স্বাধীনতার পর ভোটদানের হারে দেশের সর্বকালীন রেকর্ড গড়ল পশ্চিমবঙ্গ !
কলকাতা: প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও উপচে পড়ল ইভিএম! ভোট পড়ল ৯২.৫৬ শতাংশ। ২ দফায় গড় ভোটের হার প্রায় ৯৩ শতাংশ। দ্বিতীয় দফার ভোটে যে কেন্দ্রের দিকে সবার নজর ছিল, সেই ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
সকাল থেকে বুথের বাইরে ভোটারদের লম্বা লাইন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর কড়া নিরাপত্তায়, হাসিমুখে ভোটদান। আট থেকে আশি….দাদু-ঠাকুমার সঙ্গে অষ্টাদশী নাতনি। উপচে পড়ল ইভিএম। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে ভোটদানের সর্বোচ্চ হার ছিল ২০১১ সালে। ‘পরিবর্তনের’ সেই বিধানসভা নির্বাচনে ভোট পড়েছিল ৮৪.৪৬ শতাংশ। ভেঙে পড়ে গেছিল ৩৪ বছরের বাম শাসন। ক্ষমতায় এসেছিলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সিপিএমের পতন ঘটেছিল। এখনও সিপিএম শূন্য়ের গেরো কাটাতে পারেনি। আর পরিবর্তনের সেই বিধানসভা ভোটের চেয়েও অনেক বেশি ভোট পড়ল এবার।
ভোট শেষ হওয়ার অনেক আগেই ছাপিয়ে গেল ২০১১ সালের ভোটের রেকর্ড। উপচে পড়ল ইভিএম। দু হাত খুলে ভোট দিলেন সাধারণ মানুষ। আর তাই প্রশ্ন এখন একটাই এবারের ভোটে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবে কোন দল? এবারের ভোটে কাদের করুণ রাজনৈতিক পরিণতি ঘটতে চলেছে? কে বসতে চলেছে সিংহাসনে? ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে এবার কে ভিক্ট্রি সাইন দেখাবে? এবারও নবান্ন থেকে ভিক্ট্রি সাইন?
না কি কার্যত আড়ালে অভিমানে পড়ে থাকা রাইটার্স ভবন থেকে পথ চলা শুরু হবে? পরিবর্তন না প্রত্য়াবর্তন?
প্রথম দফার মতো দ্বিতীয় দফাতেও বাম্পার ভোট পড়ল। নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, দ্বিতীয় দফায় এরাজ্য়ে ভোট পড়েছে ৯২.৫৬ শতাংশ। ২ দফার গড় ভোটের হার ৯২.৮৭ শতাংশ। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ, তাঁরা নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন এবং প্রচুর মানুষ ভোটদান করছেন। নির্বাচন কমিশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় বুধবার, সকাল ৯টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ১৮.৩৯ শতাংশ। সকাল ১১টায় সেই হার দাঁড়ায় ৩৯.৯৭ শতাংশ। ৬১.১১ শতাংশ ভোট পড়ে যায় দুপুর ১টা পর্যন্ত। দুপুর ৩টে প্রদত্ত ভোটের হার দাঁড়ায় ৭৮.৬৮ শতাংশ। বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট পড়ে ৮৯.৯৯ শতাংশ। শেষ অবধি সেই হার দাঁড়ায় ৯২.৫৬ শতাংশে।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সব থেকে বেশি ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে, ৯৩.৭৯%। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ৯৩.১৫%, উত্তর ২৪ পরগনা ৯২.৮২%, হাওড়া ৯২.৫২%, নদিয়া ৯২.০৭%, হুগলিতে ৯১.৯৩%, কলকাতা উত্তরে ৮৯.৩৫%, কলকাতা দক্ষিণে ৮৭.৮৪% ভোট পড়েছে। আর দ্বিতীয় দফার ভোটে যে কেন্দ্রের দিকে সবার নজর ছিল, সেই ভবানীপুর কেন্দ্রে ভোট পড়েছে ৮৬ দশমিক ৭৪ শতাংশ।ভোট শেষ , সিদ্ধান্ত বাক্সবন্দি, বাক্স খুললে কে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠবে? কোন রংয়ের আবীরে রাংবে পশ্চিমবঙ্গ?তা দেখারই অপেক্ষা।



Post Comment