Money Making Ideas: উৎসবের মরশুমে নতুন আশার আলো, সংসার সামলে ‘এই’ কাজ করে মোটা টাকা আয় বাড়ির মহিলাদের
Last Updated:
Money Making Ideas: সংসারের দায়িত্ব সামলেও বাড়তি আয় করতে চান? উৎসবের মরশুমে এই কাজ করে মোটা টাকা রোজগারের সুযোগ পাচ্ছেন বাড়ির মহিলারা। জেনে নিন কীভাবে শুরু করবেন এবং কত টাকা আয় হতে পারে।
কেতুগ্রাম, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: অভাবের সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় শুধু স্বামীর রোজগারের দিকে তাকিয়ে থাকা নয়, নিজেদের হাতেই স্বনির্ভরতার পথ তৈরি করছেন গ্রামের মহিলারা। দীপাবলির আগে লাল কাপড় কেটে তৈরি করছেন একের পর এক জবা ফুল। তারপর সেই ফুল সুতোয় গেঁথে বানাচ্ছেন পরিবেশবান্ধব মালা। পূর্ব বর্ধমানের কেতুগ্রামের শাঁখাই গ্রামের এই মহিলাদের হাতে তৈরি জবার মালা এখন ভাগীরথী পেরিয়ে পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন বাজারে।
সংসারের টানাপোড়েন সামলে তাঁদের এই লড়াই যেন উৎসবের মরশুমে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। গ্রামের বাসিন্দা মিনতি বর্মণ বলেন, “অবসর সময়ে এই কাজ আমরা করি, দু পয়সা এখান থেকেই উপার্জন হয়। স্বামীদের কাছেও আমাদের হাত পাততে হয়না।”ভাগীরথীর পাড়ে অবস্থিত শাঁখাই গ্রামের বর্মনপাড়ায় প্রায় ৫০টি পরিবারের মহিলারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত। গ্রামের অনেক পরিবারের পুরুষ সদস্যই কাজের সন্ধানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে সংসারের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি রোজগারের পথও বেছে নিয়েছেন বাড়ির মহিলারা।
সারা বছর বিভিন্ন পুজো উপলক্ষে কাপড়, পাট, জরি, রেশম সুতো ও শিট পেপার দিয়ে তৈরি করেন নানা ধরনের মালা। তবে কালীপুজো ও দীপাবলির আগে লাল জবার মালার চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। নির্দিষ্ট মাপে লাল কাপড় কেটে প্রথমে ফুল তৈরি করা হয়। এরপর একের পর এক ফুল সুতোয় গেঁথে তৈরি হয় মালা।শিল্পীদের তৈরি এই মালা পাইকারি দরে মূলত দশকর্মা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি হয়। এক ডজন মালার দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। কাজের চাপ অনুযায়ী একজন শিল্পী দিনে ২৫ থেকে ৫০ ডজন পর্যন্ত মালা তৈরি করতে পারেন।
শাঁখাই থেকে নৌকায় ভাগীরথী পেরিয়ে সেই মালা প্রথমে কাটোয়ায় পৌঁছয়। সেখান থেকে ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন বাজারে। প্লাস্টিকের তৈরি ফুলের বদলে কাপড়ের মালার প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন শিল্পীরা। তবে কাপড়, সুতো ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি সহায়তার অভাব তাঁদের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তবুও থেমে নেই তাঁদের কাজ। কারণ এই মালার প্রতিটি ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সংসারের বাড়তি আয়ের স্বপ্ন। দীপাবলিতে অন্যের ঠাকুরঘর সাজানোর পাশাপাশি যেন নিজেদের ঘরেও প্রদীপের আলো জ্বালাতে চান শাঁখাইয়ের এই মহিলারা।
Post Comment