‘বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলাম…’, শুভেন্দুর সাফল্যের পর অতীতের চ্যালেঞ্জের কথা জানালেন শিশির

‘বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বলেছিলাম…’, শুভেন্দুর সাফল্যের পর অতীতের চ্যালেঞ্জের কথা জানালেন শিশির

কাঁথি : ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনেই নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন। আর এবার ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে আরও একবার তৃণমূলনেত্রীকে হারিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। এর পাশাপাশি এবার নন্দীগ্রাম থেকেও তৃণমূলপ্রার্থী পবিত্র করকে পরাস্ত করেছেন। শুধু তা-ই নয়, রাজ্যজুড়ে বিজেপির গেরুয়া ঝড়ের অন্যতম কাণ্ডারিও শুভেন্দু। দুই কেন্দ্রেই ছেলের জয় নিয়ে খুশি শিশির অধিকারী। 

কী বললেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক শিশির অধিকারী ?

তিনি বললেন, “২১-এই হেরেছিলেন। তৎকালীন যন্ত্রকে বিগড়ে দিয়ে তিনি ফিরে এসেছিলেন। তা নাহলে ২০২১-এ অনেক বেশি সিট পেত বিজেপি। চুরিটা সেই সময় থেকে ছিল পরিষ্কারভাবে। এবারে চুরি করতে পারেননি। আমি পরিষ্কার বুঝতে পেরেছি, মানুষ ওঁর সঙ্গে নেই। মানুষ শুভেন্দুর সঙ্গে চলে গেছে।” এরপরই তিনি বাম-আমল ও বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রসঙ্গ নিজের মতামত জানানোর পাশাপাশি নিশানা শানালেন তৃণমূল নেত্রীর বিরুদ্ধেও। শিশির অধিকারী বলেন, “৮২ পর্যন্ত বামফ্রন্ট ঠিকই ছিল। ৮২-র পরে চলন-বলন অঙ্ক-কষা সব ভুল। এই ভুল হচ্ছে…যতটা শুভেন্দু দেখত, ততটা পর্যন্ত ঠিক। শুভেন্দুকে তাড়ানোর ষজ্ঞটা যেদিন শুরু হয়েছে, সেদিন কাটিং শুরু হয়েছে। পরিবর্তন প্রকৃত এনেছিল নন্দীগ্রাম। কারণ, বুদ্ধদেববাবুর হাতের বাইরে চলে গিয়েছিল প্রশাসন। তর্কের খাতিরে যে-ই যা বুঝুক, আমি বুঝতাম বুদ্ধদেববাবু বেঁচে থাকলে আজ নিজে বলতেন। উনি তো ভদ্রলোক। অস্বীকার করতে পারবে না কেউ। আমাদের সঙ্গে সম্পর্ক যথেষ্ট ভাল ছিল। খারাপ ছিল না। রাজনৈতিক লড়াই আমরা করেছি। একেবারে নেক টু নেক। কিন্তু, কখনো কোনও খারাপ কাজ দেখিনি আমরা। কিন্তু, উনি বুঝেছিলেন, নন্দীগ্রামে যেদিন হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে…সেদিন উনি বুঝেছিলেন যে আমি আর নেই। উনি আর থাকতে পারবেন না।”

নিজেদের কেন্দ্রেই ধরাশায়ী দুই মুখ্যমন্ত্রী, জিতেও ক্ষমতাচ্যুত অপরজন; নেপথ্যে এই ফ্যাক্টরগুলি ?

তাঁর সংযোজন, “আমি তো বিধানসভা দাঁড়িয়ে বলেছিলাম…বেরিয়ে যাচ্ছি, দরজার মুখে…যে, তোমাকে পরাজিত করার পরে…নন্দীগ্রামে হারাব, তারপরে আসব। গল্প ছাড়লেন কী সূর্যোদয় হয়ে গেছে, অমুক হয়ে গেছে, তমুক হয়ে গেছে। কিন্তু, তার আগে আমি জানি মানুষ চলে গেছে।” 

      

বিধানসভা ভোটে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয় জয়কার। মুখ থুবড়ে পড়েছে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের যাবতীয় ভবিষ্য়দ্বাণী। তা মেলে তো নি, বরং বাস্তবে হয়েছে একেবারে উল্টোটা। বিজেপি এবার দু’শো পার করে ফেলেছে। আর তৃণমূল একশোও ছুঁতে পারেনি। এর পাশাপাশি নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরেই শুভেন্দুর কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে তাঁকে।

Previous post

Maize Farming Tips: আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় মহাবিপদে ভুট্টা চাষ! দেরি না করে এখনই করুন এইসব কাজ, রক্ষা পাবে ফসল

Next post

ভোটে হারার পরই ভারতীয় ক্রিকেটে বড় দায়িত্ব পেলেন বাংলার ক্রিকেটার, চিঠি ভিভিএস লক্ষ্মণের

Post Comment

You May Have Missed