Durga Puja 2026: অবসরের পর রকিং চেয়ার নয়, মুম্বাইয়ে গিয়ে ঢাক বাজাবেন প্রাক্তন শিক্ষক! নেপথ্যে রয়েছে গভীর আবেগ
Last Updated:
Durga Puja 2026: শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও বাপ-ঠাকুরদার সাবেকি পেশাকে ভোলেননি কোলাঘাটের বিনয় বারিক। দুর্গাপূজায় এবার ১২ জনের বিশেষ দল নিয়ে তিনি পাড়ি দিচ্ছেন মুম্বাইয়ের বান্দ্রার বিখ্যাত ‘আসাম ভবন’ পুজোয়। বংশপরম্পরার শিল্পকে বাঁচাতে শিক্ষকের লড়াই নজর কাড়ছে সবার।
সৈকত শী, কোলাঘাট: পেনশন কিংবা অবসর জীবন মানেই অলস বিকেল বা বারান্দার রকিং চেয়ারে সময় কাটানো। এ কথা ভুল প্রমাণ করে চলেছেন পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাটের ধর্মবেড় গ্রামের বিনয় বারিক। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও বাপ-ঠাকুরদার আদি পেশাকে ভোলেননি বিনয় বারিক। দুর্গাপুজোয় এবার তিনি সুদূর মুম্বাইয়ের আসাম ভবনে ঢাক বাজাতে যাচ্ছেন ১২ জনের একটি দল নিয়ে! ক্ষেত্রহাট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক পেশাগত জীবন থেকে অবসর নিলেও ছাড়েননি বাপ-দাদার আদি সংস্কৃতি। বংশপরম্পরার এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে তিনি এবার পাড়ি দিচ্ছেন সোজা আমচি মুম্বাইয়ে।
ধর্মবেড় গ্রামের দীর্ঘদিনের খ্যাতি রয়েছে ঢাকি পাড়া হিসেবে। এই গ্রামের প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি পরিবার বংশপরম্পরায় ঢাক বাজানোর পাশাপাশি বাঁশের ঝুড়ি বুনে জীবিকা নির্বাহ করে। বিনয়বাবুর ঢাকের দুনিয়ায় হাতেখড়ি হয়েছিল বাবার হাত ধরে, একেবারে শৈশবে। পরবর্তী সময়ে পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতার মতো মহৎ পেশায় যুক্ত হলেও তিনি কখনও দূরে সরে যাননি ঢাকের তাল থেকে। তাঁর কর্মজীবনে স্কুলের সহকর্মী এবং সার্কেল ইন্সপেক্টরের (এসআই) উৎসাহই তাঁকে এই ঐতিহ্যবাহী পেশার সঙ্গে যুক্ত রাখতে সবচেয়ে বেশি প্রেরণা জুগিয়েছে। ২০২২ সালে শিক্ষকতা থেকে অবসর নেওয়ার পরও তাঁর এই নেশা এতটুকু ফিকে হয়নি। এর আগে রাজ্য ও ভিনরাজ্যের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে বাজিয়ে প্রশংস কুড়ালেও, এবারই প্রথম তিনি সুদূর মুম্বাইয়ের কোনো বড় পুজোয় অংশ নিচ্ছেন।
আসছে ১৩ অক্টোবর, মেচেদা স্টেশন থেকে ট্রেন ধরবেন বিনয়বাবুসহ ধর্মবেড় গ্রামের মোট ১২ জনের একটি ঢাকির বিশেষ দল। মুম্বাইয়ের বান্দ্রা (বাশি) এলাকার আসাম ভবন পুজো কমিটির আমন্ত্রণে তাঁরা সেখানে যাচ্ছেন। ভিনরাজ্যের বড়মঞ্চে নিজেদের পারফরম্যান্স নিখুঁত করতে এখন থেকেই ধর্মবেড় গ্রামে চলছে শেষ মুহূর্তের তালিম। বারিক পরিবারের ঢাকের জাদুতে ছন্দ ও সুরের মূর্ছনা তুলতে চলছে ঢাকে টান দেওয়ার জোর প্রস্তুতি। বংশপরম্পরার এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখার এক অসাধারণ প্রয়াস এই শিক্ষকের। মুম্বাইয়ের বাশি এলাকার বিখ্যাত ‘অসমিয়া ভবন’ পুজো কমিটির আমন্ত্রণে এবার বাজবে কোলাঘাটের ঢাক।
তবে এই সাফল্যের আনন্দের মাঝেও বিনয়বাবুর মনে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর আক্ষেপ। তাঁর মতে, বর্তমান প্রজন্মের তরুণ সমাজ এই প্রাচীন লোকশিল্পের প্রতি ক্রমশ আগ্রহ হারাচ্ছে। আধুনিকতার ভিড়ে বাপ-দাকুদার এই ঐতিহ্য হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হলেও বিনয়বাবু লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পণ করেছেন। তাঁর সাফ কথা, যতদিন শরীরে শক্তি থাকবে, ততদিন কোলাঘাটের এই মাটির গন্ধ ও ঢাকের আওয়াজকে বাঁচিয়ে রাখার এই লড়াই তিনি একমনে চালিয়ে যাবেন। বর্তমান প্রজন্ম আধুনিকতার ভিড়ে এই প্রাচীন লোকশিল্পের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে বলে তাঁর ক্ষোভ। তবুও নিজের ঐতিহ্য রক্ষায় তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
Post Comment