Agnimitra Paul: দামোদরের রেলসেতুর পিলারের গোড়ায় মাটি সরে যাওয়ার আশঙ্কা, নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে রেল মন্ত্রককে চিঠি অগ্নিমিত্রার
Last Updated:
Agnimitra Paul: বালি চুরিতে বিপন্ন ব্রিটিশ আমলের রেলসেতু! দামোদরের সেতু পরিদর্শনের দাবি অগ্নিমিত্রা পালের।
আসানসোল: আসানসোল ও পুরুলিয়ার আদ্রার মধ্যে রেল যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম দামোদর নদের উপর অবস্থিত ব্রিটিশ আমলের রেলসেতু। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন শতাধিক যাত্রীবাহী ও পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিনের পুরনো এই রেলসেতুর নিরাপত্তা নিয়ে এবার উদ্বেগ প্রকাশ করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেতুর পিলারের গোড়া থেকে মাটি সরে যাওয়ায় এর স্থায়িত্ব এবং ভার বহনের ক্ষমতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে রেল মন্ত্রককে চিঠি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মন্ত্রী।
অগ্নিমিত্রার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুর আশপাশে বেআইনিভাবে বালি তোলার ফলে পিলারের গোড়ার মাটি সরে গিয়েছে। সম্প্রতি এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে সেতুর এই বেহাল পরিস্থিতি তাঁর নজরে আসে। তাঁর কথায়, রাজ্যে তাঁদের সরকার আসার আগেও, প্রায় দু’বছর আগে এই সেতুর খারাপ অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। বর্তমানে সেতুর অবস্থা দেখে আতঙ্কিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন মন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, অতিরিক্ত বালি চুরির কারণে সেতুর নিচের অংশের মাটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদেরও অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সেতুর আশপাশে বালি তোলা হয়েছে। পাশাপাশি রেলের নজরদারির অভাবেও পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাঁদের মতে, একদিকে রেল বিভিন্ন স্টেশনের আধুনিকীকরণে জোর দিচ্ছে, অন্যদিকে গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন।
এই ঘটনায় রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকারের আমলে লাগাতার বালি খননের কারণেই সেতুর এই বেহাল দশা হয়েছে। বিষয়টি তৎকালীন রাজ্য সরকারকে জানানো হলেও কোনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। পাল্টা তৃণমূলের প্রশ্ন, দু’বছর আগেও কেন্দ্রে বিজেপির সরকার ছিল। তাহলে সেই সময় রেল মন্ত্রককে বিষয়টি জানানোর পরেও কেন কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি? তবে মন্ত্রী এখন বিষয়টি নিয়ে উদ্যোগী হয়েছেন, তা ভালো পদক্ষেপ বলেই মনে করছে তৃণমূল।
অন্যদিকে, বিষয়টি রেলের নজরে আসার পর দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত সেতুটি পরিদর্শন এবং প্রয়োজনীয় মেরামতির ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এখন সেতুর প্রকৃত অবস্থা খতিয়ে দেখে রেল কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই তাকিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীপক শর্মা

Post Comment