Ritabrata Banerjee: ‘মেসেজ বাইরে আসলে আরও বিব্রত হবেন,’ চন্দ্রিমা বেরিয়ে আসার পরেই চাঁচাছোলা ঋতব্রত! মমতাকে ইঙ্গিত, ‘মুখ পোড়া ভাল নয়’
Last Updated:
Ritabrata Banerjee: ঋতব্রত বলেন, ‘‘পার্টি অফিসের একাধিক রুম মালিক নিয়ে নিয়েছেন। ২০২০ সালের ২১ শে জুলাই আমাকে রাজ্য কমিটির সম্পাদক করা হয়। আমি একটা মিটিংয়ে যাইনি। আর আমরা আগামি বুধবার ও বৃহস্পতিবার আমাদের জাতীয় কর্মসমিতি হবে।’’
কলকাতা: গত শুক্রবার একটা নাটকীয় সন্ধে দেখেছে বঙ্গ৷ মেট্রোপলিটনে তৃণমূলের ভাড়া করা ‘তৃণমূল ভবন’-এ ঢুকে মমতাহীন ব্যানার টাঙিয়ে ঘরে বসে পড়েছিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিমেরা৷ পরে সেখানে উপস্থিত হন আদি তৃণমূলের কুণাল ঘোষ, সৌগত রায়৷ দু’পক্ষের দড়ি টানাটানির মাঝে তৃণমূল ভবনে তালা লাগিয়ে দেয় পুলিশ৷ তারপরে, শনিবার দুপুরেই ফের ধাক্কা পৌঁছল কালীঘাট তৃণমূলে৷ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছেড়ে বেরিয়ে এলেন তাঁর ঠিক করে দেওয়া ‘রাজ্য সভাপতি’ চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য৷ এদিন তাঁকে বিধানসভায় ঋতব্রতদের ঘরে বিদ্রোহী বিধায়কদের সঙ্গেই বসতে দেখা গেল তাঁকে৷ কী কথা হল? চন্দ্রিমার এভাবে কালীঘাট তৃণমূলের সঙ্গত্যাগ, সব কিছু নিয়ে কী প্রতিক্রিয়া জানালেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?
এদিন ফেসবুক লাইভে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, সুব্রত বক্সি অসুস্থ থাকার কারণেই চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে অস্থায়ীরূপে রাজ্য সভাপতি করেছিলেন তিনি৷ এবার থেকে দেশীয় এবং রাজ্য উভয় স্তরে তিনি নিজেই দায়িত্ব সামলাবেন৷ এই প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে নব্য তৃণমূলের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য অস্থায়ী রাজ্য সভাপতি ছিলেন। কালীঘাট তো সোশ্যাল মিডিয়া ফ্রেন্ডলি। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আজ এলেন তো। দেখা করে গেলেন। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে মালিক ছাড়া কাউকে ভরসা করা যায় না। সবাই কর্মচারী এটাই মাইন্ডসেট।’’
ঋতব্রতের কটাক্ষ, ‘‘দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ উনি (চন্দ্রিমা)। রাজ্যের সভানেত্রী ছিলেন কালীঘাটের কমিটির। যার নাম ঘোষণা করছে একটু খোঁজ নিয়ে করুন। মালা দি, চন্দ্রিমা দি সবাই ছেড়ে দিল। জেলার সভাপতিরা পদত্যাগ করল। রাাজ্যের মেম্বার যাদের করলেন তাঁরাও সরলেন। কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ঠাওর করতে পারছেন না।’’ প্রসঙ্গত, বারবার কমিটি ঘোষণা করার পর পর দেখা গিয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের কমিটির পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নেতৃত্বদের অনেকেই৷ সেই প্রসঙ্গ তুলেই এদিন কটাক্ষ করেন ঋতব্রত৷
নব তৃণমূলের নেতার বক্তব্য, ‘‘বিনীত ভাবে বলছি, মুখ পোড়া ভাল নয়। মালিকের বিরুদ্ধে কে কোথায় কী বলছেন? খোঁজ করুন। মেসেজ বাইরে আসলে আরও বিব্রত হবেন।’’
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ‘‘আজ সকলের সাথে ওঁর ব্যক্তিগত কথা হল। সবার যা অভিমত, চন্দ্রিমাদির অভিজ্ঞতা ভিন্ন কিছু নয়। অভিজ্ঞতা সবার এক জায়গায় এসে মিশে যাচ্ছে। ইন্ট্রোস্পেকশন বলে একটা কথা আছে। এত বেইমান? আমাকে আর সন্দীপনকে দিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ এক মিউনিসিপ্যাল চেয়ারম্যান এসে বসেছিল। যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেস করতেন, তাঁরা আগে কংগ্রেস করতেন। রাজীব গান্ধি সব দেন, তার পরে তৃণমূল হয়। কাচের ঘরে বসে ঢিল মারবেন না।’’
তাঁর কটাক্ষ, ‘‘কার টাকা কোথায়, কোন সাংবাদিকের ভাইয়ের কাছে আছে। তার তদন্তের দাবি করব। ভোটের আগে আমার সাথে আছে সাত জন এই বলে কারা কারা কোথায় জানিয়েছেন তা বেরিয়ে যাবে। সাধু সাবধান।’’
দলের নাম, প্রতীক, সম্পত্তি দাবি করে নির্বাচন কমিশনে গিয়েছে নব তৃণমূল৷ সম্প্রতি, এবিষয়ে ঋতব্রত এবং মমতা দুই তৃণমূলকেই চিঠি পাঠিয়েছে কমিশন৷ তার আগেই অবশ্য পদত্যাগ করলেন মমতার কমিটির রাজ্য সভাপতি চন্দ্রিমা৷ এদিনের ফেসবুক লাইভ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধেও কথা বলতে শোনা যায় মমতাকে৷ আশঙ্কাপ্রকাশ করেন দলীয় প্রতীক হারানোর৷ তাঁর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ঋতব্রত বলেন, ‘‘জ্ঞানেশ কুমার একটা চেয়ার। চেয়ারকে অপমান করা যায় না। প্রতীকের কথা বলছেন কেন? ঠাকুরঘরে কে আমি তো কলা খাইনি বলছেন কেন?’’
তিনি বলেন, ‘‘আমরা ২৩ জুন নিয়ম মতো আমরা লিখিত ভাবে আমাদের দলের সিদ্ধান্ত জানাই। আমরা ফুল বেঞ্চের সাথে কথা বলতে যাই। এটাই দস্তুর। আমি দিল্লিতে থাকাকালীন ২ জুলাই ১৯:২২,১৯:২৩ মেইল পাই। কমিশন থেকে ইসিআই চিঠি দেয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও আমাকে দেওয়া হয়েছে চিঠি। সেদিন চিঠি পাইনি বলেছিল। প্যাথলজিক্যাল লায়ার।’’




Post Comment