বিশ্বে প্রথম পাবলিক অফার হিসেবে ১ কোটি আবেদনের মাইলফলক অতিক্রম করল জিও প্ল্যাটফর্মসের IPO
এর ফলে, আগে প্রকাশিত বিশ্বরেকর্ডও ছাপিয়ে গিয়েছে এই আইপিও। এর আগে প্রায় ৯৭ লক্ষ আবেদনের রেকর্ড গড়েছিল ওয়ারি এনার্জিস (Waaree Energies)। বাজাজ হাউজিং ফিনান্সের (Bajaj Housing Finance) মতো ভারতের আগের রেকর্ডধারীদেরও পিছনে ফেলে দিয়েছে জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও।
সূত্রের দাবি, ইস্যু বন্ধ হতে তখনও পাঁচ ঘণ্টা বাকি থাকতেই জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও বিশ্বের প্রথম পাবলিক অফার হিসেবে এক কোটি আবেদনের গণ্ডি পেরিয়ে গিয়েছে। তাঁদের মতে, এই বিপুল সাড়া জিও প্ল্যাটফর্মসের প্রতি বিনিয়োগকারীদের গভীর আগ্রহের প্রতিফলন।
পিটিআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার দুপুর ১২টা ৩ মিনিট পর্যন্ত জিও প্ল্যাটফর্মসের আইপিও-তে অফার করা ১৯.৭৫ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ১৩৬.৩২ কোটি শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়েছিল। অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে প্রায় সাত গুণ সাবস্ক্রাইব হয়েছিল এই আইপিও।
প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি। কোয়ালিফায়েড ইনস্টিটিউশনাল বায়ার্স (কিউআইবি)-রা তাঁদের জন্য সংরক্ষিত ৪.৯০ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ৭০.৮৫ কোটি শেয়ারের জন্য বিড করেছেন। অর্থাৎ, এই বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ১৪.৪৬ গুণ। এর মধ্যে দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান—ব্যাঙ্ক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে ৩৪.৫১ কোটি শেয়ারের জন্য বিড জমা পড়েছে। বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পক্ষ থেকে বিড করা হয়েছে ২৬.৯৫ কোটি শেয়ারের জন্য। মিউচুয়াল ফান্ডের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে অনেক কম, ৪.৪০ কোটি শেয়ার। নন-ইনস্টিটিউশনাল ইনভেস্টরদের (NII) বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ছিল ৯.৪৫ গুণ।
খুচরো ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীরা (রিটেল ইন্ডিভিজুয়াল ইনভেস্টর) অফার করা ৮.৫০ কোটি শেয়ারের বিপরীতে ১৭.১৯ কোটি শেয়ারের জন্য বিড করেছেন। অর্থাৎ, এই বিভাগে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ২.০২ গুণ। শেয়ারহোল্ডারদের জন্য সংরক্ষিত অংশে সাবস্ক্রিপশন হয়েছে ৫.৬৮ গুণ, অন্যদিকে কর্মচারীদের জন্য সংরক্ষিত অংশে সাবস্ক্রিপশনের পরিমাণ ২.৪৮ গুণ।
এই আইপিও-তে সম্পূর্ণ নতুন করে ২৭ কোটি শেয়ার ইস্যু করা হচ্ছে। প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ সীমা অনুযায়ী, জিও প্ল্যাটফর্মস প্রায় ৩০,২১৩ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর ফলে সংস্থাটির মূল্যায়ন দাঁড়াবে আনুমানিক ১০ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার।
এই শেয়ার বিক্রির প্রস্তাবে মূল সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড কিংবা সংস্থাটির অন্য কোনও বর্তমান শেয়ারহোল্ডার তাঁদের শেয়ার বিক্রি করছেন না।
১৯ অক্টোবর, জিও প্ল্যাটফর্মস ২১২ জন অ্যাঙ্কর বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৮,১১০ কোটি টাকা সংগ্রহ করেছিল। সেই সময় প্রাইস ব্যান্ডের সর্বোচ্চ সীমা, অর্থাৎ প্রতি শেয়ার ১,১১৯ টাকা দরে শেয়ার বরাদ্দ করা হয়েছিল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অ্যাঙ্কর বুকের ক্ষেত্রে ২.৫ লক্ষ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিড জমা পড়েছিল, যা উপলব্ধ বরাদ্দের ৩০ গুণেরও বেশি। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল ব্ল্যাকরক, ফিডেলিটি ইনভেস্টমেন্টস, জিআইসি এবং আবু ধাবি ইনভেস্টমেন্ট অথরিটির মতো আন্তর্জাতিক সম্পদ পরিচালনাকারী সংস্থা ও সার্বভৌম সম্পদ তহবিল।
জিও প্ল্যাটফর্মসের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আইপিও থেকে সংগৃহীত অর্থের মধ্যে সর্বোচ্চ ২৭,৫০০ কোটি টাকা তাদের সম্পূর্ণ মালিকানাধীন সহযোগী সংস্থা রিলায়েন্স জিও ইনফোকমের ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। বাকি অর্থ মূলধনী ব্যয়, যার মধ্যে প্রযুক্তি ও ডিজিটাল পরিষেবায় বিনিয়োগ এবং কার্যকরী মূলধনের প্রয়োজন মেটানো অন্তর্ভুক্ত, সেই কাজে ব্যবহার করা হবে।
জিও প্ল্যাটফর্মস লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর আকাশ আম্বানি সম্প্রতি জানিয়েছেন, টেলিকম পরিষেবার বাইরেও বৃদ্ধির চালিকাশক্তি হয়ে উঠবে সংস্থার প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ক্লাউড পরিষেবা সংক্রান্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষা—এই বিশ্বাসের উপরেই বাজি ধরছে জিও প্ল্যাটফর্মস।
পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আকাশ আম্বানি বলেন, “জিও-র ক্ষেত্রে একটিকে বেছে নিয়ে অন্যটিকে ছেড়ে দেওয়ার কোনও বিষয় নেই। আমাদের নেটওয়ার্কই আমাদের প্রযুক্তি।” সংস্থার নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ৫জি কোর, ক্লাউড-নেটিভ রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক এবং ৫৩৩.৩ মিলিয়ন গ্রাহককে পরিষেবা দেওয়া সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্মের কথা উল্লেখ করে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মের উপরেই আমরা প্রথম পণ্য হিসেবে কানেক্টিভিটি তৈরি করেছিলাম। এখন এর উপরেই ডিজিটাল পরিষেবা, এআই এবং ক্লাউডের স্তরগুলি যুক্ত করছি।”
Post Comment