লক্ষ্মীপুজোর আগেই ১ দিনে সোনার দামে বিরাট পতন ! আজ এত সস্তায় পাবেন সোনা

কলকাতা: সামনেই লক্ষ্মীপুজো। তারপর ধনতেরস। তার আগে সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন? তাহলে এই সময় সোনার দামের ওঠানামা  সম্পর্কে জেনে রাখুন। উৎসবের মরশুমে সোনা কেনার রেওয়াজ বহু দিনের। প্রতিদিনই সোনার দাম প্রকাশ করে কলকাতার স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির (Swarna Shilpa Bachao Committee বা SSBC) । তাদের প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ২২ অক্টোবরের পর হঠাৎ অনেকটাই কমেছে সোনার দাম।  ২৩ অক্টোবর সোনা ও রুপোর দাম বেশ কিছুটা কমে গিয়েছে।  ধনতেরসের আগে এই দামের পরিবর্তন ক্রেতাদের মুখে হাসি ফোটাবেই। 
 
২২ ক্যারেট সোনার দাম

প্রথমেই আসা যাক ২২ ক্যারেট সোনার দামে। ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ কলকাতায় প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনার বিক্রয়মূল্য ছিল ১৩,৫২৫ টাকা। পরের দিন, অর্থাৎ ২৩ অক্টোবর, সেই দাম কমে হয়েছে ১৩,৩৫০ টাকা প্রতি গ্রাম। অর্থাৎ, একদিনে প্রতি গ্রামে ১৭৫ টাকা কমেছে ২২ ক্যারেট সোনার দাম। অর্থাৎ ১০ গ্রাম ২২ ক্যারেট সোনা কিনতে ২২ অক্টোবর যেখানে খরচ হত ১,৩৫,২৫০ টাকা, সেখানে ২৩ অক্টোবর খরচ হচ্ছে ১,৩৩,৫০০ টাকা। গয়না তৈরির মজুরি এবং প্রযোজ্য জিএসটি এতে যুক্ত নেই।

২৪ ক্যারেট বা খাঁটি সোনার দামও কমল

শুধু ২২ ক্যারেট নয়, খাঁটি সোনার দামেও একদিনের ব্যবধানে পতন হয়েছে। ২২ অক্টোবর প্রতি গ্রাম ৯৯৫ বিশুদ্ধতার সোনার দাম ছিল ১৪,২৩৬ টাকা। ২৩ অক্টোবর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১৪,০৫৪ টাকায়। অর্থাৎ, প্রতি গ্রামে দাম কমেছে ১৮২ টাকা। অর্থাৎ, ১০ গ্রামে দাম কমেছে ১,৮২০ টাকা। যাঁরা ধনতেরসে সোনার কয়েন, বিস্কুট বা খাঁটি সোনা কেনার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের কাছে এই দাম কমা খুব খুশির খবর।  

১৮ ক্যারেট সোনার দাম 

গয়না তৈরিতে ১৮ ক্যারেট  ব্যবহার হয় বিশেষত হিরে বা পাথর  সেটিং গয়নার ক্ষেত্রে  ।  SSBC-র প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর প্রতি গ্রাম ১৮ ক্যারেট সোনার দাম ছিল ১১,১০৫ টাকা। ২৩ অক্টোবর সেই দাম কমে হয়েছে ১০,৯৬০ টাকা। অর্থাৎ, একদিনে প্রতি গ্রামে ১৪৫ টাকা কমেছে। গয়না কেনার ক্ষেত্রে ক্যারেটের পাশাপাশি হলমার্ক ও গয়নার বিশুদ্ধতা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।

 রুপোর দাম

উৎসবের মরশুমে সোনার পাশাপাশি রুপো কেনার প্রবণতাও থাকে। ধনতেরসে অনেকে রুপোর কয়েন, বাসনপত্র কিংবা অন্যান্য সামগ্রী কেনেন। কলকাতায় SSBC-র প্রকাশিত সূচক অনুযায়ী, ২২ অক্টোবর ২০২৬-এ ৯৯৯ বিশুদ্ধতার এক কেজি রুপোর বারের দাম ছিল ২,০৩,৫১৩ টাকা। ২৩ অক্টোবর তা কমে হয়েছে ১,৯৬,১৬৫ টাকা। অর্থাৎ, একদিনের ব্যবধানে এক কেজি রুপোর দামে ৭,৩৪৮ টাকা পতন হয়েছে। সোনার তুলনায় রুপোর দামের এই পরিবর্তনও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। তবে রুপোর গয়না বা অন্যান্য সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে বিশুদ্ধতা, মজুরি এবং বিক্রেতার ধার্য করা অতিরিক্ত খরচের বিষয়টিও মাথায় রাখা প্রয়োজন।

সোনা বিক্রি করলে কত টাকা পাওয়া যাবে?

সোনার কেনা ও বিক্রির দামের মধ্যে পার্থক্য থাকে। SSBC-র সূচক অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার  ক্রয়মূল্য প্রতি গ্রাম ১২,৭৮৯ টাকা। ২২ অক্টোবর ২২ ক্যারেট সোনার  ক্রয়মূল্য ছিল ১২,৯৫৪ টাকা।  তবে পুরনো গয়না বিক্রি করলে বাস্তবে কত টাকা পাওয়া যাবে, তা গয়নার বিশুদ্ধতা, ওজন, পাথর বা অন্যান্য উপাদান এবং সংশ্লিষ্ট দোকানের নিয়মের উপর নির্ভর করে।

এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, SSBC-র এই সূচকে দেওয়া দামগুলির সঙ্গে ৩ শতাংশ জিএসটি যুক্ত নেই। গয়না কেনার সময় এর সঙ্গে প্রযোজ্য কর এবং মজুরি যোগ হওয়ায় চূড়ান্ত দাম আরও বাড়তে পারে।

ধনতেরসে কেন সোনা কেনার রীতি?

ধনতেরস দীপাবলি উৎসবের সূচনাপর্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনে সোনা, রুপো কিংবা নতুন বাসনপত্র কেনা শুভ। হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাসে ধনসম্পদ ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী এবং আয়ুর্বেদের দেবতা ধন্বন্তরীর সঙ্গে এই দিনের বিশেষ যোগ রয়েছে। বিশ্বাস করা হয়, ধনতেরসে নতুন ধাতব সামগ্রী বা মূল্যবান ধাতু কেনা পরিবারে সৌভাগ্য, সমৃদ্ধি ও আর্থিক স্থিতির প্রতীক।

এই কারণেই প্রতি বছর ধনতেরসের সময় সোনা ও রুপোর দোকানে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। অনেকে সোনার গয়না কেনেন, কেউ কেনেন সোনার কয়েন বা বিস্কুট, আবার অনেকে বাজেটের কথা মাথায় রেখে রুপো কেনেন। তবে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সোনা কেনার ক্ষেত্রে আর্থিক পরিকল্পনা করাও জরুরি। শুধু উৎসবের আবেগে কেনাকাটা না করে, নিজের বাজেট, সোনার বিশুদ্ধতা, হলমার্ক, মজুরি এবং চূড়ান্ত দাম যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

সব মিলিয়ে, ধনতেরসের আগে কলকাতায় সোনা ও রুপোর দামে একদিনে অনেকটা দাম কমল। 

Post Comment

You May Have Missed