ভারতে বাড়ছে গোল্ড লোনের চাহিদা, ৫ বছরে বাজারের ১০ শতাংশ দখলের পূর্বাভাস দিচ্ছে JPMorgan
কলকাতা: ভারতে রিটেল ক্রেডিটের অন্যতম দ্রুতবর্ধনশীল ক্ষেত্র হয়ে উঠছে গোল্ড লোন। আন্তর্জাতিক ব্রোকারেজ সংস্থা JPMorgan-এর মতে, আগামী পাঁচ বছরে দেশের মোট ঋণের প্রায় ১০ শতাংশ দখল করতে পারে গোল্ড লোন। ২০২৪ অর্থবর্ষে যেখানে এই অংশ ছিল মাত্র ২ শতাংশ, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫ শতাংশে পৌঁছেছে।
জেপি মর্গ্যানের ‘India Gold Lenders: The Credit Gold Rush’ রিপোর্টে এই খাতের উপর আশাবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। সংস্থাটি IIFL Finance, Manappuram Finance এবং Muthoot Finance-এর উপর কভারেজ শুরু করে তিন সংস্থাকেই ‘Overweight’ রেটিং দিয়েছে। ব্রোকারেজের মতে, গোল্ড লোনের পরবর্তী বৃদ্ধির পর্ব কোনও সাময়িক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে না, বরং কাঠামোগত বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর অন্যতম কারণ হল সোনার প্রতি ভারতীয় পরিবারের দীর্ঘদিনের আস্থা। একসময় পরিবারের সম্পদ বা অলঙ্কার হিসেবে দেখা হলেও এখন সেই সোনাকে প্রয়োজনে দ্রুত ঋণ পাওয়ার জন্য ব্যবহার করছেন বহু মানুষ। বিশেষ করে ব্যক্তিগত এবং ছোট ব্যবসায়িক ঋণের বিকল্প হিসেবে গোল্ড লোনের ব্যবহার বাড়ছে।
JPMorgan-এর মতে, অনিরাপদ ঋণের তুলনায় গোল্ড লোনে সুদের হারের ব্যবধান প্রায় ৩-৬ শতাংশ পয়েন্ট হতে পারে। ফলে ঋণগ্রহীতার জন্য খরচ কম হওয়ার পাশাপাশি ঋণদাতারাও তুলনামূলক কম ঝুঁকির সিকিওর্ড লোনের বই তৈরি করতে পারছেন।
দেশে বিপুল পরিমাণ সোনা থাকা সত্ত্বেও গোল্ড লোনের বাজার এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। নিম্ন আয়ের ৬০ শতাংশ পরিবারের হাতে থাকা সোনার মাত্র প্রায় ১১ শতাংশ বর্তমানে বন্ধক রাখা হয়েছে। এর মধ্যে NBFC-গুলির মাধ্যমে বন্ধক রাখা হয়েছে মাত্র প্রায় ৩ শতাংশ।
দক্ষিণ ভারতকে গোল্ড লোনের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ বাজার মনে করা হলেও JPMorgan সেই ধারণা খারিজ করেছে। দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ পারিবারিক সোনা দক্ষিণ ভারতে থাকলেও সেখানে গোল্ড লোনের প্রবেশ অন্য অঞ্চলের তুলনায় খুব বেশি নয়।
গোল্ড লোনের গুরুত্ব বৃদ্ধির আরও একটি প্রমাণ মিলছে রিটেল ঋণ বিতরণে। FY23-তে রিটেল ক্রেডিট ডিসবার্সমেন্টে গোল্ড লোনের অংশ ছিল ১৮ শতাংশ, যা FY26-এ বেড়ে ৪১ শতাংশ হয়েছে। একই সময়ে ব্যক্তিগত ও ছোট ব্যবসার অনিরাপদ ঋণের অংশ ৫৫ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে নেমেছে।
Post Comment