Jio IPO-র মঞ্চে দাদু ধীরুভাই আম্বানির অধ্যবসায় ও ডিজিটাল ভারতের স্বপ্নের কথা স্মরণ অনন্ত আম্বানির
অনন্ত আম্বানি বলেন, “আজকের দিনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি শব্দ দিয়েই আমি শুরু করতে চাই। কৃতজ্ঞতা। জিওর উপর বিশ্বাস রেখেছেন এবং আজকের দিনটিকে সম্ভব করে তুলেছেন যে লক্ষ লক্ষ মানুষ, তাঁদের প্রতি আমাদের কৃতজ্ঞতা। আজ শেয়ার বাজারের ঘণ্টাধ্বনি আমার কাছে মন্দিরের ঘণ্টার মতো শোনাবে। কারণ, আমার কাছে ব্যবসা মানেই পুজো। আজ জিওকে ভারতের মানুষের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার দিন।”
অনন্ত বলেন, “বহু বছর আগে গুজরাতের চোরওয়াড়ের একটি সাধারণ বাড়িতে জন্ম নিয়েছিল একটি স্বপ্ন। এক তরুণ এক সময় এডেনে পেট্রল পাম্পে কাজ করতেন। তাঁর কাছে ছিল না টাকা, ছিল না কোনও পরিচিতি। তিনিই আমাদের শ্রদ্ধেয় দাদু, শ্রী ধীরুভাই আম্বানি। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন, একজন সাধারণ ভারতীয়ও অসাধারণ স্বপ্ন দেখতে পারেন। এরপর আমাদের বাবা নিজের একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল, ভারত যেন কখনও কারও থেকে পিছিয়ে না থাকে। জামনগরের অনুর্বর জমিতে তিনি তৈরি করেছিলেন এমন একটি শোধনাগার, যা পরবর্তীকালে বিশ্বের বৃহত্তম শোধনাগারে পরিণত হয়। তিনি আমাদের দেখিয়েছেন, ভারত যখন কিছু তৈরি করে, তখন গোটা বিশ্ব সেদিকে নজর দেয়। এরপর এলো নতুন ভারত, নতুন প্রজন্মের ভারত। জন্ম নিল আরও একটি স্বপ্ন—প্রত্যেকের হাতে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া, প্রতিটি গ্রামের মানুষের কাছে গোটা বিশ্বকে পৌঁছে দেওয়া। সেই স্বপ্নেরই নাম জিও।”
অনন্ত বলেন, “ইশা দিদি এই স্বপ্নের বীজ বপন করেছিলেন। আর আকাশ ভাই সেই স্বপ্নকে নিজের স্বপ্ন করে নিয়েছিলেন। গোটা দেশ আশীর্বাদে ভরিয়ে দিয়েছে জিওকে। হয়তো জিওই বিশ্বের প্রথম নাম, যার মধ্যেই আশীর্বাদের অর্থ লুকিয়ে রয়েছে। যখন গোটা বিশ্ব থমকে গিয়েছিল, তখন স্কুল বন্ধ হয়ে গেলেও পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। জিওর সংযোগের সাহায্যে পড়ুয়ারা বাড়িতে বসেই পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পেরেছে। এক ছেলে কাজের জন্য শহরে চলে গিয়েছে, কিন্তু মায়ের থেকে সে কখনও দূরে চলে যায়নি। ভিডিও কলে ছেলের মুখ দেখেই মা বলে দিতে পারতেন, রান্না হতে আর কতক্ষণ লাগবে। সবজির রং দেখেই তিনি বুঝিয়ে দিতেন, সেগুলি আর কতক্ষণ রান্না করতে হবে। আজ আমরা বাড়িতে বসেই ঈশ্বরের আশীর্বাদ পাওয়ার এবং তাঁর পবিত্র দর্শন করার সুযোগ পাচ্ছি। এর জন্যও আমরা কৃতজ্ঞ।”
“এক ছোট শহরের মেয়ে, যার কাছে ছিল শুধু একটি মোবাইল ফোন, কথা বলতে শুরু করেছিল। কিছুদিনের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ তার কথা শুনতে শুরু করেন। আজ তাঁদেরই বলা হয় ইনফ্লুয়েন্সার। হাজার হাজার মাইল দূরে সীমান্তে দাঁড়িয়ে দেশকে পাহারা দিচ্ছেন এক জওয়ান। তিনি বাড়িতে ভিডিও কল করে বলছেন, ‘মা, আমি ভাল আছি। মেয়ে, আমিও ভাল আছি।’ অন্যদিকে, মুম্বইয়ের এক বিশিষ্ট চিকিৎসক রাজস্থানের পালিতে গুরুতর অসুস্থ এক রোগীর জীবন বাঁচাচ্ছেন। এই মানুষগুলিকে এক সুতোয় বেঁধে রেখেছে একটিই জিনিস—জিও।”
অনন্ত আম্বানি বলেন, “জিওকে হয়তো চোখে দেখা যায় না, কিন্তু ভারতের প্রতিটি ডিজিটাল স্বপ্নের হৃদস্পন্দনের সঙ্গে জিও জড়িয়ে রয়েছে। জিও পরিবারের ৫৩ কোটি সদস্য আমাদের উপর বিশ্বাস রেখেছেন। তাঁদের প্রত্যেকের প্রতি প্রথমেই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
“জিও আপনারাই তৈরি করেছেন। আপনাদের স্বপ্ন পূরণ করাই আমাদের স্বপ্ন।”
তিনি আরও বলেন, “আজ ইশা দিদি, আকাশ ভাই এবং আমি আপনাদের সামনে তিনটি আলাদা শরীর নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমাদের আত্মা এক, আর অঙ্গীকারও এক—এই স্বপ্নগুলিকে সম্মান জানানো এবং সেগুলি পূরণ করা। রিলায়েন্স আগামী দিনেও নতুন নতুন স্বপ্ন দেখবে। কিন্তু আমাদের শিকড় একই জায়গায় থাকবে। সেই শিকড়ের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আমার দাদুর স্বপ্ন, আমার ঠাকুমার আশীর্বাদ, আমার বাবার দিকনির্দেশ এবং আমার মায়ের কাছ থেকে পাওয়া বিনয় ও মানুষের প্রতি যত্নশীল হওয়ার শিক্ষা। জিও পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। মাঠে কাজ করা কর্মী, বৃষ্টি-রোদ উপেক্ষা করে মোবাইল টাওয়ারে ওঠা প্রযুক্তিবিদ, ইঞ্জিনিয়ার, পরিষেবা কর্মী, স্টোরের কর্মী, আমাদের রিটেল পার্টনার এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।”
Post Comment