Rachana Banerjee on Indranil Sen: ইন্দ্রনীল সেনের ‘পারমিশন’ পেলে তবেই চন্দননগরে ঢুকতে পারতেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়়! চুঁচুড়ায় দাড়িয়ে বিস্ফোরক হুগলির সাংসদ
Last Updated:
Rachana Banerjee: ‘‘আমি বেশি কিছু মন্তব্য করব না। পুলিশ তাদের কাজ করেছে। ওঁকে (ইন্দ্রনীলকে) আমি খুব ভাল করে চিনতামও না। হতে পারে উনি আমার এলাকার বিধায়ক ছিলেন। কিন্তু আমি সে ভাবে কখনও চন্দননগরে যেতে পারিনি। কারণ, উনি পছন্দ করতেন না। চাইতেন না যে, ওঁর আমন্ত্রণ ছাড়া আমি সেখানে যাই।’’
চুঁচুড়া, সোমনাথ ঘোষ: একই দলের সাংসদ এবং বিধায়ক। তা-ও বিধায়কের ‘আমন্ত্রণ’ ছাড়া সাংসদ পা রাখতে পারতেন না চন্দননগরে৷ কারণ, ‘‘তিনি পছন্দ করতেন না৷’’ চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ লাইনে বিজয়া সম্মেলনে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশের বিজয়া সম্মেলন এসে বললেন, ‘‘এই প্রথমবার আমার রাজনৈতিক জীবনে এমন একটি অনুষ্ঠানে প্রথম যোগদান করে ভালো লাগল।’’
প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার লোকসভার মধ্যে তিনি বিধায়ক হলেও, তাঁর সঙ্গে সেই ভাবে কাজ করা হয়ে ওঠেনি, কিন্তু তাঁর বিধানসভায় কোনও অনুষ্ঠানে যেতে হলে, তাঁর অনুমতি নিয়েই যেতে হত৷’’ চন্দননগরে কোনও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে গেলে তাঁর অনুমতি ক্রমেই সেই আমন্ত্রণ পেতেন বলেও অভিযোগ করেন সাংসদ। তিনি বলেন, তাঁদের দলের কর্মীরাই এই বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলেন।
রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি এখন অন্য দলের সংসদ তাই বিগত দলের বিধায়ক নিয়ে আমি সেইভাবে কোনও মন্তব্য করতে চাই না, আইন বিষয় নিয়ে আদালতে রায় চূড়ান্ত। শিল্পী হিসেবে ইন্দ্রনীল সেন যখন গায়ক ছিলেন তাঁর অনেক ক্যাসেট বিক্রি হয়েছে।’’ শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন গায়ক হিসেবে ভালো ছিলেন বলে উল্লেখ করেন হুগলির সাংসদ।
চন্দননগরের বিধায়ক দীপাঞ্জন গুহ তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘কাল আমি যেটা জানতে পেরেছি জগদ্ধাত্রী পুজোর জন্য, যে গ্রান্ট আসত আলাদা আলাদা ডিপার্টমেন্টর, সেখান থেকেও বিধায়ক অফিস থেকে বসে আগে টাকা নেওয়া হতো, তারপর চেক দেওয়া হতো৷ এরকম প্রচুর অত্যাচার করা হয়েছে। আজ মানুষ ভাবুক একই পার্টির বিধায়ক তাঁর সাংসদকে তার বিধানসভায় ঢুকতে দিত না, সে কী রকম ধরনের বিধায়ক ছিল।’’
শ্রম দফতর ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের মন্ত্রী ভাস্কর ভট্টাচার্য তৃণমূলের প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘তদন্ত হবে তদন্তর এগোচ্ছে তদন্তের মাধ্যমে আপনারা অনেক কিছু দেখতে পাবেন অনেক কিছু সামনে আসবে আগামী দিনে। আমরা প্রথম থেকে যে দুর্নীতির কথা বলে এসেছি সেই দুর্নীতই প্রমাণিত হবে আগামী দিনে। এখন তো তারা অভিযুক্ত আগামী দিনে এটা প্রমাণিত হবে। হুগলি সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কী বলেছেন, সেটা তাঁর ব্যাপার, তাঁর উপলব্ধি থেকে তিনি বলেছেন৷ তিনি প্রাক্তন মন্ত্রী তথা চন্দননগরের প্রাক্তন বিধায়কের বিষয় নিয়ে আগে কেন বলেননি? এখন কেন বলছেন সেটা তাঁকেই বলতে হবে। তবে তিনি যদি এখন মনে করেন পরিবর্তন হয়েছে এখন তিনি কিছু বলতে পারবেন তিনি স্বতন্ত্রভাবে নিজের ব্যক্তিত্বকে সামনে নিয়ে যেতে পারবেন সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।’’

Post Comment