Eco Friendly Business: বন্যার মার, সস্তা প্লাস্টিকের দাপট! তবুও জলাশয়ের ঘাস বুনে সংসার টানছেন খড়িয়া মহিলারা
Last Updated:
Eco Friendly Business: প্লাস্টিকের ভিড়ে বিলুপ্তির পথে হলেও জলাশয়ের বিশেষ ‘খড়ি’ ঘাস দিয়ে তৈরি হস্তশিল্প আঁকড়ে বেঁচে আছেন পটাশপুরের খড়িয়া জনজাতির মহিলারা। প্লাস্টিককে টেক্কা দিয়ে পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরিতে নজর কাড়ছেন তাঁরা। তবে কঠিন হচ্ছে সংগ্রাম।
সৈকত শী, পটাশপুর: প্লাস্টিকের চকচকে সস্তা বাজারে যখন চারপাশ ছয়লাপ, ঠিক তখনই জলের জমি বা জলাশয়ের এক বিশেষ ঘাসকে সম্বল করে বেঁচে থাকার লড়াইতে অবিচল পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর ১ ব্লকের পালপাড়ার খড়িয়া জনজাতির মহিলারা। আধুনিকতার জোয়ারে যখন বহু প্রাচীন হস্তশিল্প হারিয়ে যাওয়ার মুখে, তখন বংশপরম্পরায় চলে আসা এই পেশাকেই নিজেদের রুটি-রোজগারের একমাত্র মাধ্যম করে রেখেছেন এই জনজাতির অন্তত ৪৫টি পরিবার। নিচু জমিতে জন্ম নেওয়া সেই ঘাস, যা স্থানীয় ভাষায় ‘খড়ি’ নামে পরিচিত, তা দিয়েই নিখুঁত নিপুণ হাতে তৈরি হচ্ছে গৃহস্থালির নানা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থেকে শুরু করে আধুনিক ঘরের আকর্ষক সাজসজ্জার সামগ্রী।
পূর্বপুরুষদের আমল থেকে চলে আসা এই ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে খড়িয়া জনজাতির জীবন ও জীবিকা। কারণ, এই সম্প্রদায়ের অধিকাংশ পরিবারেরই নিজস্ব কোনও চাষযোগ্য জমিজমা নেই। ফলে বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল হিসেবে তাঁরা বেছে নিয়েছেন এই হস্তশিল্পকেই। জলাশয় বা নিচু জলজমি থেকে কেটে আনা খড়ি শুকিয়ে, তা নানা নকশায় বুনে তৈরি করা হয় ঝুড়ি, মাছ রাখার খই, নানা আকারের ডালা এবং চোখ জুড়ানো ঘর সাজানোর নানা শৌখিন উপকরণ। প্রতিটি সামগ্রীর বুননে যেমন রয়েছে নিখুঁত কারিগরি, তেমনই রয়েছে গ্রামীণ সংস্কৃতির এক গভীর ছোঁয়া।
তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আধুনিকতার রমরমা এই পেশার পথকে অনেকটাই কণ্টকাকীর্ণ করে তুলেছে। বাজারে সস্তা প্লাস্টিক ও সিন্থেটিক পণ্যের কদর বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী খড়ির তৈরি জিনিসপত্রের বিক্রি মারাত্মকভাবে কমেছে। সেই সঙ্গে পরপর বন্যার কারণে নষ্ট হয়েছে খড়ি। ফলে কাজ করতে গিয়ে সমস্যা দেখা যাচ্ছে। কিন্তু সব সমস্যা মাথায় রেখে নিজেদের পক্ষ থেকে ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছেন তাঁরা। এ বিষয়ে এক মহিলা বলেন, “একসময় বাড়ির ছেলেরা এসব বানাতেন। কিন্তু এতে রোজকার কম। এখন আমরা এই খড়ি দিয়ে জিনিসপত্র বানাচ্ছি l তাতে আমাদের হাতে কিছু টাকা আসছে, যা সংসারের কাজে লাগছে।”
পরিবেশবান্ধব ও বায়ো-ডিগ্রেডেবল পণ্যের যখন বিশ্বজুড়ে কদর বাড়ছে, তখন খড়িয়া জনজাতির এই শিল্প বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন অনেকে। প্লাস্টিক বর্জন করে মানুষ যখন প্রকৃতির কাছাকাছি ফিরতে চাইছে, ঠিক সেই মুহূর্তে পটাশপুরের এই হস্তশিল্প নতুন আশার আলো দেখাতে পারে বলে তাঁদের ধারণা। খড়িয়া জনজাতির এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প কেবল তাঁদের রুটি-রোজগারের পথই প্রশস্ত করবে না, বরং আমাদের ঐতিহ্য ও পরিবেশকে রক্ষা করার ক্ষেত্রেও এক অনন্য মাইলফলক হয়ে উঠবে।
Post Comment