মিউচুয়াল ফান্ডের লোন, পার্সোনাল লোনের থেকেও কম সুদে মিলতে পারে ঋণ, রয়েছে একটা সমস্যাও
কলকাতা: খুব সহজে লোন পাওয়ার একটা উপায় রয়েছে। সেটা হল নিজের মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিময়ে লোন পাওয়া। হঠাৎ প্রয়োজনে নিজের মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট বিক্রি না করে, সেই ফান্ডের বদলেই লোন নেওয়া যায়। এর ফলে এর উপর কোনও ধরনের কোনও কর প্রযোজ্য হয় না। কোনও ধরনের এগজিট লোড, ক্যাপিটাল গেন ট্যাক্স ইত্যাদি দিতে হয় না। মিউচুয়াল ফান্ডের যা ভ্যালু, সেটাই থাকে সব সময়।
যখন কেউ মিউচুয়াল ফান্ডের পরিবর্তে কোনও লোন নেয়, তখন সেই মিউচুয়াল ফান্ড ওই ব্যক্তি বিক্রি করতে পারে না। এ ছাড়াও রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিয়ম অনুযায়ী, একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকাই নেওয়া যায় লোন হিসাবে। সেটাকে বলা হয় LTV বা লোন টু ভ্যালু (Loan-to-Value)।
ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে থাকা টাকার জন্য এই ভ্যালু NAV বা নেট অ্যাসেট ভ্যালুর ৪৫ থেকে ৭৫ শতাংশ। আবার এই একই পরিমাণ টাকা যদি ডেট মিউচুয়াল ফান্ডে থাকে তাহলে আরও একটু বেশি টাকা লোন হিসাবেনেওয়া যেতে পারে। সেটা নেট অ্যাসেট ভ্যালুর ৭৫ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে। তার কারণ ডেট মিউচুয়াল ফান্ডের ভোলটিলিটি অনেক কম। অর্থাৎ এই মিউচুয়াল ফান্ডের ওঠানামা অনেক কম হয়। আর এই লোন পাওয়ার সর্বোচ্চ সীমা হল ১ কোটি টাকা। তার বেশি লোন এই ভাবে পাওয়া যায় না।
এই ধরনের লোনের ক্ষেত্রে সুদের হার অত্যন্ত কম। মাত্র ৯.৫ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে এই লোন পাওয়া যায়। যে সুদের হার পার্সোনাল লোনের থেকেও কম। এ ছাড়াও প্রতি মাসে শুধুমাত্র সুদ দিলেই হয়। আসল সময় মতো ধীরে ধীরে ফেরত দেওয়ার উপায় রয়েছে। এ ছাড়াও মিউচুয়াল ফান্ড থেকে লোন নিলে সেখানে সর্বোচ্চ ২ শতাংশ প্রসেসিং ফি লাগতে পারে। তার বেশি নয়। আর এই লোনের কোনও ফোরক্লোজিং চার্জও নেই।
আরও পড়ুন: কেজি প্রতি কেজির দাম ১ লক্ষ টাকার থেকেও বেশি, দীপাবলিতে নজর কাড়ছে জয়পুরের সোনার মিষ্টি
তবে, এই লোনের ক্ষেত্রে একটা ভয়ের জায়গা রয়েছে। সেটাকে বলা হয় মার্জিন কল। ধরা যাক কোনও ব্যক্তি এইভাবে লোন নিলেন। আর তাঁর লোন নেওয়ার পর থেকেই বাজার হু হু করে পড়তে শুরু করল। একই সঙ্গে তাঁর পোর্টফোলিও পড়তে শুরু করল। এমন অবস্থায় পোর্টফোলিও একটা নির্দিষ্ট মার্জিনের নীচে নামলেই ৭ দিনের মধ্যে হয় ওই ব্যক্তিকে মিউচুয়াল ফান্ডে আরও বিনিয়োগ করে তার ভ্যালু বৃদ্ধি করতে হবে যাতে তা লোনের লিমিটের মধ্যে থাকে আর নাহলে আসল টাকা বেশ কিছুটা মিটিয়ে দিতে হবে যাতে তা মিউচুয়াল ফান্ডের ওই লোনের লিমিটের মধ্যে থাকে। নাহলে যে সংস্থার কাছ থেকে ওই টাকা লোন নিয়েছেন সেই সংস্থা এই মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রি করে দিতে পারে। দিতে তাঁদের ক্ষতি রিকভার করতে পারে।
Post Comment