কৃষ্ণনগরে মহুয়াকে ‘ডিম থেরাপি’র চেষ্টা! হামলার মুখে লাইভ ভিডিও কালীঘাট তৃণমূল সাংসদের
West Bengal
-Ritesh Ghosh
বাংলার রাজনীতি আবার উত্তপ্ত কৃষ্ণনগরের কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্রর লাইভ ভিডিওয় করা অভিযোগকে কেন্দ্র করে। দলীয় কর্মীদের সাথে এক সাংগঠনিক বৈঠক চলাকালীন তাঁর সভাস্থলে ডিম ও পাথর ছুড়ে হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। ঘটনার একটি লাইভ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে সরাসরি বিজেপির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন মহুয়া।
মহুয়া মৈত্রর দাবি, তিনি যখন দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করছিলেন, তখন আচমকাই বিজেপি আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী তাঁর সভাস্থল লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ঘটনাস্থল থেকে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, একটি বহুতলের জানলা লক্ষ্য করে বাইরে থাকা ভিড় অবিরত ডিম ছুড়ছে। জানলার কাচে ডিম এসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে বলেও তিনি জানিয়েছেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

এই ঘটনার পরপরই পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজিপি) সিদ্ধনাথ গুপ্তাকে উদ্দেশ্য করে একটি বিশেষ ভিডিও বার্তা পাঠান লোকসভার এই তৃণমূল সাংসদ। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, দলীয় সভার বাইরে একটি বড় ভিড় জড়ো হয়ে ক্রমাগত ডিম এবং পাথর ছুড়ছিল। তিনি যখন পরিস্থিতি দেখতে জানালার কাছে যান, তখন একটি পাথরের আঘাতে তিনি সামান্য আহত হন। এই ঘটনার সময় পুলিশ সেখানে উপস্থিত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকরী ভূমিকা নেয়নি বলে তাঁর দাবি।
তৃণমূল সাংসদের অভিযোগ, তিনি ব্যক্তিগতভাবে ডিজিপিকে ফোন করে নিজের বর্তমান অবস্থান এবং লাইভ লোকেশন শেয়ার করেছিলেন। পুলিশ বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলেও হামলাকারীদের ছত্রভঙ্গ করার পরিবর্তে তারা নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। মহুয়া মৈত্র রাজ্য পুলিশের সর্বোচ্চ কর্তাকে অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার এবং কর্তব্য পালনের মাধ্যমে ওই হামলাকারী জনতাকে হটিয়ে দেওয়ার জন্য জোরালো আবেদন জানান।
এই ঘটনার পর বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য হামলার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। গেরুয়া শিবিরের দাবি, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফল এবং এর সাথে তাদের দলের কোনো কর্মী যুক্ত নন। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষ্ণনগর ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক পরিবেশ নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনার পেছনে প্রকৃতপক্ষে কারা রয়েছে, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের লক্ষ্য করে ডিম হামলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত কয়েক সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গে শাসক দলের একাধিক প্রথম সারির নেতার ওপর প্রায় একই কায়দায় ডিম ও পাথর ছোড়ার ঘটনা সামনে এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিবাদের এই নতুন ধরন রাজ্য রাজনীতির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এক বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিয়েছে।
এই ধারাবাহিক হামলার সূত্রপাত হয়েছিল গত ৩০ মে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে। নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সাথে দেখা করতে তিনি যখন দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুরে গিয়েছিলেন, তখন একদল ক্ষুব্ধ মানুষ তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম এবং পাথর ছুড়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিষেক সামান্য আঘাত পেয়েছিলেন এবং পরে এই ঘটনাকে তিনি চরম অগণতান্ত্রিক আচরণ বলে কঠোর সমালোচনা করেন।
এরপর গত ১৫ জুন আরও এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে কলকাতার বুকে। তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র তথা দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষকে লক্ষ্য করে কালীঘাটে দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনের বাইরে ডিম ছোড়া হয়। তিনি যখন দলীয় কার্যালয় থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন এই অতর্কিত হামলা চালানো হয়। কুণাল ঘোষ এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে কালীঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
একইভাবে, তৃণমূলের নেতাদের দেখলেই জনতা ডিম ছুড়ছে বলে নানা জায়গায় অভিযোগ উঠেছে। আগামিদিনে এই ডিমথেরাপি কোন জায়গায় গিয়ে থামে, সেটাই এখন দেখার।



Post Comment