Purulia Murder Update: প্রেমিকার শরীর নিয়ে এ কী কাণ্ড প্রেমিকের! হাতেনাতে এভাবেই ধরলেন এই ভিলেজ পুলিশকর্মী
Last Updated:
ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্তকে এ দিন শংসাপত্র তুলে দিয়ে সম্মানিত করেন জেলা পুলিশ সুপার কুমার সানি রাজ৷ ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্তের সাহসিকতারও প্রশংসা করেন তিনি৷
ইন্দ্রজিৎ মণ্ডল, পুরুলিয়া: মোটরসাইকেলের পিছনে বাঁধা বস্তায় গায়ে রক্তের দাগ দেখেই সন্দেহ হয়েছিল৷ পুরুলিয়ার বলরামপুর থানার অধীনে কর্মরত ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত কুমারের উপস্থিত বুদ্ধির জোরেই খুনের পর প্রেমিকার দেহ লোপাট করতে যাওয়ার সময় ধরা পড়ে যায় প্রেমিক৷ পুরুলিয়ার বলরামপুরের এই ঘটনায় অভিযুক্ত প্রেমিক অমিত মাহাতোকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ৷ পাশাপাশি কাজের সময় সতর্ক নজরদারি এবং কর্তব্যনিষ্ঠার জন্য ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্তকে এ দিন সম্মানিত করেছেন পুরুলিয়ার পুলিশ সুপার৷
শনিবার রাতে পুরুলিয়ার বলরামপুর থানা এলাকার ওল্ড টাটা রোডে ডিউটি করছিলেন ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত কুমার৷ রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তিনি লক্ষ্য করেন, এক যুবক মোটরসাইকেলের পিছনে একটি বড়সড় বস্তা বেঁধে নিয়ে যাচ্ছে৷ সেই বস্তার গায়ে রক্তের দাগ দেখেই সন্দেহ হয় ওই লক্ষ্মীকান্তের৷ সঙ্গে সঙ্গে ওই বাইক আরোহীকে আটকে বস্তার ভিতরে কী আছে তা দেখতে তল্লাশি শুরু করেন তিনি৷ তখনই বস্তার ভিতরে তরুণীর দেহ চোখে পড়ে৷
সঙ্গে সঙ্গেই ফোন করে বলরামপুর থানায় খবর দেন লক্ষ্মীকান্ত৷ পাশাপাশি, অভিযুক্ত যুবক যাতে পালাতে না পারে তাও নিশ্চিত করেন তিনি৷ অভিযুক্ত যুবককে আটকে রেখেই বলরামপুর থানায় ফোন করেন তিনি৷ বলরামপুর থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বস্তার ভিতর থেকে এক তরুণীর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে৷ গ্রেফতার করা হয় বাইক চালক অমিত মাহাতকে৷
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, মৃত তরুণীর নাম প্রীতিকা মাহাত৷ ধৃত যুবকের নাম অমিত মাহাত৷ দু জনের মধ্যে কয়েক বছর ধরেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল৷ দু জনের বাড়িই বাঘমুণ্ডি থানা এলাকার কাছাকাছি দুটি গ্রামে৷ পুরুলিয়া শহরে থেকেই পড়াশোনা করত তাঁরা৷ সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন দু জনে৷ পুরুলিয়ার টামনা থানা এলাকার দুটি আলাদা আলাদা মেসে থাকতেন প্রীতিকা ও অমিত৷
সম্প্রতি ওই তরুণী অন্য এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ায় বলে সন্দেহ হয় অভিযুক্ত প্রেমিকের৷ সেই আক্রোশ থেকেই এই খুন বলে জেরায় স্বীকার করেছে অমিত৷ জেরায় অভিযুক্ত জানায়, শনিবার একটি মেসে নিজের প্রেমিকাকে ডেকে পাঠায় সে৷ সেখানেই গলায় ছুরি চালিয়ে খুন করে সে৷ এর পর বস্তায় দেহ ভরে মোটরসাইকেলে চাপিয়ে সম্ভবত অযোধ্যা পাহাড়ে দিকে দেহ লোপাটের জন্য রওনা দেয় সে৷ মাঝপথে বলরামপুর থানা এলাকায় অভিযুক্তকে ধরে ফেলেন ভিলেজ পুলিশ লক্ষ্মীকান্ত৷

Post Comment