নিয়ম ভেঙে বোলিং! বিশ্বক্রিকেটে এমন ঘটনা আগে ঘটেনি, বাংলাদেশের অভিযোগের পরই শুরু তোলপাড়
ঢাকা: ক্রিকেট দুনিয়ায় এক চমকে দেওয়া ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানের এক বোলার ওয়ান ডে ম্যাচে ১১ ওভার বল করেছেন! যে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (BCB) আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (ACB)-কে একটি চিঠি লিখে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক সোহেল খানকে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিরুদ্ধে ওয়ান ডে ম্যাচে ‘১১তম ওভার’ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করেছে।
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের কোচ হান্নান সরকার জানিয়েছেন, তাঁরা আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্তে হওয়া ভুল নিয়েও লিখেছেন। অধিনায়কের পক্ষ থেকে একটি নোটও সংযুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে বুধবার সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক ওয়ান ডে নিয়মে নির্ধারিত ১০ ওভারের বদলে ১১ ওভার করেছেন।
আল আমিরাতে খেলা এই ম্যাচে আফগানিস্তান প্রথমে ব্যাট করে সুবহান জখাইল (৮১) এবং শাহ ফয়সাল রহিমি (৮০) রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সৌজন্যে ২৩৭ রান তোলে। এই ইনিংসে বাংলাদেশি বোলার আল আমিন হোসেন ৬ উইকেট নেন। জবাবে বাংলাদেশ দল ৩৮.২ ওভারে ১৯৪ রানে গুটিয়ে যায়। আফগান অধিনায়ক সোহেল খান ২ উইকেট নেন।
‘ক্রিকইনফো’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশি দল ম্যাচ রেফারি ইয়াসির লতিফজাইয়ের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছে। সেখানে তারা আম্পায়ারিংয়ের ভুল এবং আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কের অতিরিক্ত একটি ওভার করার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে।
হান্নান সরকার বলেছেন, “আমরা অধিনায়কের রিপোর্টে আম্পায়ারিংয়ের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে লিখেছি এবং একটি বিশেষ নোটও যোগ করেছি, যেখানে বিশেষভাবে ওই ১১ ওভারের উল্লেখ রয়েছে। যেহেতু অধিনায়কের রিপোর্টের সাধারণ ফর্মে এই ধরনের তথ্য দেওয়ার জন্য আলাদা কোনও জায়গা নেই, তাই সিদ্ধান্তগুলোর তালিকার পরে একটি অতিরিক্ত নোট যোগ করা হয়েছে।”
চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, “আফগানিস্তানের অধিনায়ক, যিনি তাদের দলের প্রধান স্ট্রাইক বোলারও, তৃতীয় ম্যাচে মোট ১১ ওভার করেছেন। আমাদের কাছে অফিসিয়াল স্কোরারের অ্যাক্সেস ছিল না, তাই আমরা টিম ম্যানেজারের ফোনে ক্রিকইনফোর মাধ্যমে স্কোরকার্ড দেখছিলাম। আমাদের নিজস্ব বিশ্লেষকের রেকর্ড থেকে জানা যায় যে (সোহেল খান) আগেই ১০ ওভার করে ফেলেছিলেন। আমাদের নজরে আসার আগেই তিনি আরও একটি ওভার করতে শুরু করে দেন। ওভারটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা আম্পায়ারকে জানাই, যদিও ততক্ষণে ওভারটি শেষ হয়ে গিয়েছিল।”
তাঁরা জানিয়েছেন, বিতর্কিত ওভারের ভিডিও ম্যাচ রেফারির কাছে পাঠানো হয়েছিল। ১১তম ওভারে গোলমাল তৈরি হয়, যখন স্কোরার ভুলবশত সেই ওভারটি অন্য বোলারের নামে নথিভুক্ত করেন। আসলে, আগে অন্য এক বোলার ওভার করতে আসছিলেন এবং তিনি নিজের ক্যাপও আম্পায়ারের হাতে দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ মুহূর্তে আফগানিস্তান অধিনায়ক সিদ্ধান্ত বদলে নিজেই বোলিং করতে শুরু করেন। তবু স্কোরার ওভারটি শাহ ফয়সাল রহিমির নামে নথিভুক্ত করেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের দাবি ছিল যে এই ওভারটি সোহেলই করেছিলেন।
তিনি বলেন, “এই গোলমাল হয়েছে কারণ অফিসিয়াল স্কোরার (সোহেল খানের জন্য) ১০ ওভার নথিভুক্ত করেছিলেন। তিনি ভুলবশত এমন এক খেলোয়াড়ের নামে একটি ওভার লিখে দেন, যিনি আদতে বোলিংই করেননি। ঘটনাটি ছিল এমন যে ওই খেলোয়াড় নিজের ক্যাপ আম্পায়ারকে দিয়েছিলেন, কিন্তু পরে তা ফিরিয়ে নেন, এবং তাঁর জায়গায় অধিনায়ক নিজে বোলিং করতে আসেন। স্কোরারের তা নজরে পড়েনি এবং তিনি ওই ওভারটি অন্য খেলোয়াড়ের নামে নথিভুক্ত করে দেন।”
আরও পড়ুন: তিলক-নীতীশের ম্যাচ জেতানো পার্টনারশিপ, ভেঙে চুরমার আগের সব রেকর্ড
Post Comment