন্দেহ গিয়ে পড়ে এই শাখার ক্যাশিয়ারের উপরে যিনি জয়পুর মণ্ডলের সেট্টিপল্লি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। আর তাঁকে ঘিরেই দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অডিট শুরু হওয়ার পরে পরেই তিনি নিখোঁজ হয়ে যান। গত বুধবার থেকেই সেই ক্যাশিয়ারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না, তাঁকে ফোনেও পাওয়া যাচ্ছে না। তাঁর ফোন বন্ধ হয়ে পড়ে আছে বলেই জানা গিয়েছে আর এতেই তাঁর উপর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে। আর অনেকেই ধারণা করছেন এই জালিয়াতির সঙ্গে তাঁর বড় কোনও ভূমিকা রয়েছে।
এই ঘটনায় দ্রুত ব্রাঞ্চ ম্যানেজার স্থানীয় পুলিশকে জানান এবং রামাগুণ্ডমের সিপি অম্বর কিশোর ঝা, ম্যানচেরিয়ালের ডিসিপি ভাস্কর, জয়পুরের এসিপি ভেঙ্কটেশ্বরলু এবং স্থানীয় সিআই ও এসআইদের দল তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছে, ব্যাঙ্ক ও পুলিশের তত্ত্বাবধানে এই তদন্ত চলছে। জালিয়াতির মাত্রা বুঝতে রেকর্ড, কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ, নথিপত্র ভালভাবে যাচাই করে দেখছেন। এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক কেলেঙ্কারি গ্রাহকদের ভীত করেছে। অনেকেই দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেনের জন্য এই শাখার উপরে নির্ভরশীল ছিলেন। শুক্রবারের মধ্যে চেন্নুর পরিদর্শনকারী মন্ত্রী বিবেক ভেঙ্কটস্বামী একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন দাবি করেছেন। তদন্তের সময় আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে জুলাই মাসে এভাবেই ফরিদকোটের সাদিকে একটি স্টেট ব্যাঙ্কের শাখায় গ্রাহকদের ফিক্সড ডিপোজিট ভেঙে ৫ কোটি টাকা লুটের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছিল। ফরিদকোটের সাদিকে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার শাখায় গিয়ে পরপর বেশ কয়েকজন গ্রাহক চমকে যান। তাদের অ্যাকাউন্টে জমানো টাকার একটিও নেই, সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। প্রবীণ গ্রাহক ও মহিলাদের অ্যাকাউন্ট থেকেও সব টাকা তুলে ফেলা হয়েছে। জানা গিয়েছিল যে ৭০ জন গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা লুট করে পালিয়েছেন ব্যাঙ্ককর্মী।



Post Comment