Indian Railway: ট্রেন থেকে ৪৩ লক্ষের রুবি চুরি, ১০ দিন পর হরিয়ানা থেকে উদ্ধার করল পূর্ব রেল

Last Updated:

আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস থেকে চুরি যাওয়া ৪৩ লক্ষ টাকার রুবি উদ্ধার করল পূর্ব রেল. হরিয়ানায় অভিযান চালিয়ে ৫ কেজি চুনিপাথর উদ্ধার হয়.

ট্রেন থেকে ৪৩ লক্ষের রুবি চুরি, ১০ দিন পর হরিয়ানা থেকে উদ্ধার করল পূর্ব রেল
ট্রেন থেকে ৪৩ লক্ষের রুবি চুরি, ১০ দিন পর হরিয়ানা থেকে উদ্ধার করল পূর্ব রেল

কলকাতা: আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস থেকে চুরি যাওয়া প্রায় ৪৩.২০ লক্ষ টাকা মূল্যের বহুমূল্য চুনিপাথর বা রুবি উদ্ধার করল পূর্ব রেল। রেলওয়ে প্রোটেকশন ফোর্স (আরপিএফ), রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) যৌথ তদন্ত এবং আন্তঃরাজ্য অভিযানের মাধ্যমে ৫.৪৪৮ কেজি ওজনের চুরি যাওয়া পাথর উদ্ধার করা হয়েছে। পূর্ব রেলের তরফে জানানো হয়েছে, ৮ অক্টোবর এই চুরির ঘটনা ঘটে। ১৮ অক্টোবর হরিয়ানার হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার হয় সম্পূর্ণ চুরি যাওয়া সামগ্রী।

রেল সূত্রে খবর, ১২৯৮৮ আজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেসের এ২ কোচে যাত্রা করছিলেন ৫৮ বছর বয়সি অলকা বৈদ্য ও তাঁর ৫৯ বছর বয়সি স্বামী রাকেশ বৈদ্য। ৮ অক্টোবর বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে রেলমদতে অভিযোগ জানান তাঁরা। অভিযোগ, ট্রেনে তাঁদের সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতান এক ব্যক্তি। রাকেশ বৈদ্য অসুস্থ বোধ করায় তাঁকে সাহায্য করার প্রস্তাব দেন ওই ব্যক্তি। সেই সুযোগে ব্যাগের চেন খুলে বহুমূল্য চুনিপাথর ভর্তি দুটি থলি চুরি করে পালিয়ে যান তিনি। কাঁকুড়গাছি সিগন্যালের কাছে তাঁর সঙ্গীরাও পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ।

এই ঘটনায় ৮ অক্টোবর শিয়ালদহ জিআরপি ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৩০৫(সি) ধারায় ১১৯/২৬ নম্বর মামলা রুজু করে। তদন্তে নামে আরপিএফ ও জিআরপির যৌথ দল। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্তকারীরা কাঁকুড়গাছি রেল কেবিন সংলগ্ন বাগমারি এলাকা এবং বর্ধমান স্টেশনে সন্দেহভাজনদের গতিবিধির সূত্র পান। পরে অভিযোগকারী যাত্রী ফুটেজে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করেন। তদন্তে আরও জানা যায়, সন্দেহভাজনরা ৫ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বর্ধমানের একটি গেস্ট হাউসে ছিলেন।

এরপর দিল্লির সুলতানপুরী এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও অভিযুক্তদের সন্ধান মেলেনি। পরে গোপন সূত্রে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হরিয়ানায় অভিযান চালায় তদন্তকারী দল। দক্ষিণ পশ্চিম রেলের ম্যাঙ্গালোরের আইপিএফ মনোজ যাদবের সহযোগিতায় ১৮ অক্টোবর হান্সি জেলার বাথোল গ্রামে প্রধান সন্দেহভাজন সন্দীপ ওরফে রোডার পৈতৃক বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। সেখান থেকেই উদ্ধার হয় চুরি যাওয়া সম্পূর্ণ পাথর। পূর্ব রেলের দাবি, এই চুরির পিছনে হরিয়ানার ‘সানসি গ্যাং’-এর যোগ থাকতে পারে। তবে এই যোগসূত্র এখনও সন্দেহের পর্যায়ে রয়েছে। প্রধান অভিযুক্ত সন্দীপ ওরফে রোডা-সহ আরও তিন সন্দেহভাজনকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তাঁদের খোঁজে তদন্ত চলছে।

পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝি জানান, সিসিটিভি ফুটেজের বিশ্লেষণ, গোপন সূত্রে তথ্য সংগ্রহ এবং রেলের বিভিন্ন জোনের মধ্যে সমন্বয়ের ফলে এই সাফল্য এসেছে। যাত্রীদের নিজেদের জিনিসপত্রের বিষয়ে সতর্ক থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কিছু দেখলে রেল নিরাপত্তাকর্মী বা রেলমদতের মাধ্যমে জানাতে পরামর্শ দিয়েছে পূর্ব রেল।

Post Comment

You May Have Missed