বিপদে এবারও ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ ভারত, নেপালে পৌঁছে গেল ৬২ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী

নয়াদিল্লি : প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিধ্বস্ত বহু দেশকে আগেও সাহায্য করেছে ভারত। ফের একবার মানবিক মুখ দেখাল ভারত। নেপালে ৬২ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে দেওয়া হল। হিমালয়ের দেশে সরাসরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া প্রথম প্রধান দেশ ভারত। নেপালে হড়পা বানে বিপর্যয়ের পর শুক্রবারই পৌঁছে দেওয়া হয় ত্রাণ। এই বিষয়টি বিপদের সময় ভারতের ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ বা ‘প্রথম সাড়া প্রদানকারী’ হিসেবে পরিচিতিকে আরও সুদৃঢ় করল। তুরস্ক, সিরিয়া থেকে শুরু করে মায়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ভেনিজুয়েলার মতো দুর্যোগকবলিত দেশগুলিতে এর আগে সহায়তা ও ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রণী ছিল ভারত।

 

শুক্রবার সন্ধে নাগাদ ভারত তিনটি বিমানে ৬২ টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়ে দিয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিন-সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা তখনও সহায়তা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দুর্যোগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহের সঙ্গে কথা বলেন, শোক প্রকাশ করেন এবং জানান যে ভারত সম্ভাব্য সব ধরনের মানবিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতার বিষয়ে ভারতীয় দলগুলি নিবিড়ভাবে সমন্বয় করছে।

কত সাহায্য় পাঠাল ভারত ?

ভারত তিনটি বিশেষ বিমানে মাধ্যমে ৬২ টন জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। প্রথম বিমানটি-ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি সি-১৩০জে (C-130J)—১০ টন ওজনের অস্থায়ী আশ্রয়সামগ্রী, কম্বল, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সামগ্রী (হাইজিন কিট), সোলার ল্যাম্প ও ওষুধ বহন করে নিয়ে যায়। দ্বিতীয় বিমানটি—একটি সি-১৭ (C-17)—৩৭.৫ টন সামগ্রী নিয়ে যায়; এর মধ্যে ছিল ২৮.৫ টন ত্রাণসামগ্রী (যেমন—তাঁবু, কম্বল, হাইজিন কিট, সোলার ল্যাম্প, জল নিষ্কাশনের পাম্প, রান্নার সরঞ্জাম ও জেনারেটর), ৮ টন ওষুধ এবং ১ টন খাদ্যসামগ্রী। শুক্রবার আরও ১০ টন মানবিক সহায়তা নিয়ে তৃতীয় একটি বিমান কাঠমান্ডুর উদ্দেশে রওনা হয়।

হিমালয়ের দেশে এখন শুধুই হাহাকার। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে উদ্ধারকাজ। জীবনের খোঁজে উড়ছে সেনা হেলিকপ্টার। উড়ছে ড্রোন। বুধবার সকালের জল-প্রলয়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে নেপালের ৮টি জেলার একাধিক জায়গা। ক্রমেই লম্বা হচ্ছে মৃত্যু মিছিল।



Post Comment

You May Have Missed