Business Growth: ই-কমার্সের কৃপায় বিশ্বজুড়ে তুমুল চাহিদা, তাঁতিদের নয়া বিজনেস মডেলে কপালে ফিরছে সুখের দিন
Last Updated:
Business Growth: শান্তিপুরের তাঁতঘরে সুতো বোনার খটখট শব্দের সঙ্গে এবার যুক্ত হয়েছে ডিজিটাল যুগের হাতছানি। বিভিন্ন নামী ই-কমার্স সংস্থার সহযোগিতায় শান্তিপুরের তাঁত ও জামদানি শাড়ির অনলাইন বিক্রি শতকোটি টাকা ছাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে। যা নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতে।
শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: শান্তিপুরের তাঁতঘরে আজও শোনা যায় সুতো বোনার চেনা খটখট শব্দ। দক্ষ হাতে তৈরি হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী সুতির শাড়ি ও জামদানি। তবে সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে এই শিল্পের বিপণন ব্যবস্থা। স্থানীয় হাট, পাইকারি বাজার ও পরিচিত ব্যবসায়ীদের গণ্ডি পেরিয়ে এবার অনলাইন বিপণনের হাত ধরে দেশ-বিদেশের বাজারে পৌঁছনোর স্বপ্ন দেখছেন শান্তিপুরের তাঁতিরা। ফ্লিপকার্ট ও অ্যামাজ়নের মতো ই-কমার্স সংস্থার উদ্যোগে ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পে তৈরি হচ্ছে নতুন সম্ভাবনা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ফ্লিপকার্টের সঙ্গে যুক্ত শান্তিপুরের তাঁত ও জামদানি শাড়ির বিক্রেতা এবং তাঁতির সংখ্যা ছিল ২৫০-র কিছু বেশি। বর্তমানে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৭৭-এ। ২০২৭ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ডিজিটাল বিপণনের হাত ধরে দ্রুত বাড়ছে শান্তিপুরের তাঁতশিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষের অংশগ্রহণ।
বিক্রির পরিসংখ্যানেও উঠে আসছে এই পরিবর্তনের ছবি। ২০২৫ সালে অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে শান্তিপুরের তাঁত, হ্যান্ডলুম ও জামদানি শাড়ির মোট বিক্রি ছিল প্রায় ৭০ কোটি টাকা। ২০২৬ সালে সেই অঙ্ক ১০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করছে সংস্থা। এর মধ্যে সরাসরি তাঁতিদের বিক্রির পরিমাণ ছিল ২০২৫ সালে প্রায় ২৫ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৫০ শতাংশ বেশি। বর্তমানে শান্তিপুরের শাড়ি বিক্রির সঙ্গে যুক্তদের প্রায় ৩০ শতাংশই সরাসরি তাঁতি।
অনলাইন অর্ডার বাড়ায় শুধু তাঁতিরাই নন, উপকৃত হচ্ছেন এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত এলাকার বহু মানুষ। শাড়ি বোনা, নকশা তৈরি, সুতো প্রস্তুত করা থেকে শুরু করে শাড়িতে মাড় দেওয়ার মতো কাজে বাড়ছে কর্মব্যস্ততা। ফলে একটি শিল্পকে ঘিরে স্থানীয় অর্থনীতিতেও তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। অন্যদিকে, দেশের হ্যান্ডলুম শিল্পকে অনলাইন বাজারে তুলে ধরতে অ্যামাজ়ন চালু করেছে ‘উইভসমার্ট’ বিভাগ। ইতিমধ্যেই সেখানে দেশের তিন হাজারেরও বেশি তাঁতি এবং তাঁদের তৈরি ২০ হাজারের বেশি পণ্য যুক্ত হয়েছে।
ই-কমার্স সংস্থাগুলি পণ্যের ছবি তোলা, ক্যাটালগ তৈরি, অর্ডার পরিচালনা এবং সরবরাহের ক্ষেত্রেও সহায়তা করছে। এআই-নির্ভর ক্যাটালগ তৈরির ব্যবস্থায় প্রযুক্তিতে অনভিজ্ঞ শিল্পীদের জন্যও অনলাইন বিপণন সহজ হচ্ছে। ই-কমার্স মার্কেটপ্লেস ও ফ্যাশন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট কপিল থিরানির বক্তব্য, শান্তিপুরের তাঁতঘর ও উৎপাদনকেন্দ্র ঘুরে দক্ষ তাঁতি এবং বিক্রেতাদের চিহ্নিত করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে ধনেখালির তাঁত ও মুর্শিদাবাদের সিল্কের শাড়িকেও অনলাইন বাজারে আরও বেশি করে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে। ঐতিহ্য ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে তাই শান্তিপুরের তাঁতশিল্প এখন বুনছে শতকোটির নতুন স্বপ্ন।

Post Comment