সরকারি স্কুলেই প্রযুক্তির বিপ্লব, ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’ পাচ্ছেন বর্ধমানের পলাশ চৌধুরী

কমল কৃষ্ণ দে, বর্ধমান: অগমেন্টেড রিয়ালিটি থেকে এআই,সরকারি স্কুলেই প্রযুক্তির বিপ্লব।’জাতীয় শিক্ষক’ সম্মানে সম্মানিত হচ্ছেন বর্ধমানের পলাশ চৌধুরী। ইচ্ছা থাকলেই উপায় হয়, সরকারি স্কুলেই মিলতে পারে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া।বইয়ের পাতায় আটকে থাকা একঘেয়ে পড়া নয়, সরকারি স্কুলের খুদে পড়ুয়ারা এখন ক্লাসরুমে বসেই ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে দেখছে হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন কিংবা সৌরজগতের গ্রহদের ঘূর্ণন। পাশাপাশি শিখছে বাস্তব জীবনের নানান পাঠ।

আরও পড়ুন, “যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে”, বড় বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, ‘নাম-ঠিকানা’ সংগ্রহ নিয়ে কী বললেন ?

যেখানে সরকারি স্কুলে পড়ুয়া কমার ছবিটাই দস্তুর হয়ে দাঁড়িয়েছে, সেখানে প্রযুক্তি আর আধুনিক শিক্ষাপদ্ধতিকে হাতিয়ার করে যেন সেই ছবি বদলে দিয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী। তাঁর এই অভিনব ভাবনার স্বীকৃতি হিসেবেই ২০২৬ সালের ‘জাতীয় শিক্ষক পুরস্কার’ পাচ্ছেন তিনি। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর হাত থেকে তিনি এই সম্মান গ্রহণ করবেন। আর শুধু অগমেন্টেড রিয়ালিটি ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটির মাধ্যমে কঠিন পাঠ্য বিষয়গুলোকে পড়ুয়াদের চোখের সামনে জীবন্ত করে তোলাই নয়,এই স্কুলে রয়েছে পড়ুয়া ও শিক্ষকদের জন্য ডিজিটাল অ্যাটেনডেন্স সিস্টেম, নিজস্ব অ্যাপ।

যে অ্যাপের মাধ্যমে উপস্থিতি, প্রতিদিনের পড়াশোনা, মার্কশিট থেকে শুরু করে ছুটির আবেদন,সবকিছুই পরিচালিত হয় ডিজিটাল মাধ্যমে এবং তা সরাসরি দেখতে পান অভিভাবকরাও। পড়ুয়াদের জন্য রয়েছে ‘ম্যাগনেটিক ফিল্ড বোর্ড’ এবং ‘জিওমেট্রিক পার্ক’-এর মতো আকর্ষণীয় টিএলএম। কেবল তা-ই নয়, শিশুদের মধ্যে ভাগ করে খাওয়ার মানসিকতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি গড়ে তুলতে চালু রয়েছে নিজস্ব ‘ব্রেকফাস্ট প্রকল্প’, যেখানে বড় ক্লাসের পড়ুয়ারা ছোটদের খাবার পরিবেশন করে। সরকারি স্কুলে এই আধুনিক সুবিধা শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও সহকর্মীদের সহযোগিতায় নিজের বিদ্যালয়ের এসবই গড়ে তুলেছেন শ্রীরামকৃষ্ণ সারদা বিদ্যাপীঠ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী।

আর এই প্রযুক্তির আলো স্কুলের চার দেওয়াল পেরিয়ে পৌঁছে গেছে প্রত্যেক পড়ুয়ার ঘরে ঘরেও। মায়েদের সচেতন করতে স্কুলে চালু রয়েছে বিশেষ ‘সাঁঝের আলো’ কর্মসূচি। সেখানে এটিএম ব্যবহার, স্বাস্থ্যবিধি ও আপৎকালীন সিপিআর দেওয়ার পাশাপাশি স্মার্টফোনকে শিক্ষার কাজে লাগানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। মায়েদের ফোনে ইনস্টল করে দেওয়া হয়েছে তিনটি বিশেষ এআই অ্যাপ, যাতে গৃহশিক্ষক না থাকলেও বইয়ের ছবি স্ক্যান করে মা নিজেই সন্তানকে পড়া বুঝিয়ে দিতে পারেন। এছাড়া পড়ুয়া ও স্থানীয়দের জন্য খোলা থাকে বিশেষ ‘রাইটিং ক্লাব’। প্রধান শিক্ষক পলাশ চৌধুরী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল ভালো পরীক্ষার ফল নয়, প্রযুক্তিকে ছড়িয়ে দিয়ে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ ঘটানো।” গতানুগতিক পড়াশুনার পাশাপাশি শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যাবহার এবং ভবিষ্যত প্রজন্ম-কে বিভিন্ন বাস্তবমুখী জ্ঞানে সমৃদ্ধ করায় জাতীয় শিক্ষকের সন্মান বলে মনে করছেন তাঁর সহকর্মীরাও। প্রধান শিক্ষকের এই সন্মানে খুশী তাঁরাও।

Post Comment

You May Have Missed