Kali Puja 2026: মানত করলেই মেলে চাকরি? ৮৬ বছরের ‘সার্ভিস কালী’ ঘিরে অবাক করা বিশ্বাস… কোন মন্দির?
Last Updated:
Kali Puja 2026: কথায় আছে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। সেই বিশ্বাসের টানেই প্রতি বছর অসংখ্য যুবক-যুবতী সোনামুখীর সার্ভিস কালীমন্দিরে হাজির হন। কেউ সরকারি চাকরির আশায়, কেউ আবার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রার্থনা নিয়ে মায়ের কাছে মানত করেন।
সোনামুখী, বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: কালীমন্দিরে মানত করলেই কি মেলে সরকারি চাকরি? শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও বাঁকুড়ার সোনামুখীর ‘সার্ভিস কালী’ মন্দিরকে ঘিরে এমনই এক জনশ্রুতি প্রচলিত রয়েছে। চাকরির আশায় বছরের পর বছর ধরে এই মন্দিরে ছুটে আসেন অসংখ্য বেকার যুবক-যুবতী। তাঁদের বিশ্বাস, মায়ের কাছে মন থেকে মানত করলে বিফলে যায় না সেই প্রার্থনা। কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে ভক্তদের ঢল নামবে বলেই প্রত্যাশা। জনশ্রুতি রয়েছে, এর আগে মানত করে বহু মানুষ চাকরি পেয়েছেন। এ বছর কালীপুজোতেও তাঁরাও মায়ের কাছে পুজো দিতে আসবেন বলে জানা গিয়েছে। তাই চাকরির আশায় নতুন করে মানত করতে বহু মানুষের সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে এই মন্দিরে।
বাঁকুড়া জেলার অন্যতম প্রধান কালীক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত প্রাচীন পৌরশহর সোনামুখী। শহরের অলিগলি মিলিয়ে ছোট-বড় প্রায় আড়াইশো কালীপুজো হয় এখানে। সেই সমস্ত পুজোর মধ্যে বিশেষ পরিচিতি রয়েছে ধর্মতলার ‘সার্ভিস কালী’র। প্রায় ৮৬ বছরের প্রাচীন এই পুজোর নামকরণের পিছনেও রয়েছে মজার কাহিনি। পুজো কমিটির এক সদস্যের কথায়, একসময় এক ব্যক্তি বাসের লাইসেন্স পাওয়ার জন্য দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও সফল হচ্ছিলেন না। অবশেষে কালীমায়ের কাছে মানত করেন। তাঁর সেই কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর থেকেই মায়ের নামের সঙ্গে জুড়ে যায় ‘সার্ভিস’ শব্দটি। তবে এই নামের পিছনে আরও একটি জনপ্রিয় জনশ্রুতি রয়েছে।
স্থানীয়দের প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, ১৯৪০ সালের আশপাশে সোনামুখী শহরের ধর্মতলায় কয়েকজন যুবক মিলে কালীপুজোর আয়োজন শুরু করেন। সেই সময় তাঁরা প্রত্যেকেই বেকারত্বের সমস্যায় জর্জরিত ছিলেন। জীবনে একটি চাকরির আশায় তাঁরা কালীমায়ের কাছে মানত করেন। পরবর্তীতে তাঁদের চাকরি হলে মায়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে আরও ধুমধাম করে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই থেকেই ধর্মতলার এই কালীপুজোর নাম হয়ে যায় ‘সার্ভিস কালী’। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই জনশ্রুতি ছড়িয়ে পড়ে দূরদূরান্তে। চাকরিপ্রার্থীদের কাছে মন্দিরটি হয়ে ওঠে বিশেষ বিশ্বাসের জায়গা।
কথায় আছে, বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর। সেই বিশ্বাসের টানেই প্রতি বছর অসংখ্য যুবক-যুবতী সোনামুখীর সার্ভিস কালীমন্দিরে হাজির হন। কেউ সরকারি চাকরির আশায়, কেউ আবার জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রার্থনা নিয়ে মায়ের কাছে মানত করেন। তবে মানতের পাশাপাশি তাঁদের জীবনে চলে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দীর্ঘ প্রস্তুতি। চাকরি পাওয়ার পর অনেকেই ফিরে আসেন মায়ের কাছে কৃতজ্ঞতা জানাতে। বিশ্বাস আর আত্মবিশ্বাসের এই মেলবন্ধনই সার্ভিস কালীকে ঘিরে তৈরি করেছে আলাদা আবেগ। তাই কালীপুজোর রাতে সোনামুখীর এই মন্দিরে শুধু পুজো নয়, জমায়েত হবে হাজার হাজার চাকরিপ্রার্থীর স্বপ্ন, আশা আর প্রার্থনা।
Post Comment