চৌকিতে স্ত্রীর নিথর দেহ, আর ‘আড়া’ থেকে ঝুলছে স্বামী…! কালনায় দম্পতির রহস্যমৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য

Last Updated:

Husband Wife: পূর্ব বর্ধমানের কালনায় শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার হল স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ। চৌকির উপর স্ত্রীর দেহ এবং আড়ায় স্বামীর ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

শিউরে ওঠা দৃশ্য কালনায়
শিউরে ওঠা দৃশ্য কালনায়

কালনা, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: শ্বশুরবাড়িতে উদ্ধার হল স্বামী-স্ত্রীর নিথর দেহ। ঘরের মধ্যে চৌকির উপর পড়ে রয়েছে স্ত্রীর দেহ, আর ঘরের আড়া থেকে গামছার ফাঁসে ঝুলছে স্বামী। শুক্রবার সকালে এমনই মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকলেন পূর্ব বর্ধমানের কালনা থানার অন্তর্গত কালনা ২ নম্বর ব্লকের অকালপৌষের গোড়েপাড়া এলাকার বাসিন্দারা।

মৃত দম্পতির নাম সুরজিৎ রানা ও পিয়া মালিক। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় ১৫ দিন আগে সুরজিৎ ও পিয়া বাউরিপাড়ার শক্তিনগর থেকে তাঁদের পরিবারের সঙ্গে গোড়েপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে এসে থাকতে শুরু করেন। বৃহস্পতিবার সুরজিৎ তাঁর শ্যালকের সঙ্গে একটি পুজোয় বাজনা বাজানোর কাজে গিয়েছিলেন। দুপুরের দিকে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, রাতে দু’জনে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়াও করেছিলেন। কিন্তু পরদিন সকালে তাঁদের আর জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়নি।পরিবারের সদস্যদের বয়ান অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা নাগাদ পিয়ার মা-বাবা অন্য একটি বাড়ি থেকে ফিরে এসে তাঁদের ডাকাডাকি করেন। কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ঠেলে ঘরের ভিতরে ঢুকতেই তাঁদের নজরে পড়ে ভয়াবহ দৃশ্য।

চৌকির উপর পড়ে রয়েছে পিয়ার নিথর দেহ। অন্যদিকে, ঘরের আড়ায় গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন সুরজিৎ। খবর ছড়িয়ে পড়তেই ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা।পিয়ার পরিবারের সদস্য অভিষেক মালিকের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যে ছোটখাটো ঝগড়া হলেও সম্প্রতি বড় কোনও অশান্তির কথা তাঁরা জানতেন না। তবে তাঁর অভিযোগ, ২০২৫ সালে সুরজিৎ একবার পিয়ার গলা টিপে ধরে মারধর করেছিলেন। সেই সময় পিয়াকে হাসপাতালে ভর্তি করাতে হয়েছিল বলেও তিনি জানান। পরিবারের সদস্যদের প্রাথমিক অনুমান, প্রথমে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করার পর সুরজিৎ আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন।

যদিও ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কালনা থানার পুলিশ। দু’জনের দেহ উদ্ধার করে কালনা মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। কী কারণে এই মর্মান্তিক পরিণতি, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট ও তদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

Post Comment

You May Have Missed