মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে ইতিহাস! সচিন-শেফালির রেকর্ড ভেঙে ভারতীয় দলে অভিষেক বিস্ময় বালক বৈভবের
Cricket
-Ritesh Ghosh
ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল ওল্ড ট্রাফোর্ড। মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিন বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রেখে ইতিহাস গড়ল নতুন ব্যাটিং বিস্ময় বৈভব সূর্যবংশী। এদিন শনিবার ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে ভারতের নীল জার্সি গায়ে চাপাল এই কিশোর বাঁহাতি ব্যাটার। এর ফলে পুরুষ ও মহিলা ক্রিকেট মিলিয়ে ভারতের সর্বকনিষ্ঠ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে অনন্য নজির গড়ল বৈভব।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চলতি পাঁচ ম্যাচের টি২০ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বৈভবের হাতে অভিষেক টুপি তুলে দেওয়া হয়। সিনিয়র দলের হয়ে তার এই স্বপ্নের অভিষেকের মুহূর্তে ভারতীয় ক্রিকেট মহলে তৈরি হল এক অত্যন্ত আবেগঘন পরিবেশ। আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের আগে শ্রীলঙ্কায় ভারত ‘এ’ দলের হয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলেছিল বৈভব। সেখানে তার অধিনায়ক থাকা তিলক বর্মা এদিন ওল্ড ট্রাফোর্ডে তার হাতে এই বিশেষ ক্যাপটি তুলে দেন।

বৈভবের এই অভিষেক ভারতীয় ক্রিকেটের একাধিক মহীরুহের রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। এত দিন পর্যন্ত ভারতের পুরুষ ক্রিকেটে সবচেয়ে কম বয়সে আন্তর্জাতিক অভিষেকের রেকর্ডটি ছিল স্বয়ং সচিন তেন্ডুলকরের দখলে। ১৯৮৯ সালের নভেম্বর মাসে করাচিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যখন সচিনের টেস্ট অভিষেক হয়েছিল, তখন তাঁর বয়স ছিল ১৬ বছর ২০৫ দিন। দীর্ঘ দিন অক্ষুণ্ণ থাকা সেই কঠিন রেকর্ড এবার নিজের নামে করে নিল বিহারে জন্ম নেওয়া এই তরুণ বাঁহাতি খেলোয়াড়।
শুধু সচিন তেন্ডুলকরই নন, বৈভব সূর্যবংশী ভেঙে দিয়েছে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের ব্যাটার শেফালি বর্মার রেকর্ডও। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যখন সুরতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে শেফালির আন্তর্জাতিক টি২০ অভিষেক হয়, তখন তার বয়স ছিল ১৫ বছর ২৩৯ দিন। বৈভব তার চেয়েও কম বয়সে ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক আসরে মাঠে নামল। এই নতুন বিশ্বরেকর্ডের পর থেকেই ক্রীড়াজগতে তাকে নিয়ে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে।
ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় দলের অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। টসের সময় তিনি নিশ্চিত করেন যে, প্রথম একাদশে অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটার সঞ্জু স্যামসনের জায়গায় সুযোগ দেওয়া হয়েছে বৈভবকে। শ্রেয়সের এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে বেশ রোমাঞ্চকর ছিল। তবে ভারতীয় অধিনায়কের মতে, বৈভবের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সই তাকে দলের প্রথম একাদশে সরাসরি জায়গা করে দিয়েছে।
বৈভবের ব্যাটিং বীরত্ব নিয়ে বলতে গিয়ে টসের সময় শ্রেয়স আইয়ার বলেন, “অসাধারণ সাহসের পরিচয় দিয়েছে ও। গত কয়েক মাসে ও যেভাবে বল উড়িয়ে মারছে এবং বিশ্বের সেরা বোলারদের বিরুদ্ধে কোনও ভয় ছাড়াই রান তুলছে, তা থেকে ওর গভীর আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ পাওয়া যায়।” ভারতীয় শিবিরে বৈভবের অন্তর্ভুক্তি দলের আক্রমণাত্মক মনোভাবকে যে অনেকটাই স্পষ্ট করে তুলেছে, তা অধিনায়কের কথা থেকেই পরিষ্কার হয়ে যায়।
গত কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজে ভারতীয় ব্যাটিং অর্ডারের দুর্বলতা বেশ স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে এর আগের সিরিজে আয়ারল্যান্ডের কাছে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক হারের মুখ দেখতে হয়েছে ভারতীয় দলকে। সেই হতাশাজনক ফলাফলের পর থেকেই দলের টপ অর্ডারে নতুন ও ঝোড়োরকম ব্যাটিং করতে পারা ক্রিকেটারের খোঁজ চলছিল। আইপিএলে বৈভবের বিধ্বংসী ইনিংস এবং ঘরোয়া ক্রিকেটে তার ধারাবাহিক রান তোলার অদম্য ক্ষমতাই তাকে জাতীয় দলে টেনে আনে।
অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার আরও জানান, বৈভবকে দলে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার ওপর কোনও বাহ্যিক চাপ ছিল না। খেলোয়াড় হিসেবে বৈভবের যোগ্যতা নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের মনে কোনও সন্দেহ ছিল না। শ্রেয়স বলেন, “গত কয়েক মাস ধরে বৈভব যেভাবে খেলছে, তাতে ও এই দলে ঢোকার শতভাগ যোগ্য। সবচেয়ে বড় কথা হল, ও কোনও ধরনের বাড়তি চাপ মাথায় নেয় না। ড্রেসিংরুমে ওর ভয়ডরহীন মানসিকতা দলের পরিবেশকে বদলে দেয়।”
টিম ম্যানেজমেন্টের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বড় মঞ্চের উত্তাপ ও পরিবেশ সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল এই তরুণ ক্রিকেটার। তবে তার শান্ত স্বভাব এবং পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা তাকে অন্যান্য সমবয়সী খেলোয়াড়দের চেয়ে আলাদা করে তুলেছে। নেটে বৈভব যেভাবে প্রথম সারির বোলারদের শাসন করে, তা থেকে তার ব্যাটিং চরিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের দীর্ঘদিনের ব্যাটিং ভরসা হয়ে ওঠার সব উপাদানই বৈভবের মধ্যে রয়েছে।যদিও এদিন বৈভব ব্যাট হাতে বিশেষ সুবিধা করতে পারেনি। ১০ বলে মাত্র ১৪ রান করে আউট হয় সে। তবে এই ছোট ইনিংসেও ২টি ছক্কা হাঁকায় বৈভব।



Post Comment