পুজোর পাঁচ দিনে শিয়ালদহ ডিভিশনে ৬৬ লক্ষের বেশি যাত্রী! ভিড় সামলাতে কী কী ব্যবস্থা নিয়েছিল রেল?
রেলের তথ্য অনুযায়ী, পুজোর দিনগুলিতে সবচেয়ে বেশি যাত্রীর ভিড় ছিল শিয়ালদহ স্টেশনে। ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও দশমী মিলিয়ে এই স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা ৩২ লক্ষ ৯০ হাজার ৫৩৮। গত বছর এই সংখ্যা ছিল ২৯ লক্ষ ৮২ হাজার ৪৮৭। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে দমদম স্টেশন। পুজোর পাঁচ দিনে এই স্টেশনে যাত্রীসংখ্যা ৭ লক্ষ ১১ হাজার ৮১২। বিধাননগর স্টেশনে যাতায়াত করেছেন ৬ লক্ষ ৮৭ হাজার ৬৭৮ জন। সোনারপুরে যাত্রীসংখ্যা ৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৬, বালিগঞ্জে ৪ লক্ষ ৪৫ হাজার ১৫০ এবং রানাঘাটে ৪ লক্ষ ৮১ হাজার ২০৮।
ভিড় সামলাতে বিশেষ ব্যবস্থা
পুজোর ভিড় সামাল দিতে শিয়ালদহ ডিভিশনে ট্রেন পরিষেবা পরিচালনা, নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছিল। যাত্রীদের সুবিধার্থে শিয়ালদহ, দমদম, বিধাননগর, সোনারপুর, বালিগঞ্জ ও রানাঘাট-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে বিশেষ নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
বিদ্যুৎ পরিষেবা বিঘ্নিত হলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে অতিরিক্ত ডিজি সেট রাখা হয়েছিল। টিকিট কাটার জন্য শিয়ালদহ, দমদম, বনগাঁ, রানাঘাট, কল্যাণী ও বালিগঞ্জ-সহ একাধিক স্টেশনে মোবাইল টিকিটিং হেল্প ডেস্ক এবং এটিভিএম সহায়ক কর্মী মোতায়েন করা হয়।
যাত্রীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে শিয়ালদহ স্টেশনের পার্কিং এলাকা এবং কল্যাণীতে যাত্রীদের অপেক্ষা করার জন্য নির্দিষ্ট হোল্ডিং জোন তৈরি করা হয়েছিল। সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে ভিড়ের গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো হয়। শিয়ালদহ ও গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে রেলের ওয়ার রুম থেকে ২৪ ঘণ্টা পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হয়, যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ করা যায় এবং ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়। এ ছাড়াও প্রযুক্তিগত ত্রুটি বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিভিল, ট্র্যাক, সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন এবং ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের কর্মীদের নিয়ে মোবাইল মেনটেন্যান্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছিল।
চিকিৎসার জন্য শিয়ালদহ, বনগাঁ, বিধাননগর, দমদম, কল্যাণী ও বালিগঞ্জ-সহ বিভিন্ন স্টেশনে মেডিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স বুথ তৈরি করা হয়। একাধিক স্টেশনে অ্যাম্বুল্যান্স, প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং প্যারামেডিক্যাল টিম মোতায়েন ছিল। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ট্রেনের পরিষেবায় সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে শিয়ালদহ উত্তর, শিয়ালদহ দক্ষিণ এবং রানাঘাটে কর্মী-সহ দুটি ইএমইউ স্ক্র্যাচ রেক প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি ডিভিশনে দুটি আইসিএফ স্ক্র্যাচ রেকও প্রস্তুত ছিল। সব মিলিয়ে, পুজোর পাঁচ দিনে বিপুল যাত্রীসমাগম সত্ত্বেও ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল শিয়ালদহ ডিভিশনের প্রধান লক্ষ্য।
Post Comment