ইডেনে ভয়ঙ্কর শামি, ছিটকে দিলেন পৃথ্বী শয়ের স্টাম্প, টি ব্রেকে মহারাষ্ট্রের স্কোর ২১/২

সন্দীপ সরকার, কলকাতা: বেলা গড়াতেই কলকাতার আকাশ ঢাকল মেঘে। সল্ট লেকে, নিউটাউনের মতো কয়েক জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলেও খবর পৌঁছে গেল ইডেনে গার্ডেন্সে।

মেঘলা আবহাওয়া, নতুন বল আর প্রথম দিনের পিচ মিলিয়ে মহম্মদ শামি যে কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন, সোমবার ফের তা প্রমাণিত হল ইডেনে। বল হাতে হাই কোর্ট এন্ড থেকে আগুন ছোটালেন ডানহাতি ফাস্টবোলার। ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করছেন। তবু জাতীয় দলে দিনের পর দিন ব্রাত্য। বাংলার হয়ে নিজেকে নিংড়ে দিচ্ছেন। ভেতরে সাফল্যের খিদে যে এখনও বেঁচে রয়েছে, ফের একবার দেখিয়ে দিলেন শামি। 

সোমবার লাঞ্চের পর যখন বাংলার প্রথম ইনিংস মাত্র ১৪৩ রানে গুটিয়ে গেল, তখন প্রত্যাঘাতের জন্য শামির দিকেই তাকিয়ে ছিলেন অভিমন্যু ঈশ্বরণ। হতাশ করেননি শামি। ৪ ওভের স্পেলে আগুন ঝরালেন। ১টি মেডেন সহ মাত্র ৬ রান খরচ করে নিলেন ২ উইকেট। 

পরপর ২টি উইকেট তুললেন নিজের চতুর্থ ওভারের প্রথম দুই বলে। প্রথম বলেই ছিটকে দিলেন পৃথ্বী শয়ের অফস্টাম্প। গুড লেংথ স্পটে পড়ে চকিতে ভিতরে ঢুকে এসেছিল বল। পৃথ্বীর ব্যাট-প্যাডের ফাঁক দিয়ে ঢুকে তা ভেঙে দিল অফস্টাম্প। দিনের সেরা ডেলিভারি, নিঃসন্দেহে।

তবে ঘাতক শামির সেই শেষ নয়। পরের বলেই তিন নম্বরে নামা দিগ্বিজয় পাটিলের উইকেট তুলে নিলেন শামি। বল আছড়ে পড়ল দিগ্বিজয়ের প্যাডে। জোরাল আবেদনে আঙুল তুলে দিলেন আম্পায়ার। হ্যাটট্রিকের গন্ধ পেয়েছিলেন শামি। তবে তাঁর ওভারের তৃতীয় বলটি কোনওমতে ঠেকিয়ে দিলেন অঙ্কিত বাওনে। হ্যাটট্রিক হল না।

শামির স্পেলই ম্যাচে ফিরিয়েছে বাংলাকে। মহারাষ্ট্রের স্কোর তখন ৮ ওভারে ২১/২, আলো কমে আসায় খেলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেন আম্পায়াররা। ক্রিজে রয়েছেন বাওনে (২ ব্যাটিং) ও সিদ্ধেশ বীর (৭ ব্যাটিং)। ঘড়িতে তখন ১.৫২। সেই সময়ই চা পানের বিরতি নেওয়ার কথা ঘোষণা করেন আম্পায়াররা। যাতে সময় নষ্ট না হয়। যদিও ম্যাচ কখন শুরু হবে, আগৌ হবে কি না, ধন্দ থাকছে।

প্রথমে ব্যাট করে অবশ্য ভরাডুবি হয় বাংলার। মাত্র ১৪৩ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলার প্রথম ইনিংস। একমাত্র অভিষেক পোড়েল আর কিছুটা প্রদীপ্ত প্রামাণিক ছাড়া আর কেউই ব্যাট হাতে লড়াই করতে পারেননি। পোড়েল ৫৪ রান করেন। ৩১ রান করেন প্রদীপ্ত।

Post Comment

You May Have Missed