Money Making Tips: চিনা খেলনাকে টেক্কা দিয়ে রমরমিয়ে ব্যবসা, ফেলনা সামগ্রী দিয়েই ঘরে বসে লক্ষ্মীলাভ! দিশা দেখাচ্ছে বাঁকুড়ার এই পরিবার

Last Updated:

Money Making Tips: কাগজ, পিচবোর্ড আর বাঁশের কায়দায় তৈরি হচ্ছে ‘মাথা নাড়া’ হাতি-সিংহ! মাত্র ৬০-৭০ টাকায় বাজারে দেদার বিক্রি। কম পুঁজিতে দারুণ ব্যবসার পথ দেখাচ্ছে বাঁকুড়ার চন্দ পরিবার।  অভিনব পুতুল দিয়েই আয়ের পথ খুঁজে নিয়েছে বাঁকুড়ার এই পরিবার।

+

কাগজের এই পুতুল তৈরি করে আয় করছে বাঁকুড়ার চন্দ পরিবার

বাঁকুড়া, নীলাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: টুকটুক করে নড়ছে মাথা, রঙিন চেহারায় মন কেড়ে নিচ্ছে ছোটদের! কাগজ আর পিচবোর্ড দিয়ে তৈরি এই পুতুলগুলি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনই রয়েছে নিজস্ব মৌলিকতা। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, হাতি আর সিংহের মাথা যেন আপনমনেই দুলছে। সামান্য হাওয়া কিংবা একটু ধাক্কা লাগলেই নড়ে উঠছে পুতুলের মাথা। বাঁকুড়ার বুকে তৈরি হচ্ছে এমনই অভিনব পুতুল, যা সহজেই নজর কাড়ছে শিশুদের। রঙিন এই পুতুলগুলির বিশেষত্ব হল, সাধারণ উপকরণ ব্যবহার করেই শিল্পীরা ফুটিয়ে তুলছেন অসাধারণ সৃজনশীলতা। দেখতে মিষ্টি এই পুতুলগুলি শুধু শিশুদের কাছেই আকর্ষণীয় নয়, লোকশিল্পের বৈচিত্র্যকেও তুলে ধরছে।

বাঁকুড়া শহরের মৌলাডাঙ্গার চন্দ পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মাটির কাজের সঙ্গে যুক্ত। পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে মিলে তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের হাতি ও সিংহের পুতুল। কাগজ এবং পিচবোর্ড দিয়ে প্রথমে তৈরি করা হয় পুতুলের দেহ। এরপর কাগজ দিয়েই বানানো হয় হাতি ও সিংহের মাথা। দেহের সঙ্গে মাথার সংযোগ স্থাপনের জন্য ব্যবহার করা হয় বাঁশের ছোট টুকরো। সেই সঙ্গে মাটির সাহায্যে পুতুলের পিছনের অংশ ভারী করা হয়। এই বিশেষ নির্মাণকৌশলের কারণেই সামান্য নড়াচড়ায় মাথা দুলতে থাকে পুতুলগুলির। সাধারণ উপকরণের এমন অভিনব ব্যবহারে তৈরি হচ্ছে এক বিশেষ ধরনের হস্তশিল্প।

আরও পড়ুন: বেহাল রাস্তার অবস্থা, খাটিয়ায় চাপিয়ে নিয়ে যেতে হয় রোগী! রিপোর্ট চাইল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর

চন্দ পরিবারের সদস্যদের কাছে এই পুতুল তৈরি শুধু শিল্পচর্চা নয়, উপার্জনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। সারা বছর মাটির কাজ করার পাশাপাশি তাঁরা বিশেষ সময়ে এই পুতুল তৈরি করেন। পরিবারের মহিলা শিল্পী জানান, “পয়সার জন্য না , ভাল লাগে বলে করি । মাত্র ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হয় পুতুলগুলি।” এক একটি পুতুলের দাম রাখা হয়েছে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে। তুলনামূলক কম দামে রঙিন ও আকর্ষণীয় এই পুতুল কিনতে পারেন সাধারণ মানুষ। পরিবারের সকলে মিলে তৈরি করেন বলে কাজের প্রতিটি ধাপেই থাকে তাঁদের পরিশ্রম ও দক্ষতার ছাপ।

আরও পড়ুন: দেবীর কালীর এই রূপের সহজে দেখা মেলে না, ধবধবে সাদা রূপে আরাধনা ভবতারিণীর! ঠিকানা জেনে ঘুরে আসুন

বাঁকুড়া জেলায় বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে নানা ধরনের শিল্প ও হস্তশিল্পের পরিচয় পাওয়া যায়। চন্দ পরিবারের তৈরি এই নড়ন্ত মাথার হাতি ও সিংহের পুতুলও সেই উৎসবকেন্দ্রিক শিল্পেরই একটি বিশেষ উদাহরণ। কাগজ, পিচবোর্ড, বাঁশ ও মাটির মতো সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি এই পুতুলগুলি একদিকে যেমন শিশুদের আনন্দ দেয়, অন্যদিকে তেমনই স্থানীয় শিল্পীদের আয়ের সুযোগ তৈরি করে। আধুনিক খেলনার ভিড়েও নিজস্ব বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে রয়েছে এই ধরনের সৃজনশীল কাজ। চন্দ পরিবারের হাত ধরে বাঁকুড়ার এই শিল্পকর্ম প্রমাণ করছে, সামান্য উপকরণ আর দক্ষ হাতের ছোঁয়াতেই তৈরি হতে পারে এমন কিছু, যা সহজেই মানুষের মন জয় করে নেয়।

Previous post

‘মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর রাখছে, ১৮০ জনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে’, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মন্ত্রীর

Next post

কামব্যাকে অনবদ্য ময়ঙ্ক, ইতিহাস গড়লেন অর্শদীপ, তাও ফিলিপ্সের শতরানে রানের পাহাড়ে নিউজ়িল্যান্ড

Post Comment

You May Have Missed