Agriculture Tips: স্বাস্থ্য রক্ষায় ‘স্পেশাল টিপস’ দিলেন কৃষিমন্ত্রী, জোর প্রাচীন ব্যবস্থায়! সারের কালোবাজারি রুখতে আল্টিমেটাম
Last Updated:
Agriculture Tips: রাসায়নিক মুক্ত অর্গানিক চাষ এবং দেশি ধানের জাত সংরক্ষণে বিশেষ বার্তা দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী! নির্ধারিত এমআরপি-র বেশি দামে সার বিক্রি করলে ডিলারদের লাইসেন্স বাতিলের কড়া হুঁশিয়ারি। অর্গানিক ফার্মিং ও সার বিক্রির নতুন নিয়ম জানুন।
ফুলিয়া, মৈনাক দেবনাথ: প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে জোর দেওয়ার পাশাপাশি দেশি ধানের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর বার্তা দিলেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী। কৃষিক্ষেত্রে প্রাচীন পদ্ধতির পুনরুজ্জীবন ঘটিয়ে আগামী প্রজন্মকে সুস্থ পরিবেশ ও নিরাপদ খাদ্য উপহার দেওয়ার উপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে কৃষকদের ন্যায্য মূল্যে সার পাওয়া নিশ্চিত করতে এবং ভর্তুকির সুবিধা যাতে কোনওভাবেই বেহাত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেছেন কৃষিমন্ত্রী।
কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যের কৃষি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলিতে দীর্ঘদিন ধরেই দেশি ধানের বিভিন্ন প্রজাতি সংরক্ষিত রয়েছে। এই সম্পদকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে এর প্রচার আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তাঁর মতে, প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ধীরে ধীরে চাষাবাদের পদ্ধতি শিখেছে এবং দেশি ধানের বিভিন্ন প্রজাতির চাষ করে খাদ্যের চাহিদা মিটিয়েছে। সেই সময়ের চাষাবাদে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। ফলে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষের ঐতিহ্যকে আবার ফিরিয়ে আনার প্রয়োজন রয়েছে।
কৃষিমন্ত্রীর দাবি, বর্তমানে জেনে বা না জেনে রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে মানুষের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। আগামী দিনে এই ক্ষতির আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে। তাই কৃষকদের প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এই বিষয়ে সচেতন করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, আগামী প্রজন্মের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কৃষিক্ষেত্রে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতির প্রসার অত্যন্ত জরুরি।
অন্যদিকে, সার বিক্রির ক্ষেত্রে একাংশের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন কৃষিমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ডিলার, রিটেলার, হোলসেলার এবং সংস্থা কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে তাঁদের আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এখন কৃষকেরা বুঝতে পারছেন, নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরো মূল্য বা এমআরপি অনুযায়ী সার বিক্রি করা বাধ্যতামূলক। নিয়ম না মানলে সংশ্লিষ্ট দোকানদারের লাইসেন্স বাতিলের মতো পদক্ষেপও করা হতে পারে।
এই নিয়ম কার্যকর করতে কৃষি দফতরের আধিকারিকদের পাশাপাশি কৃষকদেরও সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র সরকারের দেওয়া ভর্তুকিমূল্যের সার যেন কোনও অসাধু চক্র কৃষকদের কাছ থেকে কেড়ে নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করাই এখন অন্যতম লক্ষ্য। প্রাকৃতিক চাষের প্রসার এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষার মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও টেকসই ব্যবস্থা গড়ে তোলার বার্তাই দিয়েছেন রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী।
Post Comment