CPIM Book Stall: বুক স্টল বিতর্কের মধ্যেও নয়া নজির, পশ্চিম মেদিনীপুরে পুজোয় ৩০ লক্ষ টাকার বই বিক্রি করল সিপিআইএম
Last Updated:
প্রতি বছর এই স্টলগুলিকে জনসংযোগের অন্যতম মাধ্যম করে তোলে বামেরা।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: শারদোৎসবের মরসুমে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে বইপ্রেমীদের নজরকাড়া ভিড় দেখা গেল বামেদের শারদীয়া বুক স্টলগুলিতে। উৎসবের দিনগুলিতে মণ্ডপ পরিক্রমার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের বই কেনার উৎসাহে ভর করে এ বার বিক্রির অঙ্কে নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছে সিপিএম। জেলা নেতৃত্বের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর শারদীয়া বুক স্টলগুলি থেকে বই ও বিভিন্ন প্রকাশনা বিক্রির আর্থিক অঙ্ক ৩০ লক্ষ টাকার গণ্ডি অনায়াসেই পার করে গিয়েছে।
জেলা সিপিএমের পেশ করা হিসেব বলছে, এ বার মোট ৩০ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকার বই ও পত্রপত্রিকা বিক্রি হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় প্রায় আড়াই লক্ষ টাকা বেশি। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে ওঠা ৮৫টি স্থায়ী বুক স্টল এবং দু’টি ভ্রাম্যমাণ গাড়ি থেকে বিক্রি হয়েছে প্রায় ১৬ লক্ষ টাকার বই। অন্য দিকে, ‘শারদীয়া গণশক্তি’, ‘দেশহিতৈষী’ এবং ‘নন্দন’-এর মতো ঐতিহ্যবাহী পত্রিকাগুলির মোট ৭ হাজার ৯০০ কপি বিক্রি হয়েছে। যার মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪ লক্ষ ৩৩ হাজার ৭০০ টাকায়।
বইয়ের প্রতি মানুষের এমন আগ্রহে উৎসাহিত জেলা নেতৃত্ব। এই প্রসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সিপিএমের সম্পাদক বিজয় পাল বলেন, “উৎসবের মরসুমে সাহিত্যের প্রতি সাধারণ মানুষের এই টান সত্যিই দারুণ বিষয়। পাঠকদের স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া আমাদের নতুন করে উৎসাহিত করেছে।” আগামী ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই বুক স্টলগুলি চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। ফলে আগামী দিনগুলিতে বিক্রি আরও চার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা বাড়বে বলে নেতৃত্বের আশা।
তবে বিক্রির এই সাফল্য মসৃণ পথে আসেনি বলেই অভিযোগ লাল শিবিরের। দলের বক্তব্য, একাধিক জায়গায় রাজনৈতিক ভাবে বাধা ও নানা প্রতিকূলতা এসেছে। কোথাও স্টল সরাতে চাপ তৈরি করা হয়েছে, আবার কোথাও সাংগঠনিক স্তরে নানা সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। কিন্তু সেই সমস্ত রাজনৈতিক প্রতিকূলতাকে তুচ্ছ করে জেলার কোণে কোণে একাধিক স্টলে ব্যাপক বই বিক্রি হয়েছে বলেই জোর গলায় দাবি করছে জেলা নেতৃত্ব।

Post Comment